
দীপক শর্মা দীপু; কক্সভিউ :
সদ্য একাদশ সংসদ নির্র্বাচনে কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সোহেল সরওয়ার কাজলের ভূমিকা বিতর্কিত দাবি করে বিবৃতি দিয়েছেন সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল সমর্থিত নেতাকর্মীরা।
অন্যদিকে রামু উপজেলা নির্বাচনে এমপি কমলের আপনজন রিয়াজ উল আলম এবার মনোয়ন পাচ্ছেননা, তাই এমন মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বলে জানান সোহেল সরওয়ার কাজল। এবার উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পরোক্ষভাবে রামুর দুই ভাই কাজল-কমলের লড়াই শুরু হয়েছে বলে জানান স্থানীয় নেতা কর্মীরা।
স্থানীয় নেতা কর্মীদের দাবি সদ্য একাদশ সংসদ নির্বাচনে সোহেল সরওয়ার কাজল এবার প্রকাশ্যে তার ছোট ভাই সাইমুম সরওয়ার কমলের বিপক্ষে অবস্থান না নিলেও কৌশলে বিরোধীতা করেন। অন্যদিকে বড় ভাই কাজলের সেই বিরোধীতার জবাব দিতে কৌশলে অবস্থান নিয়েছেন কমল। আর মোক্ষম সময় হিসেবে উপজেলা নির্বাচনকে বেছে নিয়েছেন। আর সাধারণ মানুষ অপেক্ষা করছেন- উপজেলা নির্বাচনে বড় ভাইয়ের জয় না ছোট ভাইয়ের হচ্ছে। তবে সংসদ নির্বাচনে নানা প্রতিকুলতার মধ্যেও ছোট ভাইয়ের জয় হয়েছিল।
তারই একটি অংশ হচ্ছে রামু উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রিয়াজ উল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নির্বাচন পরবর্তি সভা। ১৮ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত এ সভায় বক্তারা বলেন, সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ এর আগের দুই রারের নির্বাচনে রামু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সোহেল সরওয়ার কাজল ও সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম মন্ডল নৌকা প্রতীকে ভোট দেয়নি। তারা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে বিভিন্ন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বলেন- কমল নিশ্চিত হারবে তাই নৌকায় ভোট দিয়ে লাভ নাই।
উপজেলা আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভা ডেকে সাধারণ সম্পাদক শামশুল আলম মন্ডল আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে বেফাস বক্তব্য দিয়ে আওয়ামী লীগের ৫ বছর শাসন আমলে রামুতে কোন উন্নয়ন হয়নি বলে উল্লেখ করেছিলেন।
সে সাথে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিপক্ষে বক্তব্য দিয়ে প্রথম আলো প্রত্রিকার মাধ্যমে নৌকার প্রার্থীকে সন্ত্রাসী বানানোর অপচেষ্টা করে। অথচ নৌকার প্রার্থী ছিলেন এলাকায় ক্লীন ইমেজের একজন জনপ্রিয় ব্যক্তি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারকে স্বৈরাচারী সরকার উল্লেখ করে বিভিন্ন জনসভায় প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়ে বিএনপি-জামায়াত নেতাদের উস্কানি দিয়েছিলো।
সভায় বক্তারা আরো বলেন, সংসদ নির্বাচন চলাকালীন বিএনপি প্রার্থী লুৎফর রহমান কাজলের সাথে রামু উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সোহেল সরওয়ার কাজলের কমপক্ষে একশ বার মোবাইল কানেকশনের কথা আমরা বিশ্বস্থ সূত্রে জানতে পেরেছি, যা তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসবে। অন্যদিকে নির্বাচন চলাকালীন সময়ে বিএনপি প্রার্থী লুৎফর রহমান কাজলের বাসায় রামু উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামশুল আলম মন্ডলের প্রায় সময় আসা যাওয়া এলাকাবাসী দেখেছে। সাংগঠনিকভাবেও রামু উপজেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের একাধিক কমিটি রয়েছে। দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের বাদ দিয়ে নিজস্ব লোক দিয়ে তারা পকেট কমিটি গঠন করায় বিগত উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে রামু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সোহেল সরওয়ার কাজলের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
এছাড়াও বিভিন্ন অপকর্মের কারনে রামু উপজেলা আওয়ামী লীগের বিতর্কিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের জনপ্রিয়তা বর্তমানে শূন্যের কোটায়। এমতাবস্থায় উপমহাদেশের প্রাচীনতম ও ঐতিহ্যবাহী সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন রাখতে বর্তমান বিতর্কিত ও মেয়াদোর্ত্তীন কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি গঠনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভাপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি জোর দাবী জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি, রামু রাজারকুল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাফর আলম চৌধুরী, জেলা আওয়ামীলীগের মহিলা সম্পাদক ও রামু উপজেলা পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মুসরাত জাহান মুন্নি, রামু উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যার আলী হোসেন, কক্সবাজার জেলা পরিষদ সদস্য শামসুল আলম চেয়ারম্যান, নুরুল হক কোম্পানী, চাকমারকুল ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সিকদার, ফতেখাঁরকুল ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদুল আলম, খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাংবাদিক আবদুল মাবুদ, দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান ইউনুচ ভূট্টো, কাউয়ারখোপ ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ, রাজারকুল ইউপি চেয়ারম্যান মুফিজুর রহমান, ঈদগড় ইউপি চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমদ ভূট্টো, জোয়ারিয়ানালা ইউপি চেয়ারম্যান কামাল শামসুদ্দিন আহমেদ প্রিন্স, কচ্ছপিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু ইসমাইল মোঃ নোমান, গর্জনিয় ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম, রশিদনগর ইউপি চেয়ারম্যান এমডি শাহ আলম, কাউয়ারখোপ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও রামু উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হক চেয়ারম্যান, খুনিয়াপালং ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল গনি সওদাগর, জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এমএম নুরুচছাফা, ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ভূট্টো।
এদিকে এই সভাকে সোহেল সরওয়ার কাজল প্রতিহিংসাপরায়ণ সভা অবহিত করে বলেন, তাদের দেয়া বিবৃতিতে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে এবার তাদের কেউ মনোনিত হতে পারছেনা। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আমাকে কোন প্রকার ঘায়েল করতে পারলে তাদের পথ সহজ হবে। এটা ভাবলে তাদের মনে করতে হবে তারা বোকার রাজ্যে বসবাস করছে। মিথ্যাচার করারও একটা সীমাবদ্ধতা থাকতে হয়। তারা মিথ্যাচার করেছে যা হাস্যকর। একটা অবুঝ শিশুও বুঝে নিতে পারবে সামনে উপজেলা নির্বাচন, তাই মনোয়ন না পাওয়ার ভয়ে তারা পাগল হয়ে উঠেছে, প্রলাপ বকছে। কারণ সংসদ নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনার নৌকা জিতানোর জন্য আমার অবস্থান কি ছিল তা কেন্দ্রিয় আওয়ামী লীগ যেমন জানেন তেমন জেলা আওয়ামী লীগও অবহিত আছে। আমি কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক দলীয় শৃঙ্খলা মেনে এবার সংসদ নির্বাচনে নৌকাকে জিতিয়ে এনেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও জানেন নৌকাকে বিজয়ী করতে আমার অবস্থান সুস্পষ্ট ছিল।
তিনি বলেন, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আমি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছি। এত বছর পর্যন্ত কমিটি নিয়ে কোন আপত্তি উঠেনি। এখন কমিটির মেয়াদের শেষের দিকে এসে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করার পাঁয়তারা করছে। এটাও এক প্রকার হাস্যকর। এছাড়া অন্যান্য যে সব অভিযোগ করা হয়েছে তা উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও ভূঁয়া।
প্রথম আলোয় কোন বক্তব্য দেয়া হয়নি। বক্তব্য না নিয়ে আমার বক্তব্য ছাপানো হয়েছে। এতে সম্পৃক্ততা নেই।
আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে দলীয় নেতা কর্মীরা, সাধারণ জনগণ, সুশীল সমাজ আমাকে নিরংকুশ সমর্থন দিয়েছেন। এছাড়াও কেন্দ্রিয়ভাবে আমার বিষয়ে পজেটিভ রয়েছেন নেতারা। আমার এমন অবস্থা নিশ্চিত হওয়ার পর তারা হীনমন্যতায় ভুগছেন। তিনি এই ব্যাপারে কাউকে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ করেন।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.