গিয়াস উদ্দিন ভুলু; টেকনাফ :
সীমান্ত নগরী টেকনাফ উপজেলা ও পৌরসভার নাফ নদীর উপকূলের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে টেকনাফ ২ বিজিবির সদস্যরা প্রতিনিয়ত উদ্ধার করছে লক্ষ লক্ষ মালিকবিহীন মরণ নেশা ইয়াবা। ইদানিং সেই ধারাবাহিকতার পাশাপাশি বিজিবি সদস্যরা আটক করছে লক্ষ লক্ষ টাকা মূল্যের প্রচুর পরিমাণ স্বর্ণের বার। তবে এই উদ্ধার করা স্বর্ণের বার গুলোও মালিক বিহীন বলে জানা যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্চুক সচেতন নাগরিকদের অনেকে দু:খ প্রকাশ করে বলে বেড়াচ্ছে, এত দিন বিজিবি সদস্যরা সীমান্ত এলাকায় রাত দিন পরিশ্রম করে উদ্ধার করেছে কোটি কোটি টাকা মূল্যের মালিকবিহীন ইয়াবা। ইতোমধ্যে মালিকবিহীন ইয়াবার উদ্ধারের পাশাপাশি একই নিয়মে আটক করছে প্রচুর পরিমাণ স্বর্ণের বার। তারা আরো অভিমত প্রকাশ করে বলেন, চোরাকারবারীরা কি এতই শক্তিশালী? প্রশাসনের সদস্যদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে বার বার ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে! এইভাবে প্রতিনিয়ত ধরা পড়বে লক্ষ লক্ষ মালিকবিহীন ইয়াবা ও স্বর্ণ। অথচ এই পাচারকারিরা বার বার থেকে যাবে আড়ালে প্রশাসনের সদস্যরা তাদেরকে আটক করতে সক্ষম হবে না। এইভাবে চলতে থাকলে টেকনাফ সীমান্ত এলাকা থেকে কোন দিনও ইয়াবা পাচার প্রতিরোধ করা সম্ভাব হবেনা। তাই আমাদের দাবি সীমান্ত প্রহরী বিজিবি সদস্যরা যেভাবে রাতদিন পরিশ্রম করে আটক করছে লক্ষ লক্ষ ইয়াবা। ঠিক সেই ভাবে যদি ইয়াবা ও স্বর্ণ পাচারকারি মূলহোতাদের আটক করলে অচিরেই এই সীমান্ত নগরী টেকনাফ থেকে ইয়াবা ও স্বর্ণ পাচার বন্ধ হয়ে যাবে।
বিজিবি সুত্রে জানা যায়, যে সমস্ত মালিকবিহীন ইয়াবা ও স্বর্ণ ধরা পড়ছে সেই সমস্ত পাচারকারিরা খুবেই চতুর ও সুকৌশল অবলম্বন করে থাকে। কারন এই চোরাকারবারীরা নিজস্ব আড়ালে থেকে নিত্য নতুন কৌশলে মিয়ানমার থেকে নিয়ে আসছে ইয়াবা ও স্বর্ণ। এই পাচারকারিরা বিজিবি সদস্যদের অভিযানের উপস্থিতি টের পাওয়ার সাথে সাথে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
সূত্রে আরো জানা যায়, গত ২৩ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টার দিকে টেকনাফ বিওপির সদস্যরা ট্রানজিট ঘাট সংলগ্ন এলাকায় স্বর্ণ পাচারের গোপন সংবাদে অভিযানে নামলে বিজিবি উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারিরা পালিয়ে যায় এবং উক্ত স্থান তল্লাশী চালিয়ে ৮টি মালিকবিহীন স্বর্ণের বার উদ্ধার করে। যার পরিমান ১১৪ ভরি। সেই ধারাবাহিকতায় ২৫ আগস্ট একই বিওপির সদস্যরা ভোর ৫টার দিকে টেকনাফ পৌরসভার হেচ্ছারখাল সংলগ্ন এলাকায় ইয়াবা পাচারের গোপন সংবাদ পেয়ে অভিযান চালায়। অথচ এই অভিযানে ও উদ্ধার হয়েছে মালিকবিহীন ১ লক্ষ ইয়াবা। কিন্তু বিজিবি সদস্যরা এই অভিযানেও কোন পাচারকারিকে আটক করতে সক্ষম হয়নি।
এ ব্যাপারে টেকনাফ সুশীল সমাজের বেশ কয়েকজন ব্যক্তি অভিমত প্রকাশ করে বলেন, এইভাবে প্রতিনিয়ত ধরা পড়বে কোটি কোটি টাকার মালিকবিহীন ইয়াবা ও স্বর্ণ। অথচ ধরা না পড়ে মূলহোতারা বার বার থেকে যাবে ধরাছোঁয়ার বাইরে এইভাবে চলতে থাকলে কোন দিন এই মাদকের কলংক থেকে মুক্তি পাবে না টেকনাফবাসী। আর সেই বদনাম মাথায় নিয়ে সারা জীবন হয়রানীর শিকার ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে টেকনাফের হত দরিদ্র মানুষ গুলো।
টেকনাফ ২ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্ণেল আবুজার আল জাহিদ ইয়াবা উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আমাদের সদস্যরা সীমান্ত এলাকাকে মাদক প্রতিরোধ করতে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে এবং আমরা সেই প্রতিরোধের ধারাবাহিকতায় আটক করতে সক্ষম হচ্ছি লক্ষ লক্ষ ইয়াবা ও পাচারকারিদের। কিছু কিছু অভিযানে বিজিবি উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারিরা সুকৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তবে এই সমস্ত ইয়াবা ও স্বর্ণ পাচারে যারা জড়িত তাদেরকে আমরা চিহ্নত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তার পাশাপাশি ইয়াবা ও স্বর্ণ পাচারকারি মূলহোতাদের চিহ্নিত করে অচিরেই আইনের আওয়াতায় নিয়ে আসা হবে।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"



You must be logged in to post a comment.