সাম্প্রতিক....
Home / প্রচ্ছদ / ক্রীড়া / ধুঁকে ধুঁকে হারল বাংলাদেশ

ধুঁকে ধুঁকে হারল বাংলাদেশ

মাত্র ৯০ রানেই গুটিয়ে গেল বাংলাদেশ।

৪২৪ রানের ‘অসম্ভব’ লক্ষ্য নিয়েই চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। সমর্থকদের আশা ছিল কিছুটা হলেও প্রতিরোধ গড়বে মুশফিকুর রহিমের দল। কেউ কেউ সাহস করে ড্রয়ের আশাও করছিলেন। কিন্তু খেলা মাঠে গড়াতেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। আগের দিনের সঙ্গে মাত্র ৪১ রান যোগ করতেই গুটিয়ে গেল বাংলাদেশ। ফলাফল, ৩৩৩ রানের বিশাল ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ। দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে ৩৩৩ রানে জিতে নিয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ফাফ ডু প্লেসির দল।

তিন উইকেটে ৪৯ রান নিয়ে পঞ্চম দিন শুরু করে বাংলাদেশ। আগের দিন ব্যক্তিগত পাঁচ রানেই ফিরে যেতে পারতেন মুশফিকুর রহিম। দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার মরনে মরকেলের বলে ভেঙে যায় মুশফিকের স্টাম্প। কিন্তু নো বল হওয়ায় সে যাত্রায় রক্ষা পান তিনি। দিন শেষ করেছিলেন ১৬ রানে অপরাজিত থেকে। সমর্থকদের প্রত্যাশা ছিল, শেষ দিনের কঠিন পরীক্ষায় সামনে থেকেই নেতৃত্বে দেবেন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক। কিন্তু তিনিই আত্মসমর্পণ করেন সবার আগে।

পেসার কাগিসো রাবাদার করা দিনের প্রথম ওভারের চতুর্থ বল মুশফিকের ব্যাটের কানায় লেগে চলে যায় স্লিপে। সেখানে মাথার ওপর থেকে দারুণ এক রিফ্লেক্সে ক্যাচটি লুফে নিলেন হাশিম আমলা। স্কোরবোর্ডে এদিন কোনও রান যোগ না করেই সাজঘরে ফেরেন তিনি। এক ওভার পর ফিরে যান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও। রাবাদার দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে তার স্টাম্প উড়ে যায়। আউট হওয়ার আগে তিনি করেন নয় রান।

দলীয় ৬৭ রানের মাথায় রাবাদার তৃতীয় শিকারে পরিণত হন লিটন। পরের ওভারে কেশব মহারাজের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন সাব্বির রহমান। লিটন-সাব্বির দু’জনই ফেরেন চার রানে। একশ’র নিচেই অলআউট হওয়ার শঙ্কায় পড়ে বাংলাদেশ। এই শঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে তোলেন বাঁ-হাতি স্পিনার কেশব মহারাজ। সাব্বিরের পর তাসকিন আহমেদকেও এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে ফিরিয়ে দেন। যদিও রিভিউ নিয়েছিলেন তাসকিন, কিন্তু বাঁচতে পারেননি।

টপ অর্ডারের পাশাপাশি এদিন উইকেটে পড়ে থাকার মানসিকতা দেখা যায়নি লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদেরও। এমনিতেই উইকেট যাওয়ার মিছিল, তার মাঝেই উপহার হিসেবে বাংলাদেশ পায় রান আউট। অযথা দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে রান আউটের শিকার হন শফিউল ইসলাম। এরপও ১১ বল খেলে এক রান করে মহারাজের তৃতীয় শিকারে পরিণত হন মুস্তাফিজুর রহমান। ব্যাটিং বিপর্যয়ের মাঝে একাই প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। কিন্তু ৩২ বলে ১৫ রান করে অপরাজিত থেকেই মাঠ ছাড়তে হয় তাকে।

এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে ডিন এলগারের ১৯৯, হাশিম আমলার ১৩৭ ও এইডেন মার্করামের ৯৭ রানে ভর করে ৪৯৬ রানে নিজেদের প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাবে মুমিনুল হক ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্যাটে ৩২০ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় বাংলাদেশ। ১৭৬ রানে এগিয়ে থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে আরও ২৪৭ রান যোগ করে।ফলে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪২৪ রানের।

বড় লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে ইনিংসের প্রথম ওভারেই সাজঘরে ফেরেন তামিম ইকবাল ও মুমিনুল হক। দলীয় ৪৯ রানে ফিরে যান ইমরুল কায়েসও। এরপর বৃষ্টি বাধায় বন্ধ হয়ে যায় চতুর্থ দিনের খেলা। পঞ্চম ও শেষ দিনের লড়াইয়ে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৩৭৫ রান। হাতে ছিল সাত উইকেট। কিন্তু দিনের প্রথম সেশনেই গুটিয়ে গেল বাংলাদেশ। আগের দিনের তিন উইকেটে ৪৯ রানের সঙ্গে এদিন আর মাত্র ৪১ রান যোগ করতেই অলআউট হয়ে গেল বাংলাদেশ। হারের সঙ্গে দ্বিতীয় ইনিংসে অল্প রানে গুটিয়ে যাওয়ার লজ্জাও সঙ্গী হল মুশফিকুর রহিমদের।

 

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম ইনিংস: ১৪৬ ওভারে ৪৯৬/৩, ডিক্লে.

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৮৯.১ ওভারে ৩২০/১০

দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বিতীয় ইনিংস: ৫৬ ওভারে ২৪৭/৬, ডিক্লে.

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ৩২.৪ ওভারে ৯০/১০

ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৩৩৩ রানে জয়ী (লিড ১-০)

 

 

 

সূত্র:সৌরভ মাহমুদ/priyo.com;ডেস্ক।

Share

Leave a Reply

x

Check Also

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত

—V প্রেস বিজ্ঞপ্তি :কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসের ...

Portrait of a professional, showcasing contact details and role information.