
আজিম এগ্রো লিঃ এর বাগানের অফিস ঘর।
মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম; লামা :
বান্দরবানের লামায় আজিম এগ্রো লিমিটেড নামে একটি রাবার বাগান দখলের জন্য ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের দিয়ে দফায় দফায় হামলা ও ভাংচুরের অভিযোগ উঠেছে। আজিম এগ্রো লিমিটেডের ম্যানাজার মি. স্বপন জানিয়েছেন, উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের বহিষ্কৃত মেম্বার কুতুব উদ্দিনের সন্ত্রাসী আগ্রাসনে বনায়ন, মৎস্য চাষ ও ফলজ বাগান সৃজন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ৩৩ বছরের সৃজিত বাগান দখলের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে এলাকায় বাগান মালিক ও স্থানীয় লোকজনের কাছে আতংকের অপর নাম কুতুব বাহিনী।

আজিম এগ্রো লিঃ এর সৃজিত বাগান।
ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের কুরুপপাতা ঝিরি এলাকায় আজিম এগ্রো লিঃ এর কেয়ারটেকার নজির আহমদ (৫৫) বলেন, ২০১৬ সালে আজিম এগ্রো লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফয়জুর আজিম জনৈক সিরাজুল ইসলাম ও ফয়জুন নেছা সিরাজ সহ আরো দুইজন হতে উক্ত বাগান ক্রয় সূত্রে মালিক হন। রাবার প্লট হোল্ডিং নং- ৬৫ এর আন্দর ২৫ একর, হোল্ডিং নং- ৬৭ এর আন্দর ২৫ একর, হোল্ডিং ২৫৯ এর আন্দর ১২ একর ৮০ শতক ও আর হোল্ডিং মূলে ৩ একর সর্বমোট ৬৫ এর ৮০ শতক জায়গা ক্রয় করে রাবার, আম, মালটা সহ বিভিন্ন ফলজ বাগান ও মাছের প্রজেক্ট সৃজন করেন। পূর্বের বাগান মালিক সিরাজুল ইসলাম ৩০ বছর ধরে তিলে তিলে বাগানটি সৃজন করেছিল। মোট ৩৩ বছর যাবৎ গড়া বাগান হঠাৎ করে কুতুব উদ্দিন গায়ের জোরে দখলের চেষ্টা করছে। বাগানে ১২ হাজার ৫শত রাবার গাছ, ২ হাজার আম, ২৫০টি মালটা, ১৫০টি গাব গাছ ও ৬টি মাছের প্রজেক্ট সহ নানা প্রজাতির গাছ রয়েছে।
আজিম এগ্রো লিঃ এর নাইট গার্ড মোজাম্মেল হক বলেন, গত ১৫ আগস্ট বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টায় কুতুব উদ্দিন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের নিয়ে বাগানে হামলা ও ভাংচুর চালায়। এসময় তার সাথে তার বোন জামাই আমির হোসেন ও পার্শ্ববর্তী রেজাউল করিম সহ আরো ৫জন সন্ত্রাসী ছিল। তারা বাগানে বিনানুমতিতে প্রবেশ করে লাথি দিয়ে অফিস ঘরের দরজা ভেঙ্গে বাগান দখলের চেষ্টা করে। আমি বাধা দিলে তারা আমাকে একটি রুমে তালাবদ্ধ করে রাখে। রাত ৩টা হতে পরেরদিন শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত তারা বাগানে অবস্থান করে। সকালে বাগানের অন্যান্য কর্মচারীরা আসলে তারা পালিয়ে যায়। এছাড়া গত ১৭ আগস্ট শনিবার গভীর রাতে ৩জন ও ২০ আগস্ট মঙ্গলবার রাতে ১জন বাগানের অফিসে এসে আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যায়।

আজিম এগ্রো লিঃ এর সৃজিত মাছের প্রজেক্ট।
আজিম এগ্রো লিঃ এর আরেক কেয়ারটেকার জোনাব আলী (৭৫) বলেন, আমি ৩৩ বছর যাবৎ এই বাগানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করে আসছি। পূর্বের ৩০ বছরের বাগান মালিক সিরাজুল ইসলাম ও বর্তমান ৩বছর যাবৎ বাগানের মালিক মো. ফয়জুর আজিম সাহেব এর সময়ে আমি কাজ করছি। কুতুব উদ্দিনের নানা অপকর্মের জন্য তাকে মেম্বার পদ হতে বহিস্কৃত করা হয়েছে। সে সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যু প্রকৃতির মানুষ। সে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী নিয়ে অনেকবার বাগানে এসে আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে। কুতুব উদ্দিন আইনকে তোয়াক্কা না করে যে কোন অন্যায় করে চলেছে। কয়েকদিন আগে ড্রোজার দিয়ে নির্বিচারে পাহাড় কেটে মাছের প্রজেক্ট তৈরি করেছে। কুতুব উদ্দিন ও তার বোনেরা প্রতিনিয়ত ১০/১৫টি গরু ছেড়ে দিয়ে বাগানের চারা গাছ গুলো নষ্ট করে ফেলছে। বাধা দিলে তারা গায়ের দিকে তেড়ে আসে এবং নারী নির্যাতন মামলার হুমকি দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, কুতুব উদ্দিন খারাপ প্রকৃতির মানুষ। সে পারেনা এমন কোন কাজ নেই। সে তার মাছের প্রজেক্টে ১০/১৫ জন মহেশখালী-কুতুবদিয়া এলাকার সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোককে চাকরি দিয়ে রেখেছে। প্রশাসন গেলে তাদের কর্মচারী হিসেবে পরিচয় দেয় মূলত তারা তার লাঠিয়াল ও সন্ত্রাসী হিসেবে কাজ করে। কুরুপপাতা ঝিরি ও হারগাজা দুর্গম পাহাড়ি এলাকার হওয়ায় সে সেখানে সন্ত্রাসীর রাজত্ব গড়ে তুলেছে।
এই বিষয়ে কুতুব উদ্দিন বলেন, আজিম এগ্রো লিঃ এর বাগান ও প্রজেক্টের জায়গা আমার। আমি আমার বাগানে সবসময় আসব-যাব। কে আমাকে বাধা দেবে?
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জাকের হোসেন মজুমদার বলেন, অস্ত্র ও ডাকাতির মামলায় সাজা হওয়ায় কুতুব উদ্দিনকে মেম্বার থেকে বহিস্কৃত করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এছাড়া তার নামে অসংখ্য মামলা রয়েছে।
লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ অপ্পেলা রাজু নাহা বলেন, ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোন সন্ত্রাসী কার্যক্রমের খবর আসলে থানা পুলিশ অবশ্যই শক্ত হাতে প্রতিহত করবে।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.