
মুকুল কান্তি দাশ; চকরিয়া :
বিশ্বের দীর্ঘতম কক্সবাজারের সৈকত, টেকনাফের সেন্টমার্টিন, চকরিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক, রামুর বৌদ্ধ মন্দির, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দিরের পাশাপাশি এখন পর্যটকদের নজর কাড়ছে উপকূলীয় উপজেলা পেকুয়ার মগনামা জেটিঘাট। প্রকৃতি প্রেমি ও ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে টানতে শুরু করেছে মগনামা জেটিঘাট। এক সময় এই জেটি ঘাট শুধুমাত্র লোক পারাপারে জন্য ব্যবহৃত হতো। কিন্তু বেশ কয়েক বছর ধরে এই ঘাটে বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটক আসার ফলে এলাকাটি এখন পর্যটন স্পর্টে রুপ পেতে শুরু করেছে। ফলে, অল্প সময়েই কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা মগনামা ইউনিয়নের জেটি ঘাটটি এখন পর্যটন স্পর্টে রুপ পেয়েছে। বিশেষ করে বিকেলে সূর্যাস্তের অপরুপ দৃশ্য দেখতে দর্শনার্থীদের ভীড় হয় অত্যাধিক। কিন্তু এই এলাকায় ভাল মানের কোন রেস্টেুরেন্ট না থাকায় অনেক পর্যটককে হতাশা প্রকাশ করতে দেখা যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পেকুয়া ও কুতুবদিয়া লোকজন পারাপারের জন্য ব্যবহৃত হতো মগনামা জেটি ঘাটটি। কুতুবদিয়া চ্যানেলের (সাগর) মগনামা অংশে এ জেটি ঘাটটি নির্মাণ করা হয় অন্তত ২০ থেকে ২৫ বছর আগে। এ ঘাট হতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শতাধিক বোট যাতায়াত করে। প্রতিদিন এই ঘাট দিয়ে অন্তত ৩ থেকে ৪ হাজার লোক পারাপার করে। একসময় সাগরের পাঁড় ঘেষে অনেক প্যারাবন ছিল। কিন্তু বনখেকোর দল প্যারাবন কেটে সাবাড় করে দিচ্ছে। ফলে সৌন্দর্য্য হারিয়ে যাচ্ছে মগনামা ঘাটের।
স্থানীয় লোকজন জানান, পেকুয়ায়তে তেমন কোন বিনোদনের স্পর্ট না থাকায় স্থানীয় লোকজন মগনামা ঘাটে বিকাল হলে ঘুরতে আসতো। সূর্যাস্ত দেখতো। পরে স্থানীয় লোকজনের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকার লোকজনও বিকালে সূর্যাস্ত দেখতে ছুটে আসেন এখানে। এভাবে এলাকাটি সবার কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছে।
চকরিয়ার সন্তান ইঞ্জিনিয়ার রাজন। ঢাকায় মন্ত্রণালয়ে কর্মরত। মাঝে মাঝে বাড়িতে আসেন বেড়াতে। বাড়ি আসলেই ছুটে আসেন মগনামা ঘাটে। ঘাটে দেখা হয় তার সাথে। তিনি বলেন, আমি দেশের মধ্যে অনেক সুন্দর সুন্দর জায়গা ঘুরেছি। কিন্তু পেকুয়ায় সূর্যাস্তের দৃশ্যটা অপূর্ব লাগে আমার কাছে।
তিনি আরো বলেন, একসময় এখানে তেমন লোকজন আসতো না। কিন্তু বেশ কয়েক বছর ধরে এখানে প্রচুর লোকজন ভীড় করতে দেখা যাচ্ছে। যেহেতু লোকজনের সমাগম বাড়ছে সেদিক বিবেচনা করে পেকুয়া-মগনামা সড়কটি আরো সম্প্রসারণসহ ঘাটটি আরো সৌন্দর্য্য বর্ধন করা দরকার।
স্থানীয়রা বাসিন্দা ইমরান হোসাইন জানান, সাধারণত দু’উপজেলা কুতুবদিয়া ও পেকুয়ার লোকজন বিভিন্ন কাজে এ ঘাট ব্যবহার করতো। একসময় সাগরের পাঁড় ঘেষে অনেক প্যারাবন ছিল। কিন্তু বনখেকোর দল প্যারাবন কেটে সাবাড় করে দিচ্ছে। ফলে সৌন্দর্য্য হারিয়ে যাচ্ছে মগনামা ঘাটের। তারপরও এ ঘাটটি এখন পর্যটন স্পর্টে রুপ পেতে শুরু করেছে।
তিনি আরো জানান, সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেই পশ্চিম দিকে বয়ে চলা সাগরের বুকে সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য চোখে পড়ে। তাই হয়তো প্রকৃতি প্রেমিরা এই সূর্যাস্ত অবলোকন করতে ভীড় জমাচ্ছে মগনামা ঘাটে। সরকার জেটি ঘাটসহ আশপাশের এলাকাকে আরো সৌন্দর্য বর্ধন করলে পেকুয়ার এ জেটি ঘাটটি পর্যটন কেন্দ্রের তালিকায় স্থান পাবে।
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়া মোহাম্মদ মোস্তাফিজ ভুইয়া বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় প্রতিনিয়ত পুলিশের বিশেষ টিমকে মগনামা ঘাট এলাকায় নিয়োজিত রাখা হয়। তাই নিরাপত্তা নিয়ে পর্যটকদের দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.মাহাবুব-উল করিম বলেন, মগনামা ঘাটটি একসময় শুধুমাত্র লোকজন পারাপারের কাজে ব্যবহৃত হতো। বর্তমানে ঘাট এলাকায় প্রতিদিন অসংখ্য লোকজন ভীড় করে সূর্যাস্ত দেখার জন্য। দেশীয় দর্শনার্থী পাশাপাশি বিদেশী দর্শনার্থীও যাতে বাড়ে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.