সাম্প্রতিক....
Home / প্রচ্ছদ / অপরাধ ও আইন / বাগানে ছাগল চড়াতে গিয়ে দেখে ছেলের লাশ !

বাগানে ছাগল চড়াতে গিয়ে দেখে ছেলের লাশ !

বিষপানে মারা যাওয়া মো. সায়েদুল ইসলামের লাশ।

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম; লামা :
পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামায় বিষপান করে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারনা করছেন পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা। সোমবার (২ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় নিহতের বসতবাড়ি সংলগ্ন বাগানে ছাগল চড়াতে গিয়ে ছেলেকে মরে পড়ে থাকতে দেখে মা ফাতেমা বেগম চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। পরে জনপ্রতিনিধি ও লামা থানাকে খবর দেয়া হয়।

নিহত মো. সায়েদুল ইসলাম (২৬) উপজেলার রুপসীপাড়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মাস্টার পাড়া এলাকার মুকবুল হোসেন প্রকাশ জাবের ও ফাতেমা বেগমের ছেলে। নিহত সায়েদুল ইসলাম ২ বোন ও ৬ ভাইয়ের মধ্যে ৩য়।

নিহতের বাড়িতে পুলিশ ও স্থানীয়দের উপচে পড়া ভিড়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লামা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আমিনুল হক বলেন, খবর পাওয়া মাত্র অফিসার ইনচার্জ এর নির্দেশে সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। আমরা এসে লাশটি বাড়ির আঙ্গিনায় পাই। পরে নিহতের প্রাথমিক সুরতহাল শেষে বিকেলে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ বান্দরবান জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহতের মা ফাতেমা বেগম বলেন, গতরাতে বাড়ির সামনের রুমে খাটে আমার ছেলে ঘুমায়। সকালে উঠে আমরা বাড়ির দরজা খোলা পাই। বেলা ১১টায় পাড়ির পূর্ব পাশের বাগানে লেকের ধারে ছাগল চড়াতে গেলে দেখি আমার ৩য় সন্তান মো. সায়েদুল ইসলাম মরে পড়ে আছে। আমি চিৎকার দিয়ে ছেলেকে জড়িয়ে ধরি। পরে টানতে টানতে আমি একাই ছেলের লাশ বাড়ির আঙিনায় নিয়ে আসি। পরে খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার ছেলে নেশাগ্রস্ত ছিল। ঘটনাস্থল আমার ঘর থেকে প্রায় ২৫০ হাত পূর্বে।

তিনি আরো বলেন, গতরাতে ছোট মেয়ে সুরমা আক্তার, আমরা স্বামী-স্ত্রী ও আমার ছেলে নিহত সায়েদুল ইসলাম ঘরে ছিলাম। অন্য ছেলেরা বাড়িতে ছিলনা।

নিহতের বড় ভাই মো. জাহেদুল ইসলাম বলেন, প্রায় সময় ছোট ভাইয়ের সাথে সায়েদুল ইসলামের ঝগড়া হত। আমার ভাই পেশায় একজন দিনমজুর ছিল। বিশেষ করে সে ব্রিকফিল্ডে কাজ করত। দুপুরে নিহতের বাড়িতে গেলে নিহতের বাবা মুকবুল হোসেন জাবের (৮০) কে বাড়ির সামনের দরজায় চেয়ারে চুপ করে বসে থাকতে দেখা যায়। তিনি বলেন, আমি কিছু জানিনা।

নাম প্রকাশ না করা সত্তে¡ আশপাশের লোকজন বলেন, তাদের বাড়িতে প্রায় সময় ঝগড়াঝাটি হত। তাদের পরিবারে ভাইদের মধ্যে সম্পর্ক ভালো ছিলনা। শনিবার দুপুরে তাদের বাড়িতে ঝগড়া হয়। নিহতের ছোট ভাই আব্দুল্লাহ তার ভাই সায়েদুল ইসলামকে বাড়ি হতে বেরিয়ে যেতে বলেছিল এবং ঘরে থাকতে নিষেধ করেছিল। নিহতের মা বলেছিল, ছোট মেয়ে ও তারা স্বামী স্ত্রী ছাড়া অন্য কেউ বাড়িতে ছিলনা, সেটা মিথ্যা। ঘটনার দিন রাতে বড় দুই ভাই জাহেদুল ইসলাম ও বাবুল ছাড়া নিহতের অন্য তিন ভাই বাড়িতে ছিল।

এই ঘটনায় রুপসীপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান ছাচিং প্রু মার্মা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, পুলিশি তদন্তে আসল ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

Share

Leave a Reply

x

Check Also

ইসলামপুরে তুচ্ছ ঘটনায় যুবককে ছুরিকাঘাত

  নিজস্ব প্রতিনিধি; ঈদগাঁও : কক্সবাজার জেলার ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নুর ...

Portrait of a professional, showcasing contact details and role information.