
গিয়াস উদ্দিন ভুলু; টেকনাফ :
টেকনাফ নাফ নদীর মাছ খেতে খুবেই মজা। কিন্তু সেই মজার মাছ এখন আর পাওয়া যায় না বাজারে। কারণ এই নদীতে দীর্ঘ ৫ মাস ধরে মাছ শিকার বন্ধ রেখেছে স্থানীয় প্রশাসন।
তথ্য সুত্রে জানা যায়, এই নদী পথ ব্যাবহার করে ইয়াবা ও মানব কারবারের সাথে জড়িত সীমান্ত এলাকার এক শ্রেনীর অসাধু চক্র দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে মরণ নেশা ইয়াবা পাচার ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বাণিজ্য করে আসছিল। সীমান্ত এলাকায় দায়িত্বরত সদস্যরা সেই মাদক পাচার ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে দিনের পর দিন শত চেষ্টা করেও এই পথ দিয়ে মাদক পাচার অব্যাহত থাকে এবং এই মাদক পাচারের সাথে সক্রিয় ভাবে জড়িত রোহিঙ্গারা।
এদিকে মাদক পাচার ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সরকার কঠোর প্রদক্ষেপ হাতে নেয়।
সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসাবে নাফ নদী জুড়ে সমস্ত জেলেদের মাছ শিকার বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেই সূত্রে ধরে দীর্ঘ ৫ মাস যাবত অত্র এলাকার সাধারন জেলেরা পড়ে যায় বিপাকে। কারন তারা এই নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে আরো জানা যায়, এত বড় কঠোর ভূমিকা নেওয়ার পরও এই নদী পথ দিয়ে ইয়াবা পাচার এখনো অব্যাহত আছে। অথচ এই সমস্ত অপরাধ কর্মকান্ডের কারনে অসহায় জেলেরা নদীতে মাছ ধরতে পারছে না! এতে জেলেরা তাদের পরিবার নিয়ে পড়েছে বিপাকে।
নাফ নদীর উপকূলীয় এলাকার মধ্যে ৭ হাজার ৮৮৩ জন নিবন্ধিত মৎস্যজীবি জেলে পরিবার রয়েছে।
উল্লেখ্যঃ-বিদায়ী বছর ২০১৭ সালের ২৫ আগষ্ট মিয়ানমারে রাখাইন রাজ্যের মগ ও সেনা কর্তৃক সন্ত্রাস দমনের নামে নির্বিচারে রোহিঙ্গাদের উপর দমন নিপীড়ন ও লাগাতার নির্যাতন শুরু হলে স্থানীয় অর্থলোভী দালালদের মাধ্যমে দলে দলে অনুপ্রবেশ করে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নর-নারী। তার পাশাপাশি বৃদ্ধি পায় মরন নেশা ইয়াবা পাচার। সেই সূত্র ধরে নদীতে জেলেদের মাছ শিকার বন্ধ করা হয়।
অপরদিকে নাফ নদী উপকূলীয় এলাকার জেলেরা নদীতে পুনরায় মাছ শিকার করার জন্য তাদের সামাজিক শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কোন সফলতা পাচ্ছে না জেলেরা। এই বিষয় নিয়ে টেকনাফ উপজেলা মাসিক আইন শৃংখলা কমিটির সভায় অনেক বার আলোচনা হয়। এর পরও কোন সুরাহা হয়নি। আইন শৃংখলা কমিটির সভায় বক্তারা বলেন, নাফ নদী এলাকার কয়েকজন ইয়াবা ব্যবসায়ী ও অসাধু রোহিঙ্গাদের অপকর্মের জন্য শত শত মৎস্যজীবি জেলেরা নাফ নদীতে মাছ শিকার করতে পারবে না। এটা কি করে হয়।
সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসাবে ৩০ জানুয়ারী (মঙ্গলবার) সকাল ১১টায় হোয়াইক্যং, হ্নীলা, সাবরাং, শাহপরীরদ্বীপ, টেকনাফ পৌরসভা, নাইট্যংপাড়া, চৌধুরীপাড়া, উত্তর জালিয়া পাড়া, শত শত জেলে নাফ নদীতে মাছ ধরা নিষিদ্ধের প্রতিবাদে টেকনাফ উপজেলা পরিষদ চত্তরে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্টিত হয়।
এরপর জেলেরা টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট একটি স্মারকলিপি পেশ করেন।
এ সময় জেলেদের সাথে উপস্থিত ছিলেন, টেকনাফ পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলার হাজী মুজিবুর রহমান, কাউন্সিলার মনিরুজ্জামান, কাউন্সিলার শাহ আলম মিয়া, কাউন্সিলার নাজমা আলমসহ অত্র এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। স্মারকলিপিতে জেলেদের পক্ষে স্বাক্ষরিত মনির আলম, আব্দুর রহীম, মোঃ ইব্রাহীম, রুহুল আমিন ও আবুল হাশিম উল্লেখ করেন, দশ হাজার অধিক জেলেদের জীবন জীবিকা রক্ষার্থে নাফ নদীতে মাছ আহরণ করে আসছে। ০৫ মাস ধরে নাফ নদীতে মাছ আহরন বন্ধ থাকায় জেলে পরিবারের মানবেতর জীবন করছে। সুতরাং তাদের জীবন জীবিকা রক্ষার্থে সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোরালো আহবান জানানো হয়।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.