
সাগরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে জেলেরা। ছবি ফাইলফটো
দীপক শর্মা দীপু; কক্সভিউ :
বঙ্গোপসাগর থেকে মৎস্যসহ মূল্যবান প্রাণিজ সম্পদ আহরণে নিষেধাজ্ঞার সময় সীমা আজ শেষ হচ্ছে। কাল ২৪ জুলাই সাগরে মাছ আহরণে যাবে কক্সবাজার জেলার ৫০ হাজারের বেশি জেলে। দুই মাস পর মাছ আহরনের কারনে সাগর থেকে বেশি মাছ পাওয়া যাবে এমন বড় আশায় বুক বেধেছেন জেলারা।
বঙ্গোপসাগরে মৎস্যসহ মূল্যবান প্রাণিজ সম্পদের ভান্ডারের সুরক্ষায় ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করে সরকার। ইলিশের জাটকা নিধনে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সফলতাকে অনুসরণ করে বঙ্গোপসাগরে মৎস্যসহ মূল্যবান প্রাণিজ সম্পদের ভান্ডারের সুরক্ষায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সামুদ্রিক মাছের পাশাপাশি চিংড়ি, কাঁকড়ার মতো ক্রাস্টেশান আহরণও রয়েছে এই নিষেধাজ্ঞার আওতায়। সমুদ্রে মৎস্য আহরণ নিষেধাজ্ঞার ফলে মাঝি-মাল্লারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুইমাস পর্যন্ত মৎস্য খাতের উপর নির্ভরশীল মানুষকে নিদারুণ কষ্টভোগ করতে হয়। অবশেষে সেই দুইমাসের সময় সীমা শেষ হয়েছে। এখন জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা প্রস্তুত হয়েছে।
২৪ জুলাই থেকে সাগরে মাছ আহরণে যাবে সব জেলে মাঝি। মাছ ধরার ট্রলারগুলো আগে থেকে রয়েছে প্রস্তুত। কক্সভিউ.কম-কে এসব কথাগুলো বলেন, জেলা ফিসিং বোট মালিক সমিতির সাংগঠনিক মোস্তাক আহমদ। তিনি বলেন, অর্ধ লক্ষাধিক জেলে হলেও জেলায় মৎস্য সেক্টরে জড়িত রয়েছে ৫ লক্ষাধিক মানুষ। এই ৫ লাখ মানুষ দীর্ঘ দুইমাস অপেক্ষা করেছে, ধৈর্য্য ধরেছে। এখন সবাই আশা করছেন আগের চেয়ে মাছ আহরণ বেশি হবে। তা না হলে দুইমাসে কষ্ট লাঘব হবেনা।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট পরিচালিত গবেষণামতে মে মাসের শেষের দিক থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে বিচরণরত মাছসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণির প্রজননকাল। একারণেই সাগরের মৎস্যসহ বিভিন্ন মূল্যবান প্রাণিজ সম্পদ রক্ষার পাশাপাশি ভান্ডার বৃদ্ধিতে দীর্ঘসময় মাছ আহরণের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সরকার। এরই আলোকে ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস.এম. খালেকুজ্জামান কক্সভিউ.কম-কে জানান, আগে সমুদ্রে বিভিন্ন প্রকার বড়বড় মাছ পাওয়া যেত। যা এখন পাওয়া যায়না। এসব মাছের প্রজনন সময় ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয় বলে জানান জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস.এম. খালেকুজ্জামান। দীর্ঘ দুইমাস মাছ আহরণ বন্ধ থাকায় এখন সাগর মৎস্য ভান্ডারে পরিণত হয়েছে। বড় আকারের মাছসহ প্রচুর মাছ জেলেদের জালে ধরা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, জেলায় ৪৮ হাজার ৩৯৩ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছে। এছাড়াও অনিবন্ধিত জেলে রয়েছে অনেক। দুই মাস মাছ আহরণ বন্ধ থাকার কারনে এসব জেলেসহ সংশ্লিষ্ট সবাই উপকৃত হবেন।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.