
ফাইল ফটো:- বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বৃষ্টির পানি যেন পুকুরে পরিণত হয়েছে।
হুমায়ুন কবির জুশান; উখিয়া :
দিনের পর দিন একটানা প্রবল বর্ষণে তলিয়ে যায় কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে উখিয়ার বালুখালী ও থাইংখালী এলাকা। শুধু সড়কে নয়, অধিকাংশ এলাকায় বাড়ির ভেতরেও ঢুকে পড়ে পানি। এক সপ্তাহ ধরে অশেষ ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে উখিয়াবাসীকে। বৃষ্টির কারণে দেখা দিয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
সচেতন মহলের মতে, রোহিঙ্গাদের কারণে বড় বড় পাহাড় প্রাকৃতিক পরিবেশ দখল, ধ্বংস ও মানুষের আগ্রাসী কর্মকান্ডের ফলে উখিয়ার বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের ছোট ছোট বিপর্যয় পরবর্তী সময়ে বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। মরিচ্যা, সোনারপাড়া, কোটবাজার, বালুখালী, থাইংখালী, কুতুপালংসহ পুরো উখিয়া জুড়ে মানুষের জনজীবন এক প্রকার স্থবির হয়ে পড়ে। সকাল হলেই অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নানা কর্মস্থলে যেতে বাসা থেকে বৃষ্টি মাথায় নিয়ে বের হয়েছে কর্মজীবী-শিক্ষার্থী-শ্রমজীবী মানুষ। টানা বর্ষণে সৃষ্ট জলজট ও যানজটে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় সকাল থেকেই উখিয়াজুড়ে সৃষ্টি হয় ভয়াবহ যানজট। জলজট-যানজট মাড়িয়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে ভোগান্তি যেমন হয়েছে, একইভাবে বিকেলে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে কাজ শেষে বাড়ি ফিরতেও পোহাতে হয়েছে আরও বেশি ভোগান্তি। বছরের পর বছর ধরে চলে আসা দখলের সংস্কৃতি থেকে এখনও মুক্ত হতে পারেনি উখিয়ার খাল-জলাশয়। একের পর এক খাল-জলাশয় ধ্বংস করা হচ্ছে। এলাকাবাসি বলছেন পানি নিস্কাশনের জন্য পর্যাপ্ত পথ নেই, তার ওপর বৃষ্টির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় সময়ে-অসময়ে পানির ওপর ভাসছে রাস্তাঘাট। বৃষ্টিমুখর দিনে দীর্ঘস্থায়ী জলজট এবং দীর্ঘ যানজটসহ নানা ভোগান্তি এখন উখিয়াবাসীর জন্য অবধারিত বলেই মত দিয়েছেন তারা। গত কয়েক দিনের বর্ষণে উখিয়া জুড়ে জলজটের ভয়াবহ চিত্র পরিলক্ষিত হয়েছে। তবে উখিয়া সদর ষ্টেশনে আগের তুলনায় ড্রেনেজ ও পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা ভাল হওয়ায় আগের তুলনায় অনেকটাই কমেছে জনদুর্ভোগ।
উখিয়া-টেকনাফ সড়কের প্রায় রাস্তাঘাটে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও বড় বড় গর্তে পড়ে বিকল হয়ে পড়ছে যানবাহন। এ কারণে অধিকাংশ সড়কে যানবাহন চলাচল তুলনামূলক কমেছে। আর এ সুযোগে যাত্রীদের কাছ থেকে সিএনজি চালকরা উখিয়া থেকে কক্সবাজার যেতে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছে। এতে করে চরম দুর্ভোগে পড়েছে স্থানীয়রা।
মৌসুমী, বৃষ্টি আর হাবিবা এদের বাড়ি রংপুর। এরা তিন জনই উখিয়া কুতুপালং, বালুখালী ও থাইংখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিওতে চাকরি করেন। তারা বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভোগান্তি চিত্ররাটাও কম ছিল না। অফিস শেষে বাড়ি ফিরতে বেশ বিড়ম্বনায় পড়তে হয় তাদেরকে। পথে যানজটের ভোগান্তি তো ছিলই পাশাপাশি গাড়ির জন্য অপেক্ষা ও যানবাহনে ওঠার বিড়ম্বনাও কম ছিল না। বিকেল ৩ টা ৩০ মিনিটে ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে গাড়ির জন্য এক ঘন্টা অপেক্ষা করেছেন মৌসুমী। অবশেষে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে সিএনজি করে বালুখালী থেকে উখিয়ায় ভাড়া বাসায় এসেছেন তিনি। তিনি জানান, বালুখালী থেকে উখিয়ায় আসতে সময় লেগেছে দেড় ঘন্টারও বেশি। জলে ভরা সড়কে সিএনজিতে চলতে মনে হয়েছে যেন নদী পথে কোন বাহনে ভ্রমণ করছি।
এদিকে কয়েক দিনের টানা বর্ষণের প্রভাবে আরেক দফা বাড়ল সব ধরনের পণ্যের দাম। বিশেষ করে মাছ-মাংস ও সবজির দাম বেড়েছে বেশি।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.