
সুপার কম্পিউটার তৈরির প্রতিযোগিতায় এবার চীনকে পেছনে ফেলে অনেকদূর এগিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বিজ্ঞানীরা দাবি করছেন, তাদের তৈরি সর্বশেষ সুপার-কম্পিউটারটি ক্ষমতায় এবং গতিতে এর আগের বিশ্বের এক নম্বর বলে বিবেচিত সুপার-কম্পিউটারের প্রায় দ্বিগুণ।
এই নতুন সুপার কম্পিউটারের নাম দেয়া হয়েছে ‘সামিট’। প্রতি সেকেন্ডে এটি দুই লক্ষ ট্রিলিয়ন হিসেব কষতে পারে। সুপার-কম্পিউটারের ক্ষমতা মাপার যে ইউনিট, সেই বিচারে এটির ক্ষমতা হচ্ছে প্রায় দুশ’ পেটাফ্লপ।
এটি তৈরি করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি রাজ্যের ওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে। আইবিএম এবং এনভিডিয়া মিলে এই সুপারকম্পিউটার তৈরি করেছে। এতদিন পর্যন্ত বিশ্বের এক নম্বর সুপার-কম্পিউটার বলে বিবেচনা করা হতো চীনের ‘সানওয়ে তাইহুলাইট’কে। এটির প্রসেসিং ক্ষমতা ছিল প্রতি সেকেন্ডে তিরানব্বুই পেটাফ্লপ।
সুপার-কম্পিউটার সাধারণত আকারে যেমন বিশাল হয়, তেমনি এগুলো তৈরি করাও অনেক ব্যয়বহুল। এগুলোর ভেতরে থাকে লক্ষ লক্ষ প্রসেসর, যেগুলোকে ডিজাইন করা হয় বিশেষ ধরণের হিসেব-নিকেশ করার জন্য।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন তৈরি সামিট সুপার-কম্পিউটারটি শুরুতে মূলত ব্যবহার করা হবে অ্যাস্ট্রোফিজিক্স, ক্যান্সার গবেষণা এবং সিস্টেম বায়োলজির কাজে। সামিট সুপার-কম্পিউটারে ৪ হাজার ৬০৮টি কমপিউট সার্ভার আছে। এটির মেমোরি হচ্ছে দশ পেটাবাইট। গত ৮ই জুন এটি প্রথম চালু করা হয়েছে।
ওকরিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির পরিচালক ড: থমাস জাচারিয়া জানিয়েছেন, এই সুপার কম্পিউটারটি আসলে ধাপে ধাপে যুক্ত করে যখন তৈরি করা হচ্ছিল, তখন থেকেই এটিকে কাজে লাগানো হচ্ছে।
টপ ৫০০-এর এ তালিকা বছরে দু’বার প্রকাশ করা হয়। সর্বশেষ তালিকায় বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দুই কম্পিউটার হিসেবে জায়গা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামিট এবং সিয়েরা। শীর্ষ ১০টির মধ্যে পাঁচটিই যুক্তরাষ্ট্রের দখলে।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীন ছাড়াও শীর্ষ ১০-এ রয়েছে সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, আর জাপানের নাম বিবিসি’র খবরে বলা হয়, টপ ৫০০-এর পুরো তালিকার মধ্যে ২২৭টি সুপার কম্পিউটারই চীনের, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা ১০৯।
তালিকার শীর্ষে থাকা সামিট সুপার কম্পিউটারটি সেকেন্ডে দুই লাখ ট্রিলিয়ন হিসাব করতে পারে। সামিট এবং সিয়েরা- দুটিই মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইবিএমের বানানো।
গেল বছর তালিকার শীর্ষস্থানটি ছিল চীনে সানওয়ে তাইহুলাইট সুপার কম্পিউটারটির দখলে। সর্বশেষ তালিকায় এটি তৃতীয় স্থানে চলে এসেছে, চতুর্থ স্থানে থাকা সুপার কম্পিউটারটিও চীনেরই বানানো।
সামিটের প্রসেসিং ক্ষমতা ২০০ পেটাফ্লপ, আর সানওয়ে তাইহুলাইটের ক্ষেত্রে তা ৯৩ পেটাফ্লপ। পেটাফ্লপ হচ্ছে কম্পিউটারের প্রসেসিং গতি মাপার একটি একক। এক পেটাফ্লপ বলতে কোনো কম্পিউটার সেকেন্ডে এক হাজার ট্রিলিয়ন ফ্লোটিং পয়েন্ট প্রসেসিং করার ক্ষমতা বোঝায়।
চীনা সুপার কম্পিউটারটিকে দ্বিতীয় স্থান থেকে সরানো সিয়েরার ক্ষেত্রে এ প্রসেসিং ক্ষমতা ৯৪ পেটাফ্লপ।
সূত্র:deshebideshe.com;ডেস্ক।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.