
শেখ শাহরিয়ার জামান
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনি এস এইচ এম বি নুর চৌধুরীকে কানাডা থেকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগের অংশ হিসাবে করা মামলার শুনানি হয়েছে। কানাডার স্থানীয় সময় সোমবার (২৫ মার্চ) সকালে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। কানাডার ফেডারেল কোর্টে করা ওই মামলায় বাংলাদেশের আইনজীবী এবং কানাডার অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের আইনজীবীরা তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।
যুক্তি তর্ক শেষে বিচারপতি জানান, তিনি তার সিদ্ধান্ত পরে জানাবেন। শুনানির সময় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. মিজানুর রহমানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমরা যুক্তি-তর্কে দাবি করেছি, কানাডা যেন নুর চৌধুরীর স্ট্যাটাস প্রকাশ করে। অন্যদিকে, কানাডার অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের আইনজীবীরা বলেন, ‘এই তথ্য প্রকাশ করা না হলে কানাডার জনগণের কোনও ক্ষতি হবে না বা হচ্ছে না।’
তিনি বলেন, ‘বিচারপতি দ্বিতীয় দফা শুনানি করবেন কিনা বা আজকের শুনানির ওপর ভিত্তি করে রায় দেবেন কিনা, সেটি তিনি পরে জানাবেন বলে জানিয়েছেন।’
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই নুর চৌধুরীর বিরুদ্ধে কানাডার অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসে একটি প্রি-রিমোভাল রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট দরখাস্ত করে জানায়, তাকে যদি ওই দেশ থেকে বাংলাদেশে পাঠানো হয় তবে তাকে ফাঁসি দেওয়া হবে। গত ১০ বছরে কানাডার সরকার এই দরখাস্তটি গ্রহণ বা প্রত্যাখান না করে বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখেছে।
২০১৮ সালের জুন মাসে কানাডার ফেডারেল কোর্টে বাংলাদেশ এই বিষয়ে একটি রিট অব ম্যানডামাস দাখিল করে এবং কোর্টের কাছে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত চায়। রিট অব ম্যানডামাস দাখিল করার কারণ হচ্ছে, অবশ্য পালনীয় নির্দেশনা চায় কোর্টের কাছ থেকে। বাংলাদেশ চায় নুর চৌধুরীর দরখাস্তের বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত দেওয়ার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসকে কোর্ট নির্দেশ দিক।
অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস নুর চৌধুরীর দরখাস্ত গ্রহণ বা প্রত্যাখান যেকোনোটি করতে পারে কিন্তু বাংলাদেশ চায় তারা একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুক। যদি অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস তার প্রি রিমোভাল অ্যাসেসমেন্ট রিস্ক আবেদন খারিজ করে দেয়, তবে তার ফেরত আনার পথে কোনও বাধা থাকবে না। আবার যদি তার আবেদন গ্রহণ করা হয়, তবে তাকে সেখানে স্ট্যাটাস দেওয়া হবে এবং তখন নুর চৌধুরী একজন মানবতাবিরোধী অপরাধের সাজাপ্রাপ্ত আসামি, এই কারণ দেখিয়ে তাকে ফেরত পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ আবার মামলা করতে পারবে।
১৯৯৯ সালে কানাডার একটি কোর্ট নুরের শরণার্থী সংক্রান্ত একটি আবেদন খারিজ করে তাকে বহিষ্কারের আদেশ দেয়। এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে, ২০০৭ সালে নিম্ন আদালতের আদেশ বহাল রাখে উচ্চ আদালত এবং তাকে আবার বহিষ্কারের নির্দেশ দেয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে ফেরত পাঠানোর জন্য ২০০৭ সালে কানাডা সরকার বাংলাদেশকে একটি চিঠি দেয়। কিন্তু, তৎকালীন সরকারের অনাগ্রহের সুযোগ নিয়ে কানাডায় অবস্থান করছে নুর চৌধুরী।
১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার এফআইআর হয় এবং এর বিচার সম্পূর্ণভাবে শেষ হয় ২০০৯ সালে।
সূত্র:deshebideshe.com-ডেস্ক।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.