আর ক’টা দিন পার হলেই মহান বিজয় দিবস তথা ১৬ ডিসেম্বর পালন করবে বাঙালী জাতি। এমনকি দীর্ঘদিন পর ঈদগাঁওবাসীর প্রত্যাশিত স্বপ্ন একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করা। সে শহীদ মিনারের নির্মাণ কাজ শেষ বললেই চলে। এ নিয়ে এলাকার তরুণ প্রজন্ম, শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মাঝে আশার আলো দেখা দিয়েছে। এছাড়া মহান বিজয় দিবসের দিন নবনির্মিত ঈদগাঁও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি উদ্বোধনের প্রহর গুনছে বলে সূত্রে প্রকাশ।
জানা যায়, ঈদগাঁও বাজারের কেন্দ্রীয় কালি মন্দির এবং খাদ্য গুদামের পার্শ্ববর্তী স্থানে জেলা পরিষদের অর্থায়নে পাবলিক লাইব্রেরী ও শহীদ মিনার স্থাপিত হয়েছে ৩৫ লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে। তন্মধ্যে পাবলিক লাইব্রেরী ২০ লক্ষাধিক টাকা আর শহীদ মিনার ১৫ লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় বলে জানা যায়। বর্তমানে বৃহত্তর ঈদগাঁওর অন্যতম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটির কাজ প্রায় সম্পন্ন। এখন শুধু বাকী রঙের কাজ।
শহীদ মিনারের নিচে কালো টাইলস বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। ৫ ডিসেম্বর সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ঘুরে এমন চিত্র চোখে পড়ে। এ শহীদ মিনারটি নির্মাণের ফলে ঈদগাঁওয়ের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অনায়াসে নানা জাতীয় দিবস পালন করতে পারবে। আসন্ন ১৬ ডিসেম্বর বাঙালী জাতির মহান বিজয় দিবসের দিন উদ্বোধনের চিন্তা-ভাবনা মাথায় রেখে এ শহীদ মিনার নির্মাণ কাজ শেষের দিকে।
এ ব্যাপারে ঈদগাঁও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও পাবলিক লাইব্রেরীর সাধারণ সম্পাদক মাষ্টার নুরুল আজিমের সাথে এ প্রতিনিধির মুঠোফোনে কথা হলে তিনি- জেলা পরিষদের অর্থায়নে শহীদ মিনার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন বললেই চলে। এখন শুধু ১৬ ডিসেম্বরের দিন উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানান।
উল্লেখ্য যে, দীর্ঘ বছর ধরে ময়লা-আবর্জনায় ভরপুর থাকা শহীদ মিনার ও পাবলিক লাইব্রেরী আলোর মুখ দেখেছে। এ নিয়ে বৃহত্তর এলাকার সচেতন লোকজনের মাঝে আশার আলো দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে পাবলিক লাইব্রেরী নির্মাণের ফলে বহুমূখী প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বই মানুষের জ্ঞানের প্রতীক, বই মানুষকে জ্ঞানের জগতের আলোকে আলোকিত করে। কিন্তু এই বই যখন হয় দুস্প্রাপ্য। তখন জ্ঞান চর্চার অভাবে মানুষ জ্ঞানের পরিবর্তে অন্ধকার পথে ধাবিত হয়। এই অন্ধকার পথে যাত্রীরা নানা অপরাধ কর্মকান্ডের পথে পা বাড়িয়ে সুন্দর সমাজকে কলুষিত করে তুলছে। এই আঁধার পথে যাত্রীদেরকে সুন্দর আলোর পথে এনে সভ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তুলে সৎ পথের যাত্রী করতে পারে ভালমানের পুস্তক। শুধু তাই নয় শিক্ষিত মানুষের জ্ঞানকে আরও প্রসারিত করার জন্য চাই বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, আন্তর্জাতিক ও অর্থনীতি বিষয়ের উপর নানা পুস্তকাদি অত্র পাবলিক লাইব্রেরীতে মজুদ করে রাখার আহবান। সে সাথে একটি জাতীয় সম্পদ শহীদ মিনার, অপরটি জ্ঞান অন্বেষণের আলোকময় স্থান পাবলিক লাইব্রেরী বলে জানান সচেতন মহল। এই দুই সম্পদকে আরো সৌন্দর্য্য বাড়িয়ে দেওয়ার স্বার্থে প্রবেশপথে লাকড়ির স্তুপ সরানোর আহবান জানান অনেকে। অপরদিকে শহীদ মিনার ও পাবলিক লাইব্রেরী নির্মাণ করায় জেলা প্রশাসককে অভিনন্দন জানান জেলা লেখক সোসাইটির সাবেক সভাপতি।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"



You must be logged in to post a comment.