ভয়াবহ তুষার ঝড়ের কবলে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ইতোমধ্যে ৮ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে সড়ক দুর্ঘটনায়। শুক্রবার দিবাগত রাত থেকে শুরু হওয়া ঝড়ের কবলে পড়ে অনেকে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন বলে সিএনএনের এক সংবাদে বলা হয়েছে।
তুষারপাতে দেশটির বিভিন্ন রাজ্য ঢেকে গেছে দুই ফুট বরফের আস্তরণে। এ ঝড়ে দেশটির উত্তর-পূর্ব উপকূলের ডজনেরও বেশি রাজ্যের ৮ কোটির বেশি মানুষ ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
ভার্জিনিয়া রাজ্যের পুলিশ ৯৮৯টি দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ি উদ্ধার করেছে। এছাড়া তুষার ঝড়ের কারণে ৭৯৩টি অকেজো গাড়ি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি ও বাল্টিমোরে ঝড়ের আঘাত অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে বেশি।
ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক, টেনেসি, উত্তর ক্যারোলিনা, ভার্জিনিয়া, ম্যারিল্যাণ্ড, চার্লস্টোন, পেনসিলভানিয়াসহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। এসব রাজ্যে অধিবাসীদের ঘর থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এ ঝড় ওয়াশিংটন শহরের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছে দেশটির জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে রোববার পর্যন্ত ৩০ ইঞ্চি পরিমাণ তুষারপাতের রেকর্ড হতে পারে।
মেরিল্যান্ডের গভর্নর ল্যারি হগ্যান বলেন, ‘৯০ বছরের মধ্যে এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা যায়নি। ১৯২২ সালের পর এটি হচ্ছে সবচেয়ে মারাত্মক তুষারঝড়।’ ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের পরিচালক লুইস উসেলিনি এ ঝড়কে খুবই বিপজ্জনক বলে বর্ণনা করেছেন। যে কোনো ধরনের প্রয়োজনে সাড়া দেওয়ার জন্যে ওয়াশিংটন ডিসিতে ৩০০ এবং নিউ ইয়র্ক সিটিতে ন্যাশনাল গার্ডের ৬০০ সদস্যকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পুলিশ এবং দমকল বাহিনীতে ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে শুক্রবার ও শনিবার নিউ ইয়র্ক ও ফিলাডেলফিয়ার বিমানবন্দরের ৬ হাজার ৩০০ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। শুধু শুক্রবারই বিলম্বিত হয়েছে ৭ হাজার ফ্লাইট। এই তুষারঝড়ের মাত্রা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ওয়াশিংটন শহরের সাবওয়েসহ সব পরিবহন। ঝড় কবলিত রাজ্যের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এমনকি তুষারপাতের কারণে সব কর্মসূচি বাতিল করে হোয়াইট হাউজেই অবস্থান করবেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
দেশটির জাতীয় আবহাওয়া দপ্তরের পরিচালক লুইস উসেল্লিনি জানিয়েছেন, তীব্র ঝড়ো হাওয়া, তুষারপাত, অভ্যন্তরীণ বন্যা হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। এই ঝড় এতোটাই বিপজ্জনক হতে পারে যে এতে প্রায় ৫ কোটি মানুষের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরো জানিয়েছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বিপজ্জনক ঝড় স্যান্ডির মত হবে না। কিন্তু অনেকটাই তীব্র হবে। এ ঝড়ে অনেক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তুষারপাতের কারণে শুক্রবার থেকেই সব শপিংমল, খাবারের দোকান, রেস্টুরেন্ট বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া শুক্রবার বিকেলের মধ্যেই সব অফিস এবং সরকারি কার্যালয়ের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।
সূত্র: প্রিয়ডটকম,ডেস্ক।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"



You must be logged in to post a comment.