সাম্প্রতিক....
Home / প্রচ্ছদ / অপরাধ ও আইন / ফলোআপ: আসল পরিচয় গোপন করে মিথ্যা তথ্য প্রদান

ফলোআপ: আসল পরিচয় গোপন করে মিথ্যা তথ্য প্রদান

ঈদগাঁওতে গহীন জঙ্গলে ডাকাতের আস্তানা থেকে দেশীয় তৈরি ২টি এলজি : ৫টি কার্তুজ উদ্ধার

এম.আবুহেনা সাগর; ঈদগাঁও :

কক্সবাজার সদর উপজেলার ঈদগাঁওতে গহীন জঙ্গলে একটি ডাকাতের আস্তানা থেকে ঈদগাঁও পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২টি দেশীয় তৈরি এলজি এবং ৫টি কার্তুজ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থলে ২ ডাকাতকে আটক করলেও একজন জনতার গণপিঠুনিতে নিহত হন বলে জানা গেছে।

সূত্র মতে, ১৮ মে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত একটানা পুলিশ ও জনতার অভিযান চলে ঈদগাঁও ইউনিয়নের কালিরছড়ার প্রায় ছয় কিলোমিটার পূর্বে হল হাজীর ঘোনা নামক স্থানে। সেখানে পুলিশের অভিযানে দেশীয় তৈরি এলজি-২টি, ৫টি কার্তুজ উদ্ধারের পাশাপাশি ২জন ডাকাত আটক করলেও একজন জনতার গণপিটুনিতে নিহত হন। তৎমধ্যে তারা হলেন, ইসলামাবাদ গজালিয়ার রাজঘাট এলাকার মৃত মমতাজ আহমদের পুত্র লাল পুতু, খুটাখালীর পূর্ব গর্জনতলী এলাকার আমির হামজার পুত্র মোস্তাক প্রকাশ রায়হান ওরফে (চিমবডি) বলে পুলিশ সূত্রে প্রকাশ। তবে লাল পুতু গণপিটুনিতে নিহত হন। আহত মোস্তাক বর্তমানে সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এদিকে অভিযান চালাকালীন সময়ে পুলিশ জীবিত থাকা ডাকাত মোস্তাককে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জয়নাল এবং মোহাম্মদ নবী বলে মিথ্যা তথ্য প্রদান করে, আসল পরিচয় গোপন রেখে। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইস বুকে আটকদের ছবি প্রকাশের পরপরেই তাদের নিজ নিজ এলাকার লোকজন সঠিক নাম ঠিকানা সনাক্ত করেন। অভিযানের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) গোলাম রুহুল কুদ্দুস, মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসলাম হোসেন, রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রভাস চন্দ্র ধর, ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ খাইরুজ্জামান সহ এসআই দেবাশীস সরকার, এএসআই পেয়ার উদ্দিন, আবুল কাশেম এবং সঙ্গীয় পুলিশ দল।

স্থানীয় মেম্বার মিনারের মতে, বৃহষ্পতিবার সাড়ে ৩টার দিকে স্থানীয় এক রাখাল গহীন জঙ্গলে গরু খুঁজতে যায়। এসময় একটি পাহাড়ে ৫/৬ জনের একটি ডাকাতদল অবস্থান নিতে দেখে ভয়ে পালিয়ে আসে। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে মেম্বারের মুঠোফোনের নাম্বার নিয়ে বিষয়টি তাকে জানালে তাৎক্ষণিক ঈদগাঁও পুলিশকে খবর দেয়। ডাকাতদলের সদস্যরা বিষয়টি আঁচ করতে পেরে আরো কয়েকটি জঙ্গল থেকে ১০/১২ জন ডাকাত একত্রিত হয়ে এলাকার লোকজনকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে। পুলিশের জনবল কম থাকায় আস্তানাটি ঘেরাও করে রেখে স্থানীয় প্রত্যেক মসজিদের মাইকে প্রচার করে এলাকার বিপুল সংখ্যক মানুষ জড়ো হয়ে পুলিশের সাথে অভিযানে অংশ নিয়েছে।

এদিকে নানা সময়ে ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়ক, কালিরছড়ার পাহাড়ী জঙ্গল সহ নানা চিহ্নিত এলাকায় চলাচলরত লোকজনকে অপহরণ করে পাহাড়ের দিকে নিয়ে যায় অপহরণকারী চক্ররা। পরে মোটা অংকের মুক্তিপণ নিয়ে পাহাড় থেকে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

অপরদিকে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১৬ মে এ্যডিশনাল এএসপির নেতৃত্বে দেড়শতাধিক পুলিশ ঈদগাঁও-ঈদগড় রামু এলাকার অপহরণকারী ও ডাকাতদের ধরার জন্য বিশেষ অভিযান পরিচালিত করা হয় পাহাড়ের মধ্যে। ১৭ মে পুনরায় গর্জনিয়া ও কচ্ছপিয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয় ডাকাত ও অপহরণকারীদের বিরুদ্ধে।

এ ব্যাপারে ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ খাইরুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দুইজন ডাকাত আটক তবে একজন জনতার গণপিটুনিতে নিহত সহ উপরোক্ত ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

Share

Leave a Reply

x

Check Also

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত

—V প্রেস বিজ্ঞপ্তি :কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসের ...

Portrait of a professional, showcasing contact details and role information.