
নিজস্ব প্রতিনিধি; লামা-আলীকদম :
পার্বত্য জেলা লামা থানার এসআই মোঃ আলমগীর, সাতকানিয়ার বহিরাগত সন্ত্রাসী শওকত আকবর ও কিশোর গ্যাং লিডার মোজাম্মেল এর বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে লামা উপজেলা সর্বস্তরের জনসাধারণ। মিথ্যা মামলা ও একি মামলার জব্দকৃত আলামত জনসম্মুখে নষ্ট ও বিক্রির পরেও আইনী কোনো সহযোগিতা না পাওয়ার প্রতিবাদে এ মানববন্ধন করা হয়।
শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা লামা উপজেলা পরিষদ সামনে সড়কে মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বান্দরবানের লামা উপজেলায় আদালতের জব্দের নির্দেশনা অমান্য করে জব্দকৃত গর্জন কাঠ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলমগীর চৌধুরীর বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় লামার মেরাখোলা এলাকা থেকে আদালতের নির্দেশে সব কাঠ জব্দের দায়িত্বে ছিলেন এসআই আলমগীর চৌধুরী। কিন্তু মামলার আলামত হিসেবে থাকা মোট ৬৩ টুকরা গর্জন কাঠের মধ্যে মাত্র ৩৯ টুকরো জব্দ দেখান তিনি। বাকি ২৪ টুকরো স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যার আনুমানিক মূল্য ৮২ হাজার টাকা। এমনকি কাঠগুলো গাড়িতে করে স্থানীয় করাতকলে নামানো হয়, পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে তড়িঘড়ি করে ওসি তোফাজ্জল হোসেন ঘটনাস্থলে যান। করাতকল থেকে কাঠগুলো থানায় নিয়ে আসেন। তবে মেরাখোলা রাস্তায় ও বাগানের আশেপাশে আরও অনেক কাঠের টুকরো দেখা গেছে।
মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত ফখরুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশনা ছিল সব কাঠ জব্দ করার, কিন্তু বাস্তবে এসআই আলমগীর চৌধুরী কিছু কাঠ জব্দ দেখিয়ে বাকিগুলো গোপনে বিক্রি করার জন্য করাতকলে নিয়েছেন। গাছ কাটা মামলার অভিযুক্ত আসামি মোঃ মাহাবুব বলেন, দুই গাড়ি কাঠ থানায় আসার কথা থাকলেও একটি গাড়ি থানায় পৌঁছায়নি। পরে জানা যায়, সেটি করাতকলে নামানো হয়। আমরা প্রতিবাদ করায় বিভিন্ন মামলায় আসামি করা হবে বলে আমাকে হুমকি দিয়েছেন এসআই।
মামলায় আরেক অভিযুক্ত মোঃ মাহাবুব বলেন, মেরাখোলা এলাকা থেকে আদালতের নির্দেশে সব কাঠ জব্দের দায়িত্বে ছিলেন এসআই আলমগীর চৌধুরী। কিন্তু মামলার আলামত হিসেবে থাকা মোট ৬৩ টুকরা গর্জন কাঠের মধ্যে মাত্র ৩৯ টুকরো জব্দ দেখিয়ে বাকি ২৪ টুকরো কিশোর গ্যাং লিডার মোজাম্মেল-শওকতের যোগসাজশে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করার স্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্বেও দায়সারা জাবাবের উপর ভিত্তি করে কর্তৃপক্ষ জড়িতদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। কেন মাস্টারমাইন্ড কিশোর গ্যাং লিডার মোজাম্মেল ও বহিরাগত শওকতকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না। এসব কেলেঙ্কারির নেপথ্যের হল নায়ক এসআই আলমগীরের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ চাই, না হয় বড় আন্দোলনের উদ্যোগ নেয়া হবে।
গাছ কাটা ও আদালতের জব্দ গাছ রাতের আঁধারে বিক্রির বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তোলপাড় চলছে।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.