মুকুল কান্তি দাশ, চকরিয়া:
উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে সরকার। এরপরও কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়ার বিদ্যুৎ গ্রাহকদের বিড়ম্বনার অন্ত নেই। পিডিবি ও পল্লী বিদ্যুতের ৪৫ হাজার গ্রাহক এক তৃতীয়াংশ সময়েও বিদ্যুৎ না পাওয়ায় চরম নাখোশ। লাইনে ত্রুটি-বিচ্যুতির কারণে বিদ্যুতের চাহিদা পুরণ করা যাচ্ছে না বলে স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিস জানায়।
নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, চকরিয়ায় পিডিবি’র গ্রাহক রয়েছে ১৫ হাজার। এই গ্রাহকরা ২৪ ঘন্টার মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ সময় বিদ্যুৎ পেলেও প্রায় ৮ ঘন্টা বিদ্যুৎ থেকে বঞ্চিত হয়। আবার কোন কোন সময় ৫-৬ ঘন্টাও বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না। এছাড়া দোহাজারী লাইন বন্ধ থাকলে কক্সবাজার লাইন থেকে বিদ্যুৎ নিয়ে বিতরণের সময় লো-ভোল্টোজের কারণে গ্রাহকদের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নষ্ট হচ্ছে।
পিডিবি’র চকরিয়া অফিসের আবাসিক প্রকৌশলী জসীম উদ্দিন খাঁন বলেন, সরকার পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ দিচ্ছে। কিন্তু চকরিয়া পৌর শহরের কোচপাড়াস্থ সাব-সেন্টারটি ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন হওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী সাড়ে ৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নেয়া সম্ভব হয় না। তাই দেড় মেগাওয়াট ঘাটতি থাকায় পিক আওয়ারে বিদ্যুৎ বিতরণে লোডশেডিং করতে হয়।
লো-ভোল্টেজ থেকে গ্রাহকদের ভোগান্তি দুর করতে উদ্দ্যোগ নেয়া হয়েছে। আগামী জুনের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান হবে।
অন্যদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি চকরিয়া জোনাল অফিসের তত্ত্বাবধানে চকরিয়া ও পেকুয়ায় গ্রাহক রয়েছে ৩০ হাজার ৯’শ জন। তন্মধ্যে পেকুয়ায় ১০ হাজার ৫’শ ও চকরিয়ায় ২০ হাজার ৪’শ জন। এই বিপুল গ্রাহক বিদ্যুৎ সমস্যায় অতিষ্ট। এসব গ্রাহকরা ২৪ ঘন্টার মধ্যে ৬ ঘন্টাও বিদ্যুৎ পায় না। আবার যখন তখন লাইন বিচ্ছিন্নসহ নানা ত্রুটি দেখা দেয়ায় টানা বিদ্যুৎ থেকেও বঞ্চিত হয় গ্রাহকরা।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন খাঁন বলেন, সরকারী বরাদ্দ পর্যাপ্ত রয়েছে। কিন্তু কক্সবাজার থেকে চকরিয়ায় আনা ৩৩ কেভির লাইনটি পুরনো ও দূর্বল হওয়ায় প্রায়শই ত্রুটি দেখা দেয়। এই লাইনে ১৪ মেগাওয়াটের বেশী বিদ্যুৎ দেয়া যায় না। অথচ লাইনটির অধীনে ৪টি জোনাল অফিসে প্রয়োজন হয় ২২মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।
চকরিয়া ও পেকুয়ায় ১১ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হলেও লাইনগত ত্রুটির কারণে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ নিতে না পারায় পিক আওয়ারে ২-৩ মেগাওয়াটের বেশী বিদ্যুৎ ধারণ করা যায় না। তাই ওই সময় দু’উপজেলার ৬টি লাইনে রাউন্ডিং লোডশেডিং এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিতরণ করতে গিয়ে গ্রাহকরা ভোগান্তি সম্মখিন হয়। তিনি আরো বলেন, ৩৩ কেভির লাইনটি পিডিবি’র তত্ত্বাবধানে থাকায় পল্লী বিদ্যুতের কিছুই করার নেই। তবে প্রয়োজনীয় উদ্দ্যোগ নিতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। ছাড়াও পল্লী বিদ্যুতের গ্রামীণ লাইনগুলোর নিন্ম মানের হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুরু থেকে যে তার লাগানো হয়েছে ওই নিন্মমানের তার বদলানোসহ অন্যান্য ত্রুটি-বিচ্যুতি সারিয়ে তুলতে ইতোমধ্যে উদ্দ্যোগ নেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়ন হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কাকারার এসএমচরের বেশ ক’জন গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, লোডশেডিংয়ের বাইরেও নিম্নমানের তার বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া বা ছিড়ে যাওয়া এবং লোড ক্যাপাসিটির অতিরিক্তি ট্রান্সফরমার থেকে মিটার দেয়ায় গ্রাহকদের ভোগান্তি বেড়েছে।
এ ব্যাপারে ডিজিএম বলেন, আমাদের ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়েছে ঠিকই, কিন্তু গ্রাহকদের অনেকেই চুক্তি ভঙ্গ করে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করায় সংশ্লিষ্ট লাইনে ত্রুটি দেখা দেয়। তবে সব সমস্যা সমাধান করতে প্রয়োজনীয় উদ্দ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"



You must be logged in to post a comment.