আসন্ন ২২ মার্চ ইউপি নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই প্রার্থীদের প্রচার প্রচারনা বেড়ে যাচ্ছে। প্রার্থীরা তাদের নিজের ঘুম হারাম করে ভোটারদের ঘরে ঘরে ভোট ভিক্ষার জন্য প্রতিযোগিতায় নেমেছে। প্রচারণার সময় প্রার্থী আর সমর্থকরা একে অপরের সমালোচনা করতে গিয়ে কাদা ছুটা-ছুটিরমত তুচ্ছ ঘটনাও ঘটাচ্ছে। এসব ঘটনায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী থানা পুলিশের নিকট অভিযোগ দিয়েছে বেশ কয়েক জন প্রার্থী। বিশেষ করে উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের আ’লীগের দলীয় মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম সম্পাদক মোঃ ইয়াহিয়া খান কুতুবী (নৌকা প্রতীক) আর আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আ’লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক বর্তমান চেয়ারম্যান সিরাজদ্দৌল্লাহ স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আনারস প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রচার প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছে।
চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ ইয়াহিয়া খান আর সিরাজদ্দৌল্লাহ দু’জনই একই দলের হওয়ায় সমর্থকদের মাঝে সংঘর্ষ লেগেই আছে। আবার ওইই দুই প্রার্থী ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। আগামী ২২ মার্চ কুতুবদিয়া উপজেলার ৬ ইউনিয়নে ইউপির নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রশাসন সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলে নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে।
এবারে উত্তর ধুরুং ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছে ৫জন। তৎমধ্যে আ’লীগ প্রার্থী মুজিবসেনা ঐক্যলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা মোঃ ইয়াহিয়া খাঁন (নৌকা প্রতীক), বিএনপির প্রার্থী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলহাজ নেজাম উদ্দিন (ধানের শীষ প্রতিক), স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী এবং কুতুবদিয়া বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি আ.স.ম শাহরিয়ার চৌধুরী (মোটরসাইকেল প্রতিক), তার ছোট ভাই স্বতন্ত্র প্রার্থী জামায়াত নেতা আজিজ মোঃ শাহ নিজাম চৌধুরী (চশমা প্রতিক), স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা আ’লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগের বিদ্রোহীপ্রার্থী সিরাজদ্দৌল্লাহ (আনারস প্রতিক)।
চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে ত্রিমুখী নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা মাঠে দেখা যাচ্ছে। এরমধ্যে জনমত জরীপে দেখা যাচ্ছে, সাবেক চেয়ারম্যান আ.ন.ম শাহরিয়ার চৌধুরী, উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা, স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান সিরাজদ্দৌল্লাহ ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা, আ’লীগের প্রার্থী মোঃ ইয়াহিয়া খান ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা, কিন্তুু বিএনপির প্রার্থী আলহাজ নেজাম উদ্দিন ৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। বর্তমান চেয়ারম্যান সিরাজদ্দৌল্লাহ আর আ’লীগ প্রার্থী মোঃ ইয়াহিয়া খান একই (৪নং ওয়ার্ডের) ওয়ার্ডের বাসিন্দা। বিএনপির প্রার্থী আলহাজ নেজাম উদ্দিন ৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা হলেও ৪ নং ওয়ার্ড আর ৯ নং ওয়ার্ড কাছাকাছি। আ’লীগ, বিএনপি, স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর বাড়ি নিকটবর্তী হওয়ায় ঐ এলাকার ভোটাররা চরম বেকায়দায়।
এদিকে ১, ২, ৩, ৭ ও ৮ নং ওয়ার্ড নিয়ে সাবেক চেয়ারম্যান আ.স.ম শাহরিয়ার চৌধুরী চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ায় ঐ ওয়ার্ডগুলোর ভোটাররা আঞ্চলিকতার টানে তার পক্ষে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ভোটাররা যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে জনমত জরিপ চালাচ্ছে। আবার দলীয় প্রতিকী নির্বাচনে প্রচারণা চালাতে গিয়ে বিএনপির প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নারী ভোটারদের নিকট আলহাজ নেজাম উদ্দিনও পিছিয়ে নেই। জামায়াত, বিএনপির দূর্গ হিসেবে খ্যাত উত্তর ধুরুং ইউনিয়নে ২০দলীয় জোটের মধ্যে সাপে-বেজির ভোট যুদ্ধ। আ’লীগের মনোনীত প্রার্থী দলীয় প্রতীক নৌকা নিয়ে নির্বাচনে মোঃ ইয়াহিয়া খান নতুন প্রার্থী হিসেবে এলাকার উন্নয়ন আর বেড়িবাঁধ মেরামত করতে পারবে এ আশায় মা-বোনদের নিকট ভদ্র প্রার্থী বলে নারী ভোটরদের মন জয় করে যাচ্ছে।
আবার আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান সিরাজদ্দৌল্লাহ গত ইউপির নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে প্রায় আড়াই হাজার ভোট বেশী পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। গত নির্বাচনের ভোটের আশায় সে এ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না পেলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে যাচ্ছেন।
এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান আ.স.ম শাহরিয়ার চৌধুরী গেল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতের মনোনীত চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে করে অল্প ভোটে পরাজিত হন। সে সময় থেকেই ঐ এলাকার ভোটারের সাথে সু-সম্পর্ক ধরে রাখেন। ভোটাররা এ সুবাধে অঞ্চল ভিত্তিক পছন্দনীয় প্রার্থীকে জয়ী করার জন্য মরিয়া হয়ে তার পক্ষে নির্বাচন করে যাচ্ছেন।
১১ মার্চ শুক্রবার বিকালে সরেজমিনে ধুরুংঘাট এলাকার গেলে ভোটার মোঃ আলম (৪৫) সাথে কথা হলে তিনি জানান, উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের বর্তমান মূল সমস্য বেড়িবাঁধ, এ এলাকায় বেড়িবাঁধ না থাকায় অমাবশ্যা ও পূর্ণিমার সময় জোয়ারের পানি লোকালয়ে চলে আসে। এ সমস্যা যে দ্রুত সময়ে সমাধান করতে পারবে তাকেই ভোট দেয়া হবে। এ সময় উপস্থিত ভোটার মোরশেদ ও কামাল উদ্দিন জানান, বিগত দুই বছর আগে উত্তর ধূরুং এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গেলেও এ এলাকার মানুষের জানমাল রক্ষার জন্য কেউ এগিয়ে আসেনি। সাধারণ মানুষ নিজেদের উদ্যোগে গেল বর্ষায় বেড়িবাঁধে মাটি দিয়ে জোয়ারের পানি ঠেকায়। বেড়িবাঁধের অভাব পূরণ করতে চায় এলাকাবাসী।
আ’লীগের মনোনীতপ্রার্থী ইয়াহিয়া খান এলাকায় প্রচার করে যাচ্ছে নির্বাচিত হলে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ খাত থেকে বরাদ্দ নিয়ে উত্তর ধুরুং এলাকায় বর্ষা মৌসুমের আগে বেড়িবাঁধ মেরামত করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে ভোটারদের নিকট।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, উত্তর ধুরুং ইউনিয়নে মোট ভোটার ১৬০৫৪ জন।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"



You must be logged in to post a comment.