সাম্প্রতিক....
Home / প্রচ্ছদ / সাম্প্রতিক... / রোহিঙ্গা বস্তিতে নিরব চাঁদাবাজি

রোহিঙ্গা বস্তিতে নিরব চাঁদাবাজি

হুমায়ুন কবির জুশান; উখিয়া :

পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে কুতুপালং বস্তিতে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের টার্গেট করে চলছে নিরব চাঁদাবাজি। স্বঘোষিত বস্তি ম্যানেজম্যান্ট কমিটির সভাপতি নামধারী আবু ছিদ্দিকের ছত্রছায়ায় মইগ্যা নামের এক রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী ও তার ৪ সন্ত্রাসী ছেলে বিভিন্ন অজুহাতে রোহিঙ্গাদের নিকট থেকে চাঁদা আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার রাতে চাঁদাবাজির কর্তৃত্ব নিয়ে পিতা-পুত্রের মধ্যে দ্বন্দ্বের জের ধরে মইগ্যাকে কুপিয়ে জখম করেছে তার সন্ত্রাসী ছেলে নুর হোসেন (৩৫)। সোমবার বস্তি এলাকা ঘুরে বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গার সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য বখতিয়ার আহমদ জানান, বস্তিতে বসবাসরত উলা মিয়ার ছেলে কালা মিয়া প্রকাশ মইগ্যা (৪৮) একজন কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ। সে তৎকালীন বস্তি ম্যানেজম্যান্ট কমিটির সেক্রেটারী রাকিবুল্লাহর পিতা নাজমুল হক (৫৫)কে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা করেছে।

এব্যাপারে রাকিবুল্লাহ বাদী হয়ে উখিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করার পর থেকে মইগ্যা বস্তিতে আত্মগোপন করে।

তিনি আরো জানান, মইগ্যা ও তার ৪ সন্তান বস্তি এলাকায় নিরব চাঁদাবাজি করে আসছিল দীর্ঘদিন থেকে। তাদের কথা মতো চাঁদা না দেওয়ায় বেশ কয়েকটি রোহিঙ্গা পরিবারকে বস্তি ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে।

নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ডাক্তার আনোয়ার ফয়সাল জানান, একাধিক মামলার আসামী কালা মিয়া ওরফে মইগ্যা বস্তিতে আত্মগোপন করে বস্তি ম্যানেজম্যান্ট কমিটির সভাপতি আবু ছিদ্দিকের সহযোগীতায় বিভিন্ন অজুহাত ধরে অসহায় রোহিঙ্গাদের নিকট থেকে চাঁদাবাজি করছে। চাঁদা না দেওয়ায় ঝুঁপড়িঘর ভাংচুর ও মারধর করা হচ্ছে। বিষয়টি কাউকে জানালে সংশ্লিষ্ট রোহিঙ্গাকে স্বপরিবারে বস্তি ছাড়তে হচ্ছে। যে কারণে নিরব চাঁদাবাজির ঘটনা নিরবে থেকে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অসহায় রোহিঙ্গারা।

শনিবার রাতে চাঁদাবাজির কর্তৃত্ব নিয়ে মইগ্যা ও তার ছেলে নুর হোসেনের মধ্যে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে সন্ত্রাসী ছেলে নুর হোসেন তার পিতা মইগ্যাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেছে। গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বস্তি ব্যবস্থাপনা কমিটির সেক্রেটারী মোহাম্মদ নুর এঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মইগ্যা ও তার ৪ ছেলের কাছে বস্তির রোহিঙ্গারা জিম্মি হয়ে পড়েছে।

উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল খায়ের জানান, হত্যা ও একাধিক মামলার আসামী কালা মিয়া ওরফে মইগ্যাকে ধরতে পুলিশ ইতিপূর্বে ক্যাম্প এলাকায় বেশ কয়েকবার অভিযান চালিয়েছে।

Share

Leave a Reply

x

Check Also

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত

—V প্রেস বিজ্ঞপ্তি :কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসের ...

Portrait of a professional, showcasing contact details and role information.