
অনলাইন ডেস্ক :
বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথেই বিভিন্ন কারণে আমাদের ত্বকে মেছতার সমস্যায় অনেকেরই হয়ে থাকে। মেছতার কারণে মুখের সৌন্দর্য কমে যায় অনেকটাই। বিশেষ করে যেসব নারী ও পুরুষদের বয়স ৩৫ বেশি তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি দেখা দিতে পারে। এছাড়া যারা ত্বকের যত্নে অবহেলা করেন তাদের ক্ষেত্রেও এই সমস্যা হতে পারে। তবে মেছতা হওয়ার অন্যতম কারণ অপরিচ্ছন্ন ত্বক। আসুন জেনে নেই ঘরোয়া উপায়ে মেছতা দূর করা ও ত্বক পরিষ্কার করার উপায়।
মেছতা হলো ছোট ছোট বাদামি রঙের ছোপ ছোপ দাগ যা বেশিরভাগ সময় মুখের ত্বকে, হাতের বাহুতে, ঘাড়ে বা পিঠে দেখা যায়। আসলে শরীরের যে অংশগুলো সূর্য্যের আলোর সংস্পর্শে থাকে সেসব জায়গায় মেছতা দেখা যায়। বেশিক্ষণ রোদে থাকলে শরীরের কিছু কিছু অংশের ত্বকে মেলানিন বেড়ে যায় যার ফলে সেসব জায়গার রঙ গাঢ় হয়ে যায়। যা দেখতে বাদামি ছোপ ছোপ দাগের মতো মনে হয়। সুর্য্যের আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মি শরীরে মেলানিন বাড়িয়ে দেয়। যাদের গায়ের রঙ ফর্সা, চুল একটু লালচে তাদের জেনেটিক্যালি মেছতা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
বার্থ কন্ট্রোল পিলস, প্রেগ্ন্যান্সি আমাদের হরমোনে ব্যঘাত ঘটাতে পারে। ত্বকের একটি নির্দিষ্ট নিয়ম নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে যার ফলে মেছতা দেখা দিতে পারে।
আমাদের ত্বকে মেছতার দাগ রীতিমতো বিব্রতকর এবং সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত একটি বিষয় এবং ত্বকে মেছতা এবং মেছতার দাগ অত্যন্ত দীর্ঘসময় ধরে রয়ে যায়।

লেবু :
ত্বককে উজ্জ্বল করতে ও ত্বকের কালো দাগ দূর করতে লেবু ব্যবহার করতে পারেন। লেবু রসে উচ্চমাত্রার সাইট্রিক এসিড থাকায় লেবু ব্যবহারের ফলে ত্বকের অধিক তেল শোষণ করে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ থেকে ত্বককে রক্ষা করে।
একটি লেবু স্লাইস করে কেটে নিন। লেবুর কাঁটা অংশের ওপর এক চা-চামচ মধু দিয়ে মুখে মেছতার দাগে এবং সম্পূর্ণ মুখে ভালভাবে ৩ মিনিট স্ক্রাব করে নিন। তাজা লেবুর রস ত্বকে লাগিয়ে রাখুন ১৫ থেকে ২০ মিনিট। এটি প্রতিদিন অথবা সপ্তাহে একদিন ব্যবহার করুন। যাদের ত্বক সেন্সিটিভ তারা একদিন পর পর ব্যবহার করলে ভালো।লেবুর রস ব্লিচিং হিসেবে কাজ করে ও ত্বকের নানারকম দাগ দূর করে।

অ্যালোভেরা :
এটি ত্বককে ময়েশ্চারাইজড করে ত্বককে ভিতর থেকে হাইড্রেট রাখতে সাহায্য করে। অ্যালোভেরা জেল ত্বকে লাগিয়ে রাখুন। সম্পূর্ণ জেল ত্বকে শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি সপ্তাহে দু’বার ব্যবহার করতে পারেন।অ্যালোভেরা জেল দুই চা চামচ, এক চা চামচ লেবুর রস এবং চিনি একসাথে মিশিয়ে হালকাভাবে ত্বকে ঘষুন। ফ্রেশ অ্যালোভেরা নিয়ে মেছতার জায়গায় লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট মাসাজ করুন। এরপর ধুয়ে নিন। অ্যালোভেরা জেল আপনি চাইলে সারারাত ও রেখে দিতে পারেন। সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন এটি ব্যবহার করুন।
আমন্ড অয়েল :
মেছতার দাগ দূর করতে তেলও কার্যকর। আমন্ড প্রাকৃতিক ব্লিচিং হিসেবে কাজ করে। অল্প আমন্ড অয়েল গরম করে নিন। এবার ২ থেকে ৩ ফোঁটা অয়েল আঙ্গুলে লাগিয়ে নিয়ে মেছতার জায়গায় কিছুক্ষণ ম্যাসাজ করুন অথবা হালকা গরম করে মেছতা দাগের ওপর লাগিয়ে ম্যাসাজ করুন। ঘন্টা খানেক রেখে ধুয়ে নিন। এতে থাকা ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন ই এবং ক্যারোটিনয়েডস মেছতার দাগ দূর করবে। আঙুলের সাহায্যে ম্যাসাজ করলেই উপকার পাবেন।
অলিভ অয়েল :
মেছতা নিরাময়ে এর চেয়ে ভালো আর কিছু হতে পারে বলে মনে হয় না। প্রথমে তেল গরম করে আঙ্গুলের টিপ এ অল্প তেল নিয়ে সারামুখে মাসাজ করুন। যতক্ষণ না ত্বক তেল শুষে নেয় ততক্ষণ মাসাজ করুন। এবার ঘন্টাখানেক রেখে হালকা উষ্ণ পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। আপনি চাইলে দিনে ২-৩ বার আপনার মেছতার উপর অলিভ অয়েল লাগাতে পারেন। এতে আপনার ত্বক ময়েশ্চারাইজড ও থাকবে।

টক দই :
টক দই মেছতার দাগ অতি সহজেই দূর করতে পারে। ১ টেবিল চামচ টক দই ও ১ চা চামচ মধু মিশিয়ে মাস্ক তৈরি করে নিন। এবার পরিষ্কার মুখে লাগিয়ে ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন। ১০ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। এই মাস্কটি প্রতিদিন একবার করে ব্যবহার করতে পারেন। মেছতার দাগ দুর করে ফর্সা ত্বক করার জন্য একদম পারফেক্ট কম্বিনেশন হলো টকদই ও মধু।
চন্দন পাউডার :
চন্দন পাউডার এর এন্টি এজিং এবং অ্যান্টিসেপটিক উপাদান ত্বক থেকে মেছতা এবং মেছতার দাগসহ বিভিন্ন ধরনের দাগ চিরতরে দূর করতে সাহায্য করে। চন্দনের নির্যাস তাকে গভীর থেকে উজ্জ্বল ও ফর্সা করে তোলে।
মুলতানি মাটি :
মুলতানি মাটির সাথে গোলাপজল, সবুজ চা, শসার রস, লেবুর রস ও পানি মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে ত্বকে লাগিয়ে রাখুন। ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। মুলতানি মাটির সাথে টমেটোর রসও মিশিয়ে ত্বকে লাগাতে পারেন। এটি সপ্তাহে দুই দিন ব্যবহার করতে পারেন।
অভিজ্ঞ ডাক্তারের মতে :
মেছতা কমানোর জন্য কেমিক্যাল পিলিংও করা যেতে পারে। এছাড়া মেছতা দূর করতে বিটা হাইড্রোক্সি অ্যাসিড অর্থাৎ সলিসাইলিক এসিড অথবা এজিলাইক অ্যাসিড ব্যবহার করতে পারেন। এগুলো ব্যবহার করলে দাগ ধীরে ধীরে সরে যায়। তবে মেছতা থেকে বাঁচার জন্য চিকিৎসা ও সূর্য থেকে সুরক্ষা হলো প্রধান উপায়।
এখন বাজারে নতুন ওষুধ আসছে হাইড্রোকুইনন। আমরা প্রথমে এটা দিয়ে মেছতা দূর করার চেষ্টা করি। এটা খুবই ফলপ্রসূ। কিন্তু এটা ৩-৪ মাসের বেশি ব্যবহার করা ঠিক না। এছাড়া ‘মেটাকরটিল লাইট ক্রিম’ নামের ইন্ডিয়ান একটি ওষুধ পাওয়া যায়, সেটা লাগাতে পারেন।
মুখের সৌন্দর্য ধরে রাখতে চাইলে নিয়মিত মুখের ত্বকের সঠিক যত্ন নেয়া প্রয়োজন। ব্র্যান্ডের ক্রিমে মেছতার দাগ দূরীকরণে লোভনীয় অফার থাকে। তবে তা বেশির ভাগই সাময়িক সমাধান দেয়। ঘরেই বিউটি টিট্রমেন্ট নিন। নিয়মিত পরিচর্যায় চলে যাবে মেছতার দাগ। মেছতার দাগ কখনওই রাতারাতি কমবে না। তাই ধৈর্য্যের সাথে যত্ন চালিয়ে যান। দেখবেন আপনি ফল পাবেন।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.