(শ্রেণী কক্ষের অভাব : গাদাগাদী করে চলছে পাঠদান)

গিয়াস উদ্দিন ভুলু; টেকনাফ :
টেকনাফ সাবরাং নয়াপাড়া নবী হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়টি বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। শ্রেণী কক্ষের অভাব, শিক্ষক সংকট, বসার জায়গা নেই, বেঞ্চের অভাব, গাধাগাদী ভাবে চলছে ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান। তার পাশাপাশি প্রতিনিয়ত বাড়ছে ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যা।
স্কুল সূত্রে জানা যায়, এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৮৫ সালে। প্রতিষ্ঠিত হওয়ার দীর্ঘ ৩১ বছর পার হলেও এই স্কুলটিতে তেমন কোন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। কিন্তু এই স্কুলে লেখাপড়া করে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে বিদ্যালয়ের সুনাম ও সফলতা বয়ে এনেছে অত্র এলাকার শত শত ছাত্র-ছাত্রী। তবে দু:খের বিষয় হচ্ছে এখানে, টেকনাফ উপজেলার অন্যন্যা উচ্চ বিদ্যালয়গুলো দিনের পর দিন উন্নয়নের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে। অথচ এই স্কুলটি রয়ে গেছে আগের মত।
১২ ফেব্রুয়ারী রোববার দুপুরে সরেজমিন গিয়ে বিদ্যালয়ের ভবনটি চারদিকে ফাটল ধরছে, ছাদের উপর থেকে ঝরে পড়ছে কংক্রিট। বিদ্যালয়ে পাঠদান করছে প্রায় ৬শত ছাত্র-ছাত্রী। কিন্তু সেই পরিমান শিক্ষক-শিক্ষিকা নেই।
জানা যায়, ৬ শত শিক্ষার্থী জন্য শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছে ১২জন। এর মধ্যে সরকারী এমপিওভুক্ত শিক্ষক মাত্র ৬ জন। বাকি ৬জন শিক্ষক প্যারা শিক্ষক। এতে প্রতিদিন পাঠদানে বাধাগ্রস্ত, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থী ও অত্র এলাকার অভিবাবকরা। স্কুলটি পরিদর্শন করে আরো দেখা যায়, শ্রেণীকক্ষে প্রয়োজনীয় বেঞ্চ না থাকায় ছাত্র-ছাত্রীদের বসার জায়গা সংকট, গাদা-গাদি করে চলছে পাঠদান। বিদ্যালয়ে পাসের হার শতভাগ এবং প্রতিবছর এই স্কুল থেকে জে.এস.সি, এস.এস.সি পরীক্ষায় ছাত্র-ছাত্রীরা সফলতার সাথে শত ভাগ পাস করে গৌরব অর্জন করছে। কিন্তু সে তুলনায় এই বিদ্যালয়টির কোন প্রকার সুযোগ সুবিধা বাড়েনি। প্রতিদিনের পাঠদান চলছে শিক্ষক স্বল্পতা, শ্রেণিকক্ষ ও বসার বেঞ্চ স্বল্পতাসহ নানা সমস্যা মাথায় নিয়ে। প্রয়োজনের তুলনায় এই স্কুলটিতে টয়লেটেরও অভাব রয়েছে।
বর্তমানে এই বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা ১৬৬, ৭ম শ্রেণীতে ১৩০, ৮ম শ্রেণীতে ১০৫, ৯ম শ্রেণীতে ৮৮, ১০ম শ্রেণীতে ৭৯জন। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের পুরাতন ভবনের সঙ্গে ৩১ বছরের মাথায় যুক্ত হয়েছে একটি শ্রেণী কক্ষ। এরপর থেকে এই বিদ্যালয়টিতে আর কোন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।
বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা দু:খ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের স্কুলের ভবনটি মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে। আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই স্কুলে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছি। শিক্ষক সংকটের অভাবে পাঠদানেও সমস্যা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। শ্রেণী কক্ষে বেঞ্চের অভাব, ক্লাস রুমে বসার জায়গা নেই। তাই আমাদের দাবি গরীবের বন্ধু স্থানীয় এমপি আলহাজ আবদুর রহমান বদির সহযোগীতায় সরকারী ভাবে আমাদের স্কুলের বিভিন্ন সমস্যা গুলো সমাধান করলে আমরা সঠিক ভাবে পাঠদানের মাধ্যমে অত্র এলাকার সুনাম ও অত্র স্কুলেটি আরো বেশি সফলতা অর্জন করতে পারবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উদয় শেখর দত্ত জানান, এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্টিত হয়েছিল ১৯৮৫ সালে। ১৯৯৫ সাল থেকে আমি অত্র বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। পরিশেষে গত ২০১৫ সালে প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্বভার গ্রহন করি। এই স্কুলটির নানা সমস্যায় জর্জরিত হলেও ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ালেখার মান আমরা সঠিক রাখতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের এই বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে অনেক মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী উচ্চ শিক্ষায়-শিক্ষিত হয়ে সফলতা বয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু এই উপজেলার অন্যন্যা শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের মত ধারাবাহিক উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। তার পাশাপাশি প্রতিনিয়ত বাড়ছে ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যা। শ্রেণী কক্ষের অভাব, বেঞ্চের অভাব, শিক্ষক সংকট। এতে অনেক কষ্টের মধ্যে চলছে পাঠদান। তাই আমাদের আকুল আবেদন মাননীয় এমপি আলহাজ আবদুর রহমান বদি একটু সুনজর দিলে অত্র স্কুলের নানা সমস্যা গুলো সমাধান করা সম্ভব হবে। তার পাশাপাশি মাননীয় এমপির সহযোগীতায় সরকারী উন্নয়নের ধারাবাহিকতা আমাদের স্কুলে পৌঁছে যাবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফেরদৌস হোসেন বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সারা বাংলাদেশে শিক্ষার হারকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান গুলোতে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছে। তার পাশাপাশি টেকনাফ উপজেলার অনেক শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান উন্নয়নের দ্বার-প্রান্তে পৌঁছে গেছে। তিনি আরো বলেন, সাবরাং নয়াপাড়া নবী হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ে গত অর্থ বছরের বাজেটে ৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য একটি ছোট ভবন তৈরী করা হয়েছে। সরকারী উন্নয়নের প্রক্রিয়া অনুযায়ী বাকি সমস্যা গুলো সমাধান করা হবে।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.