এস.এম.ছগির আহমদ আজগরী; পেকুয়া :
কক্সবাজারের পেকুয়া জাতীয় অর্থনৈতিক জোনের তালিকাভুক্ত হওয়ার আভাস পাওযা গেছে। যার আওতায় প্রায় কযেকশত কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের বাস্তবায়ন সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে। আন্ত:এশিয়ার যোগাযোগ ও অংশিদারিত্বের পথ পরিক্রমায় নেয়া বাংলাদেশের হানড্রেট ইকোনমিক্স জোন প্রক্রিয়ায় আওতাভুক্তির এ সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে অবস্থান করছে জেলার অমিত সম্ভাবনাময়ী অবহেলিত মডেল উপজেলা পেকুয়া। কেননা, এ উপজেলার উপর দিয়ে রযেছে আঞ্চলিক মহাসড়ক, বিস্তির্ণ মেরিন জোন পথপরিক্রমা।
এছাড়া, পর্যটন শিল্পের বিকাশে রয়েছে পার্বত্য সৌন্দর্য্যের প্রাকৃতিক রূপ লাবণ্যের হাতছানি। সেই সাথে আছে দক্ষ অদক্ষ জনশক্তি। আর এ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহন ও সুযোগ সুবিধার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে এখন শুধু প্রয়োজন হয়ে দাড়িয়েছে এলাকার আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের যৌথ অবস্থান অংশগ্রহন প্রস্তুতির।
জানা যায়, সম্প্রতি বর্তমান সরকার আন্ত:এশিয়া যোগাযোগ ও অংশিদারিত্বের সূযোগকে কাজে লাগাতে এশিয়া ইউরো পরাশক্তি দেশগুলোর প্রতি আহব্বান জানিয়েছেন। সরকারের এ প্রক্রিয়া ও আহব্বানে ইতোমধ্যে পড়েছে সায় সাড়াও। রাশিয়া, চীন, জাপান, ভারত, বাংলাদেশ, মায়ানমার, ভিয়েতনাম, ব্রুনাই, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, নেপাল, ভুটান ও তৎসংলগ্ন দেশগুলোকে ঘিরে এ প্রক্রিয়া প্রকল্পের বাস্তবায়ন চিন্তার প্রতিফলন দিয়েছে দেখা। বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে আন্ত:এশিয়ার যোগাযোগ ও অংশদারিত্বের সুযোগকে কাজে লাগাতে হানড্রেট ইকোনমিক্স জোন প্রতিষ্ঠার কর্মসূচী ঘোষণা করেছেন। দিন যতোই যাচ্ছে বর্তমান সরকারের শাসনামলেই প্রক্রিয়াটির সম্ভাব্যতা যাচাই ও দ্রুত বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর অবস্থান পরিলক্ষিত হয়ে উঠছে। যার ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম আর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে গভীর অগভির সমুদ্র বন্দর গড়া, গ্যাস-কয়লা ভিত্তিক একাধিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন, দেশের সাগর দেশের গ্যাস সম্পদ আহরণ ও সরবরাহে মহেশখালী-চকরিয়া-পেকুয়া-বাঁশখালী-আনোয়ারা উপজেলা হয়ে জাতীয় গ্রীডে সংযোগ স্থাপন, চট্টগ্রামের মিরেরসরাই থেকে পর্যটন নগরী কক্সবাজার পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ রোড নির্মাণ, কক্সবাজারের ৪সেনানিবাস গড়া, সাব-মেরিন ও নৌ-ঘাটি বি-নির্মাণ, সারা বিশ্বের সভ্যতা চাহিদায় পর্যটন সুবিধার চাহিদা পূরণ, স্থল বন্দর প্রতিষ্ঠা, রেল লাইন সংযোগ প্রক্রিয়া সম্পন্নের পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়েছে।
এসব প্রকল্পে বিনিয়োগ হবে দেশি বিদেশী প্রায় ৩০-৪০হাজার কোটি টাকা। যার অংশ হিসাবে ইতোমধ্যে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন সিদ্ধান্ত, বিদ্যমান বিমান বন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর ঘোষণা করে তার উন্নয়ন প্রক্রিয়া গ্রহন, রামু বৌদ্ধ উপসনালয়ের সংষ্কার, সম্প্রসারণ, উন্নয়ন সম্পাদন, কক্সবাজার ষ্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক মানে রূপান্তর, চট্টগ্রাম কক্সবাজার রেল লাইন সংযোগ প্রকল্পের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ছাড়াও নেয়া হচ্ছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নান্দনিক সিদ্ধান্ত। দেশের বানিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত এলাকায় বিপুল এ অর্থ বিনিয়োগ পরিকল্পনায় একাধিক প্রক্রিয়ায় জেলার পেকুয়া মডেল উপজেলার যুক্ত হওয়ায় দেখা দিয়েছে সম্ভাবনার হাতছানি।
অন্যদিকে, বিপুল পরিমান এ উন্নয়ন পরিকল্পনার সম্ভাব্যতা যাচাই বাছাইয়ে ইতোমধ্যে সরজমিন পরিদর্শন করে গেছেন একাধিক বিনিয়োগকারী দেশের পর্যটন ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের টিম। এছাড়া, চলতি মাসে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, তথ্য মন্ত্রী, পানি সম্পদ মন্ত্রী, তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ছাড়াও দেশের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলেরও কক্সবাজার সফরের মধ্য দিয়ে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাণিজ্যিক রাজধানী বন্দর নগরী আর বার আউলিয়ার পূণ্যভূমি পরিচিত চট্টগ্রাম ও পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সীমান্ত জনপদ হিসাবে পরিচিত একমাত্র উপজেলার নাম পেকুয়া।
৭ইউনিয়নের এই উপজেলাকে ঘিরে রয়েছে বিস্তির্ণ সাগর, নদী জলপথ আর পার্বত্য পর্যটন স্বাধ সম্ভাবনাময় ৩পাহাড়ি গ্রাম। সেই সাথে রয়েছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও তার আশপাশের এলাকার সাথে সহজি যোগাযোগ পরিক্রমার সম্ভাবনাও। যার ফলে, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত দেশের হানড্রেট ইকোনমিক্স জোনে পেকুয়া উপজেলার অন্তর্ভুক্তি অংশগ্রহন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। গৃহিত প্রক্রিয়ার সূষম বন্টন নিশ্চিতের পাশাপাশি হানড্রেট ইকোনমিক্স জোনের একাধিক প্রকল্পই অবহেলিত মডেল উপজেলা পেকুয়ায়ই বাস্তবায়ন সম্ভাব্যতার জনশ্রুতিও শোনা যাচ্ছে জাতীয় পর্যায়ের নীতি নির্ধারণী শলা-পরামর্শে। কিন্তু তাতে বাঁধা আর সন্দেহের বেড়াজাল হয়ে দেখা দিয়েছে এলাকার আর্থ-সামাজিক রাজনৈতিক নেতৃত্বে। যা নিয়ে শুধু সাধারণ মানূষ নয় দেশ সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃস্থানীয়রাও হতাশ ও চিন্তিত বলে মন্তব্য পাওয়া গেছে।
এনিয়ে জনমত যাচাইয়ে ৭নভেম্বর শনিবার উপজেলার একাধিক গ্রামের পাড়া-মহল্লায় বসবাসরত মানুষের সাথে যোগাযোগ করে জানতে চাইলে, তারাও এ প্রতিবেদকের আশাবাদের সাথে সংহতি জানিয়ে বলেন, এলাকার উন্নয়ন অগ্রযাত্রা সমৃদ্ধি নিশ্চিতেই সকল পক্ষ মতের মানূষের ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরী।
এ প্রসঙ্গে অধিকাংশ মানূষ ক্ষোভ আর হতাশা প্রকাশ করে বলেন, সারাদেশের অগ্রযাত্রায় আজ পেকুয়াও সরবে নিরবে অনেক এগুচ্ছে। এ যাত্রা প্রত্যশার হলেও সময় বা যুগোপযোগী নয়। বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম আর দেশের পর্যটন নগরী কক্সবাজারের অগ্রজ সীমান্তবর্তী অন্যতম অবহেলিত সম্ভাবনাময়ী জনপদ হিসাবে পরিকল্পিত নগরায়ন আর নান্দনিকতায় সমৃদ্ধে সৎ, যোগ্য, সাহসি আর সমন্বিত বলিষ্ট নেতৃত্বের সংকটের কারণে প্রাপ্তির অনেক সম্ভাবনাও পারে হারিয়ে যেতে। এছাড়া বিদ্যমান নেতৃত্বের ব্যর্থতায় আজো আমরা ভিন্ন গন্তব্য যাত্রা নির্ভর। নেই সোনালী ব্যাংক সহ অধিকাংশ রাষ্ট্রীয় অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠানের শাখা। রয়েছে হিমাগার, খাদ্য পণ্য গুদামের সংকট, নেই জুড়িশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত, বিদ্যুৎ সংযোগ এখনো জাতীয় গ্রীডের আওতাহীন। অভাব রয়েছে পর্যাপ্ত বিনোদন সুবিধার। আর এসব নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই কোন রাজনৈতিক দল বা তাদের নেতাকর্মীর। ভরসা শুধু হাতে গোনা দু’য়েকজন নিবেদীতপ্রাণ উন্নয়ন নির্ভরতামূখী অকুতোভয় গণমাধ্যমকর্মীর বলে মন্তব্য করেন অধিকাংশ এলাকাবাসী।
আওয়ামীলীগ নেতা এটিএম বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, মোঃ ফরিদুল আলম, আবুল শামা শামিম, ওয়াহিদুর রহমান ওয়ারেচী, শহিদুল্লাহ সহ আরো অনেকেই দেশের হানড্রেট ইকোনমিক্স জোনে পেকুয়ার আওতাভুক্তে তাদের চেষ্টা তদবির সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে জানান। অন্যদিকে, নবাগত জাপা নেতা পেকুয়া উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির আহবায়ক বিশিষ্ট সমাজসেবক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম প্রকাশ বিডিআর জাহাঙ্গীর বলেন, পেকুয়ার উন্নয়ন অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে গণসচেতনতার রাজনীতির কর্মসূচী ঘোষণার পরিকল্পনা চলছে। আগামী সপ্তাহ দু’য়েকের মধ্যে বিভিন্ন দাবী দাওয়া নিয়ে আন্দোলনে নামবে পেকুয়া উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি। আর এতে দলমত নির্বিশেষে সকল শ্রেণী পেশার মানুষের অংশগ্রহনেরও প্রত্যাশা রাখি। পেকুয়ার ইউএনও মোঃ মারুফুর রশিদ খান দেশের হানড্রেট ইকোনমিক্স জোনে পেকুয়ার আওতাভুক্তির সম্ভাবনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দেশি বিদেশী পর্যায়ের এসব সূযোগ সুবিধা নিজ এলাকায় কার্যকর বা প্রতিষ্ঠা করতে স্থানীয় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি বা নেতৃস্থানীয়দের ভূমিকা নিতে হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.