আগামী ডিসেম্বরে প্রথম দফায় হতে যাচ্ছে দেশের ৩২৩টি পৌরসভার মধ্যে ২৪৫টি পৌরসভা নির্বাচন। ইতোমধ্যে নির্বাচনকে ঘিরে সারাদেশের ন্যায় সরগরম হয়ে উঠেছে বান্দরবার পৌর এলাকা। চায়ের দোকান, রাজনৈতিক অফিস, মাঠে ময়দানে, প্রার্থীদের নিজস্ব অফিস সহ সর্বত্র এখন আলোচনার বিষয়বস্তু পৌরসভা নির্বাচন। কোন দল থেকে কে হতে যাচ্ছে মেয়র বা কমিশনার প্রার্থী? যদিও এখনো সংশয় রয়েছে নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে। দলীয় প্রতিক না নির্দলীয়ভাবে হবে পৌর নির্বাচন।
মাঠ যাচাই করে জানা যায়, বান্দরবান পৌরসভা নিবাচনে আওয়ামী লীগের প্রাথী হতে যাচ্ছেন বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক ও সাবেক পৌর চেয়ারম্যান ইসলাম বেবী, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি অমল কান্তি দাশ, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা শামসুল ইসলাম ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হক বাহাদুর।
একাধিক প্রার্থীর বিষয়ে দলের শীর্ষ নেতারা বলেন, সময়মত জনমত যাচাই, তৃণমূল নেতা কর্মীদের মতামত ও যোগ্যতার বিচার করে প্রার্থী চুড়ান্ত করা হবে। তবে আওয়ামী লীগের মধ্যে কোন দলীয় কোন্দল নেই বলে জানায় সিনিয়র নেতারা। যেহেতু গ্রুপিং নেই, এবারের পৌর নির্বাচনের জয় শতভাগ বলে জানালেন জেলা আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারক মহল।
এদিকে লবিং এবং দৌড়ঝাঁপের এগিয়ে আছে বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর চেয়ারম্যান ইসলাম বেবী। তার সৎ ও যোগ্যতার কারণে অল্প দিনে বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। অপরদিকে, দলের একাধিক শীর্ষ নেতা জানান, প্রার্থীর জয়প্রিয়তা বিচার করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এম.পি যাকে মনোনয়ন দিবেন তিনি আওয়ামী লীগের প্রাথী হিসাবে প্রতীক নিয়ে পৌর নিবাচন করবেন। এর মধ্যে কোন বিদ্রোহী প্রাথী থাকবে না। তবে তৃণমূল পর্যায়ে ভোটার এবং নেতাকমীরা জানান, পৌর এলাকার এমন একজন প্রার্থী দরকার যিনি এলাকার উন্নয়ন এবং আধুনিক পৌরসভা বির্নিমানে কাজ করবে। আওয়ামী লীগ চিন্তা ভাবনা করে ও জনপ্রিয়তা যাচাই করে প্রার্থী দিবেন এমনটাই আশা করেন তারা।
অপরদিকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ৪প্রার্থী নিয়ে বেকায়দায় আছে বিরোধীদল বিএনপি। তাছাড়া রয়েছে নানান মতাদর্শ ও গ্রুপিং। সবকিছু ভুলে এক হতে না পারলে নির্বাচনের নিজেদের প্রার্থী জয় অনেকটা অনিশ্চিত বলে জানালেন জেলা বিএনপি’র সর্বোচ্চ মহল। বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন, বান্দরবান জেলা বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও বর্তমান পৌর মেয়র জাবেদ রেজা, জেলা কৃষক দলের সভাপতি ইসলাম কোম্পানী, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সাবিকুর রহমান জুয়েল, পৌর বিএনপির সভাপতি নাছির উদ্দিন চৌধুরীর নাম শোনা যাচ্ছে।
তবে প্রচারণা, কর্মীদের সাথে লবিং এবং দৌড় ঝাপের এদিয়ে আছে বান্দরবান জেলা বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও বতমান পৌর মেয়র জাবেদ রেজা। তিনি বলেন, ৫বছর মেয়র থাকাকালীন এলাকায় রাস্তাঘাট ড্রেন নালা সহ বিভিন্ন উন্নয়ন মৌলিক কাজ সম্পাদন করেছি। আধুনিক পৌরসভা তৈরিতে ব্যাপক কাজ করা হয়েছে তার সময়কালে। উন্নয়ন কর্মকান্ড বিচার করে ভোটাররা ভোট দিলে এবং দলের নীতি নির্ধারক মহল থেকে মনোনয়ন দিলে বান্দরবান পৌরসভাটি দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে উপহার দিতে পারবো।
জনসংহতি সমিতির একক প্রাথী কেন্দ্রীয় সাংস্কতিক বিষয়ক সম্পাদক জলি মং মার্মার নাম ও শোনা যাচ্ছে। অন্য দিকে বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সভাপতি প্রসন্ন কান্তি তংচংগ্যা এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী মজিবর রহমান তারা দুই জন কোন প্রাথীকে সমর্থক দেন সেটা এখন দেখার বিষয়। পৌর নির্বাচনে প্রসন্ন এবং মজিব দিকে থাকিয়ে আছে কিছু প্রার্থী ও ভোটার।
তবে এলাকা যাচাই বাছাই, তৃণমূল কর্মীদের সাথে আলাপকালে এবং সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে আওয়ামী লীগ থেকে বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর চেয়ারম্যান ইসলাম বেবী এবং বিএনপি থেকে বান্দরবান জেলা বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও বর্তমান পৌর মেয়র জাবেদ রেজার বেশী জনপ্রিয়তা দেখা গেছে ভোটারদের মাঝে।
উল্লেখ্য, বান্দরবান পৌরসভা ১৯৮৪ সালে ২৫.৮৮ বর্গ কিলোমিটার জায়গা নিয়ে ’গ’ শ্রেণীর পৌরসভা হিসাবে গঠিত হয়। যাহা পরবর্তীতে ২০০১ সালে ‘ক’ শ্রেণীর পৌরসভাতে উন্নতি লাভ করে। শহরের চতুরদিকে পাহাড় বেষ্টিত এবং মাঝখানে সাংগু নদী বয়ে গেছে ।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"



You must be logged in to post a comment.