সাম্প্রতিক....
Home / প্রচ্ছদ / সাম্প্রতিক... / ফলোআপ: গরু চুরি সহ নানা অপরাধ-অপকর্ম ঠেকাতে ঈদগাঁওতে হার্ডলাইনে পুলিশ

ফলোআপ: গরু চুরি সহ নানা অপরাধ-অপকর্ম ঠেকাতে ঈদগাঁওতে হার্ডলাইনে পুলিশ

এম আবু হেনা সাগর; ঈদগাঁও :

সম্প্রতি দফায় দফায় গরু চুরিকে কেন্দ্র করে পাড়া মহল্লায় অজানা আতংক বিরাজ করছে। এই নিয়ে শান্তিতে নেই পশু পালিত লোকজন। অন্যদিকে বেকায়দায় পড়েছিল স্থানীয় প্রশাসনও। এবার গরু চুরি সহ বৃহত্তর এলাকায় নানা অপরাধ অপকর্ম ঠেকাতে হার্ডলাইনে মাঠে নেমেছে ঈদগাঁও পুলিশ। গভীর রাত্রে লোকজন ঘুরাফেরা করলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদও করছে প্রশাসন। সে সাথে রাত্রিকালীন সময়ে অযথা ঘুরাফেরা না করার প্রতি আহবান জানিয়েছেন খোদ ঈদগাঁও পুলিশের ইনচার্জ। গত তিনদিনের ব্যবধানে ব্যাপক গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। দু’দফায় একাধিক গরু চুরির ঘটনা নিয়ে বিশাল এলাকা জুড়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা রয়েছে এলাকার সর্বশ্রেণী পেশার মানুষজন। পুলিশী টহলের জোরদাবীও জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত ৬ এপ্রিল গভীর রাতে ঈদগাঁও ইউনিয়নের ভোমরিয়াঘোনা এলাকা থেকে ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ উদ্দিনের বাড়ী সহ তিন পরিবার থেকে সাতটি গরু নিয়ে যায়। পরে এলাকাবাসী খবর পেয়ে এগিয়ে আসলে ডাকাতদল ফাকা গুলি ছুড়ে গরু নিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

অন্যদিকে উক্ত গরু ডাকাতির তিনদিন পার হতে না হতেই আবারো একই ইউনিয়নের উত্তর মাইজ পাড়া থেকে ৯ এপ্রিল রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে চার পরিবার থেকে এগারটি গরু চুরি করে নিয়ে যায়। গরু চুরির কালে স্থানীয় এক পথচারী চোরদলকে দেখে ফেললে তাকে চুরেরা মুখ-চোখ বেঁধে স্থানীয় কবর স্থানে নিয়ে বেঁধে ফেলে রেখে। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চোর সিন্ডিকেট চক্ররা কৌশলে গরু গুলো চুরি করে নিয়ে যায় বলে সচেতন মহল সূত্রে প্রকাশ।

প্রকৃত চোর সিন্ডিকেট চক্ররা এখনো অধরা রয়েছে। বৃহত্তর ঈদগাঁও তথা ছয় ইউনিয়নের প্রত্যান্ত গ্রামাঞ্চল থেকে সম্প্রতি গরু চুরির মত হীন কর্মকান্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যবসায়ী সহ জনমনে চরম আতংক বিরাজ করছে। পাশাপাশি এই চোর সিন্ডিকেট চক্ররা এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে বললেই চলে। তবে সচেতন মহলের মতে, এ বিশাল এলাকা জুড়ে যদি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি সহায়ক হিসাবে কমিউনিটি পুলিশরা একটু সচেতন হয় তাহলে এলাকাতেই চোরের প্রবনতা অনেকটা কমে আসবে।

এদিকে জনপ্রতিনিধি বজলুল রশিদ জানান- স্থানীয় প্রশাসন যদি রাত্রীবেলায় সড়ক-উপসড়কে টহল কার্যক্রম জোরদার রাখে তাহলে কখনো চুরির মত কর্মকান্ড ঘটতে পারে না। তিনি প্রশাসনের খাম-খেয়ালীপনাকেও দায় করেন। অপরদিকে সচেতন এলাকাবাসীর মতে, গ্রামাঞ্চলে গরু ও মোটর সাইকেল চোরচক্র প্রশাসনের ধরা ছোঁয়া থেকে কেন পার পেয়ে যাচ্ছে, এমন প্রশ্নে ঘুরপাক খাচ্ছে এলাকাবাসীর মাঝে।

এদিকে গেল ২/১ দিন পূর্বে ঈদগাঁওর শিয়াপাড়া সহ বিভিন্ন এলাকায় নানা অপরাধ-অপকর্ম, গরু চোর, ডাকাত প্রতিরোধে ঈদগাঁও পুলিশের ইনচার্জ খায়রুজ্জামানের নেতৃত্বে দু’দফা অভিযান পরিচালিত হয়। পাশাপাশি এলাকার লোকজনও রাতের ঘুম হারাম করে নিজেদের এলাকার লোকজনকে নিরাপদ রাখার স্বার্থে গরু চোর সহ নানা অপরাধ ঠেকাতে পাহারা দিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে প্রশাসনও শক্ত অবস্থান থেকে পিছিয়ে নেই।

এ ব্যাপারে ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি- বৃহত্তর ঈদগাঁওতে অপরাধ-অপকর্ম দমনে পুলিশী টহল অব্যহত রাখার পাশাপাশি গরু চুরির মত হীনকর্মকান্ড ঠেকাতে শক্ত অবস্থান তথা হার্ডলাইনে রয়েছে স্থানীয় পুলিশ।

Share

Leave a Reply

x

Check Also

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত

—V প্রেস বিজ্ঞপ্তি :কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসের ...

Portrait of a professional, showcasing contact details and role information.