রাশেদ রিপন; কক্সভিউ :
জেলের অভ্যন্তরে কারা বিদ্রোহ, জন্ডিস হামলা সহ নানা দুর্ঘটনার শংকায় দেশের প্রত্যেকটি কারাগারে রেড এলার্ট জারি করা হয়েছে শুক্রবার দিবাগত রাত থেকেই। এর ফলে কারা কর্তৃপক্ষের বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করার কথা থাকলেও কক্সবাজার জেলা কারাগারের চিত্র ছিল ভিন্ন। অভিযোগ উঠেছে, বাড়তি নিরাপত্তা দুরের কথা বরং অন্যান্য সময়ের চেয়ে ঢিলাঢালাভাবেই চলছে কারা কার্যক্রম।
সরেজমিনে গিয়ে রবিবার সকাল ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত দেখা যায়, কক্সবাজার কারাগারের বাইরে বা ফটকের অভ্যন্তরের পরিবেশে বুঝার কোন উপায় ছিল না কারাগারে রেড এলার্ট চলছে। কোথাও বাড়তি নিরাপত্তার ছাপ পর্যন্ত ছিল না। অন্যান্য সময়ের চাইতে স্বাভাবিকভাবেই চলছে। কারাগারের প্রধান ফটকে চেক ছাড়াও মোবাইল ঢুকানো নিষিদ্ধ থাকলেও অত্যন্ত দুঃখের ব্যাপার হল প্রধান ফটকটি দীর্ঘ সময় ধরে খোলা ছিল। ছিল না কোন চেকের ব্যবস্থা। অনায়াসেই মোবাইলে কথা বলা সহ যে যার মত বিচরণ করছে প্রধান ফটকের অভ্যন্তরে। দায়িত্বরত কারা পুলিশ ব্যস্ত ছিল দর্শণার্থীদের কাছ থেকে চুক্তির মাধ্যমে ‘অবৈধ টাকা’ আদায়ে। হরেক রকমের সুবিধে পাওয়া যায় এসব কারা পুলিশের কাছে। লোভনীয় এসব অফারের রেইটের ক্ষেত্রেও রয়েছে পার্থক্য। কারা কর্তৃপক্ষের নিয়ম মত টিকেট নিয়ে আসামীর সাথে সাক্ষাত্ করতে দর্শনে গেলে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হবে। আর পুলিশের সাথে চুক্তি করলে কোন রকম অপেক্ষা ছাড়াই সহজে সাক্ষাত্ করা যায় আসামীর সাথে। প্রতিজন ১০০ টাকা। আর অফিস কলের মাধ্যমে দেখা করলে ১৮০০-২০০০ টাকা দিতে হবে ত্রিশ (৩০) মিনিটের জন্য।
সরেজমিনে জানা গেছে, কারা পুলিশ মোবারক, সুখেন্দু ছাড়াও অনেকেই এসব দর্শণার্থীদের সাথে চুক্তি করেন। ভারুয়াখালীর ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা ছৈয়দ নুর জানান, ৫ টাকায় টিকেট নিয়ে সকাল ৯টা থেকে অপেক্ষা করেছি। কয়েক ঘন্টা অপেক্ষার পর মোবারক নামের পুলিশ সদস্যকে ১০০ টাকা দিয়ে ২ মিনিটের মধ্যে আমার বাবার সাথে দেখা করেছি।’ এছাড়া রামুর রাজারকুল থেকে আসা লায়লা বেগম জানান-‘ছেলের সাথে একান্ত বসে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করলে দায়িত্বরত সুখেন্দু জানান, চুরি চামারি করে দেখাতে হবে তাই ১৮০০ টাকা লাগবে। পরে তার কথামত টাকা পরিশোধ করেই ছেলের সাথে সাক্ষাত্ করেছি।’ দর্শণার্থী বেশে এ প্রতিবেদক কারা পুলিশ সুখেন্দুর সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি জানান, টিকেট ৫ টাকার ও আছে তবে আমার কাছে ইমার্জেন্সি টিকেট যা ১০০ টাকা আর অফিস বল কনট্রাক্ট করা হয়।’ তবে মূল্যের দিক থেকে কিছুটা ছাড় দেয়ার অনুরোধে তিনি বলেন, ‘মানুষ বাসে করেও যাতায়াত করে বিমানেও যাতায়াত করে। বিমানে একঘন্টা আর বাসে লাগে ৬ (ছয়) ঘন্টা এটা বুঝতে হবে।’ এভাবেই ক্যান্টিনের গলাকাটা বাণিজ্যসহ যে যার মত আর্থিক লেনদেনে ব্যস্ত। নিরাপত্তার অজুহাতে অবৈধ লেনদেনের প্রতিই বেশি ঝোঁক দেখা গেছে কারা পুলিশের। সময় গড়িয়ে দায়িত্ব পরিবর্তন হলে ও চিত্র সেই পুরোনো। সময় পাল্টায় চিত্র পাল্টায় না। এভাবেই নামের রেড এলার্ট ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ রেখে দিল কক্সবাজার জেলা কারা কর্তৃপক্ষ। দর্শণার্থীসহ জেলার সচেতন মহলের দাবী শীঘ্রই নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি করতে হবে কারাগারের। অন্যথায় এসব বিষয়ে কক্সবাজার কারাগারের। অন্যথায় যে কোন সময় বড় ধরণের ঘটনারও আশংকা করছেন তারা। তবে এসব বিষয়ে কক্সবাজার কারাগারের জেলার আনোয়ার হোসেন গতরাতে জানান-‘দেশব্যাপী কারাগারে চলমান রেড এলার্টের ব্যাপারে আমরা সজাগ রয়েছি। কারাগারের ভিতরে ও বাইরে যথেষ্ট সংখ্যক নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি জানান-বিশেষ করে রাতের বেলায় র্যাব ও পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। প্রতি ঘন্টায় র্যাব টহলে আসে।
কক্সবাজার কারাগারে ২ জন ভয়ংকর জেএমবি জঙ্গী, বিজিবির দন্ডিত একজন সহ রামুর বৌদ্ধ মন্দিরে হামলার ঘটনার মূল হোতা বলে কথিত নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান সাবেক শিবির ক্যাডার তোফাইল আহমদ সহ আরো অনেক স্পর্শকাতর মামলার আসামী রয়েছে। তিনি বলেন-দর্শণার্থীদের মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশী করেই বন্দীদের দেখার সুযোগ করে দেয়া হয়। এক্ষেত্রে অবৈধ লেনদেনের কথা তিনি অস্বীকার করেন।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"



You must be logged in to post a comment.