
বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে নতুন ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৭০ জন। করোনা ভাইরাস নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে শুক্রবার (১ মে) দুপুরে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।
তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ হাজার ৯৫৮টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষা করা হয়েছে ৫ হাজার ৫৭৩টি। তাদের মধ্যে আরও ৫৭১ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ফলে মোট করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৮ হাজার ২৩৮ জন। সব মিলিয়ে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৭০ হাজার ২৩৯টি। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন আরও দুজন। ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭০ জনে। এছাড়া সুস্থ হয়েছেন আরও ১৪ জন। ফলে মোট সুস্থ হয়েছেন ১৭৪ জন।
ডা. নাসিমা সুলতানা আরও জানান, যারা মারা গেছেন, তাদের একজন পুরুষ, একজন নারী। একজন ষাটোর্ধ্ব ও একজন পঞ্চাশোর্ধ্ব।
ব্রিফিংয়ের শুরুতে সারাদেশে করোনাভাইরাস শনাক্তকরণে যেসব প্রতিষ্ঠান বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছে তাদের নাম উল্লেখ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের প্রতিটি দেশের স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বারবার করণীয় বাতলে দিলেও থেমে নেই করোনার বিস্তার। প্রতিদিনই বাড়ছে এতে সংক্রমণের সংখ্যা। এই সংখ্যা এখন ছাড়িয়ে গেছে ৩৩ লাখ। এর এতে মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজারেরও বেশি মানুষের। এতে সবচেয়ে বেশি সংক্রমিত যুক্তরাষ্ট্রে গেল ২৪ ঘণ্টায়ই প্রাণ হারিয়েছেন দুই সহস্রাধিক মানুষ। তবে আশার বাণী হলো, এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তদের প্রায় সাড়ে ১০ লাখ মানুষ সুস্থ হয়ে উঠেছেন।
আজ মহান মে দিবস। কর্মক্ষেত্রে বঞ্চনা আর শ্রমঘণ্টা কমানোর দাবি নিয়ে আন্দোলনের ফসল হিসেবেই শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা নির্ধারিত হয়েছিল ৮ ঘণ্টায়। শ্রমিকদের বিশ্রামের প্রয়োজন রয়েছেন এমন দাবিই ছিল তখন। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে কর্মহীন আর লকডাউনে ঘরে বসে থাকতে থাকতে আজ যেন শ্রমিকরা অনেকটাই ক্লান্ত।
যে দেশে কর্মঘণ্টা কমানোর দাবিতে আন্দোলন হয়েছিল সেখানেই আজ আন্দোলন হচ্ছে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করতে দিতে। করোনার কারণে লকডাউন হওয়ায় বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেই জরুরি প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান বাদে সব কিছুই এখন বন্ধ। আর এই বন্ধের কারণে বেশিরভাগেরই আয়ের পথও বন্ধ হয়ে গেছে।
তাই এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় যেই আন্দোলন হচ্ছে তার মাত্রাটা যুক্তরাষ্ট্রে যেন একটু বেশিই। কারণ দেশটির মিশিগান প্রদেশে গতকাল সাধারণ জনতা লকডাউন খুলে দেয়ার জন্য বিক্ষোভ করেছেন বন্দুক উঁচিয়ে। আর বিক্ষোভের মাত্রাও ছিল ভয়ংকর। কারণ তারা বন্দুক নিয়ে বিক্ষোভ করতে করতে ঢুকে পড়েছিলেন আইনপ্রনেতাদের ভবনে। তবে কোনো ধরণের হতাহতের ঘটনা ছাড়াই সেই বিক্ষোভ দমাতে সক্ষম হয় পুলিশ।
প্রতিবছর এই দিনে দেশে শ্রমিকরা নানা কর্মসূচি পালন করলেও এবার স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে বাতিল করা হয়েছে সব ধরণের সভা সমাবেশ। শ্রমিকরাও সেভাবেই পালন করছেন দিনটি।
সরকারি ছুটির এই দিনটিতে কাজ থেমে নেই চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কর্মরতদের। প্রতিদিনের মতো আজও তারা করোনার আপডেট নিয়ে হাজির হয়েছেন সাধারণের সামনে। শত বিতর্ক থাকলেও সংস্থাটি নিয়মিতই জানিয়ে যাচ্ছে করোনার সর্বশেষ পরিস্থিতি। মনে করিয়ে দিচ্ছে, করোনা থেকে বাঁচতে কী কী করতে হবে সবাইকে।
এক নজরে-
সূত্র: somoynews.tv – ডেস্ক।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.