
আউট হয়ে ফিরছেন সাকিব। ছবি: সংগৃহীত
হারানোর কিছু ছিলো না। ছিলো না প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে কোনো ভয়ও। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় সিরিজ জয়ের মিশন নিয়েই মাঠে নেমেছিলো বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। কিন্তু শেষটা এমন বিবর্ণ হবে কে জানতো! দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া এক হারে লঙ্কানদের বিপক্ষে ওয়ানডে মিশন শেষ করলো মাশরাফিবাহিনী।
সিরিজ খোয়াতে হয়নি। ১-১ সমতায় শেষ হয়েছে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। কিন্তু লঙ্কানদের কাছে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডের ৭০ রানের এই হার রাজ্যের হতাশাই উপহার দিয়েছে বাংলাদেশ দলকে। সামনে ছিলো শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো কোনো সিরিজ জয়ের হাতছানি। কিন্তু করুণ এক হারে সেটা শেষ করতে হলো টেস্টে সিরিজের মতেই ড্র দিয়ে।
শনিবার কলম্বোর সিংহলিস স্পোর্টস ক্লাব গ্রাউন্ডে হলো না ইতিহাস গড়াও। এই ম্যাচটি জিততে পারলে শ্রীলঙ্কার ৩১ বছরের রাজত্বে অবসান ঘটতো। ১৯৮৬ সালের পর প্রথমবারের মতো ঘরের মাঠের কোনো ওয়ানডে সিরিজে জয়হীন থাকতো লঙ্কানরা। বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতার বদৌলতে আরো একবার ঘরের মাঠে নিজেদের রেকর্ড সমৃদ্ধ করলো লঙ্কানরা।
সিরিজ জয়ের স্বপ্নে বিভোর বাংলাদেশ এদিন ব্যাট হাতে উল্টো পথেই হেঁটেছে। সামান্য লড়াইটুকুও করতে পারেনি মাশরাফিবাহিনী। শ্রীলঙ্কার বোলিংয়ের সামনে অসহায় আত্মসমর্ণই করেছেন নিজেদের শততম টেস্টের পর প্রথম ওয়ানডেতেও ৯০ রানের দারুণ জয় তুলে নেয়া বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। শ্রীলঙ্কার করা ২৮০ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ২১০ রানেই ইনিংস শেষ বাংলাদেশের।
২৮১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দুঃস্বপ্নের শুরু হয় বাংলাদেশের। দলীয় চার রানেই সাজঘরে ওপেনার তামিম ইকবাল। ওপেনারকে হারানোর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই লঙ্কান পেসার নুয়ান কুলাসেকারার আরেকটি আঘাত। তামিমকে কট অ্যান্ড বোল্ডে পরিণত করা কুলাসাকেরা ফিরিয়ে দেন সাব্বির রহমানকেও।
১০ রানেই নেই দুই উইকেট। কুলাসেকারার দুই উইকেট নেয়ার দৃশ্য দেখে সুরঙ্গ লাকমলও জ্বলে উঠলেন। ডানহাতি এই পেসার ফিরিয়ে দিলেন মুশফিকুর রহিমকে। ১১ রানেই তিন উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তখন মাঝ দরিয়ায়। এমন সময় আলোক বর্তিকা হাতে হাজির হন সাকিব আল হাসান। সৌম্য সরকারকে সাথে নিয়ে লড়াই চালাতে থাকেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।
এই দুই ব্যাটসম্যানের ব্যাটে রানের চাকাও ঘুরছিলো দ্রুত। ১৫.১ ওভারেই বাংলাদেশকে ৮৮ রানে পৌঁছে দেন সৌম্য-সাকিব। কিন্তু এসময় বিদায় নেন ৩৮ রান করা সৌম্য। এখান থেকেই বিবর্ণ হতে শুরু করে বাংলাদেশের সিরিজ জয়ের স্বপ্ন। এর কিছুক্ষণ পর মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও সর্বোচ্চ ৫৪ রান করা সাকিব বিদায় নিলে বাংলাদেশের হার সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।
মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও উইকেটে তিথু হতে পারেননি। সাত রান করেই বিদায় নেন তিনি। মেহেদী হাসান মিরাজকে সাথে নিয়ে লড়তে চাইলেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। কিন্তু ১৬ রান করেই বিদায় নিতে হয় মাশরাফিকে। এরপর বাকিটা তাসকিন আহমেদকে সাথে নিয়ে একাই লড়াই চালিয়েছেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেয়া মিরাজ। কিন্তু তার ৫১ রান কেবল হারের ব্যবধানই কমিয়েছে।
এরআগে টস জিতে ব্যাট হাতে দাপুটে শুরুই করেন শ্রীলঙ্কার দুই ওপেনার দানুশকা গুনাথিলাকা ও উপুল থারাঙ্গা। শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকেন এই দুই ব্যাটসম্যান। দলকে দারুণ সূচনাও এনে দেন তারা। উদ্বোধনী জুটিতে ৭৬ রান যোগ করেন গুনাথিলাকা-থারাঙ্গা।
এসময় ৩৪ রান করা গুনাথিলাকাকে নিজের শিকারে পরিণত করেন বাংলাদেশের তরুণ পেসার মেহেদী হাসান মিরাজ। কিছুক্ষণ পর তাসকিন আহমেদ ফিরিয়ে দেন ৩৫ রান করা শ্রীলঙ্কার ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক উপুল থারাঙ্গাকে। খুব একটা বিপদে পড়তে হয়নি স্বাগতিকদের। এখান থেকে দলের হাল ধরেন পরিত্যক্ত হওয়া ম্যাচে সেঞ্চুরি করা কুশল মেন্ডিস।
তাকে সঙ্গ দিতে থাকেন দিনেশ চান্দিমাল। তবে এদিন বেশি সময় উইকেটে থাকতে পারেননি চান্দিমাল। ২১ রান করে অদ্ভূত এক রান আউটের শিকার হয়ে থামতে হয় তাকে। মিলিন্দা সিরিবর্ধনেও টিকতে পারেননি। ১২ রান করে থামেন তিনি। তবে আসেলা গুনারত্নেকে নিয়ে আরো কিছুটা পথ পাড়ি দেন কুশল মেন্ডিস।
এর মাঝে মেন্ডিস তুলে নেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের নবম হাফ সেঞ্চুরি। ৫৪ রান করা মেন্ডিজকে ফেরান মুস্তাফিজুর রহমান। গুনারত্নের ব্যাট থেকে আসে ৩৪ রান। তবে শেষটা রাঙিয়েছেন থিসারা পেরেরা। পেরেরার ঝড়ের মুখেই পড়তে হয় বাংলাদেশের বোলারদের। ৩৭ বলেই তুলে নেন হাফ সেঞ্চুরি। শেষপর্যন্ত ৪০ বলে চার ও এক ছয়ে ৫২ রা করেন লঙ্কান অলরাউন্ডার। বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া মুস্তাফিজ দুটি এবং মিরাজ ও তাসকিন একটি করে উইকেট নেন।
সূত্র:priyo.com,ডেস্ক।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.