
লামা-সুয়ালক সড়কের শিলেরঝিরি অংশে সৃষ্ট দীর্ঘ ফাটল ও ভেঙে পড়া গার্ড ওয়াল।
মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, লামা :
বান্দরবানের লামা-সুয়ালক সড়কে মেরামতের তিন মাসের মাথায় বিভিন্ন স্থানে ধস ও ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সড়কের শিলেরঝিরি অংশের উভয় পাশে ফাটল ও ধস দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন পয়েন্টে নির্মিত ড্রেনগুলোর বেশকিছু অংশ ধসে পড়েছে। সড়কের ডিসি রোড অংশে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। ফলে সড়কে যানবাহন চলাচল চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
বান্দরবান জেলা সদরের সাথে আন্তঃসংযোগ স্থাপনকারী ৫৩ কিলোমিটার লামা-সুয়ালক সড়কটি লামা ও আলীকদম উপজেলার মানুষ চলাচল করে। এছাড়া লামা উপজেলার গজালিয়া, সরই ও আজিজনগরের পূর্ব চাম্বি অংশের লক্ষাধিক মানুষ এই সড়ক দিয়ে উপজেলা সদরে আসে। সড়ক দিয়ে চলাচলকারী স্থানীয় বাসিন্দা খইহ্লাচিং মার্মা ও ড্রাইভার আবুল হোসেন জানান, চলতি বর্ষা মৌসুমে যে কোনো মুহুর্তে লামা-সুয়ালক সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতিমধ্যে সরই ইউনিয়নের আমতলী এলাকায় সড়ক ধসে দুই-একদিনের জন্য যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল।
গজালিয়া ইউপি মেম্বার মো. আবু বলেন, ‘সড়কের উভয় পাশে টু-ওয়াল ড্রেনের বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরেছে। সড়কের বিভিন্ন অংশের ড্রেন ফাটল ধরে ধসে পড়েছে। বর্ষার শুরুতে সামান্য বৃষ্টিতে সড়কের শিলেরঝিরি নামক স্থানে কালভার্ট নির্মাণ করা হলেও উভয় পাশের এপ্রোচে প্রোটেকশন ওয়াল দেওয়া হয়নি। ব্রিকফিল্ড এলাকার আগে পরে সড়কের একাধিক অংশের ড্রেন ধসে পড়েছে।’
জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বান্দরবান নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সিএইচটি-জিওবি (রক্ষণাবেক্ষণ) প্রকল্পের আওতায় লামা-সুয়ালক সড়কের চেইনেইজ ২০০০ হইতে ৫০০০ মিটার পর্যন্ত ৭৭ লক্ষ টাকা এবং চেইনেইজ ৫০০০ মিটার হইতে ৯০০০ মিটার পর্যন্ত ৬২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ২টি প্যাকেজের মাধ্যমে মেরামতের জন্য মেসার্স মিলন ট্রেডার্স নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ প্রদান করে। গত বছর ২১ এপ্রিল মেরামত কাজ শুরু করে এ বছর মার্চ মাসে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেরামত কাজ সম্পাদন করে চূড়ান্ত বিল গ্রহণ করে। নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের সাথে সংশ্লিষ্ট নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রকৌশলী জানান, মেরামতকৃত কার্পেটিং এ ফাটল ধরেছে এবং কিছু জায়গায় কার্পেটিং উঠে গেছে।
কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মিল্টন ট্রেডার্সের মালিক মাও সেতুন তঞ্চগ্যা জানান, তার নামে এলজিইডির সঙ্গে চুক্তি হলেও সড়ক মেরামতের কাজটি করেছে মো. মুজিবুর রহমান। মুজিবুর রহমান কাজে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মাটি ফিলিং না হওয়ায় কার্পেটিং ধসে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ নাজিম উদ্দিন জানান, মেরামত কাজ শেষ হলেও আমরা সড়কটি রক্ষণাবেক্ষণ করে যাব। ফাটল ধরা ও ধসে যাওয়া অংশে ইতিমধ্যে সাময়িক মেরামত করা হয়েছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সিকিউরিটি মানি আমাদের হাতে আছে।
প্রসঙ্গত, উন্নয়ন কাজের যে সকল ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ট্রেন্ডারের মাধ্যমে কাজ পায় তারা মোট প্রাক্কলিত বরাদ্দের ৫ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ টাকা নিয়ে কাজটি অন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাছে কাজ বিক্রয় করে দেয়। এতে করে উন্নয়ন কাজের ব্যয় বাড়ে এবং নতুন করে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের লাভের বিষয়টি যোগ হয়। যার দরুণ মোটা অংকের টাকা নয়ছয় হয়ে যাওয়ায় কাজের গুণগত মান ঠিক রাখা সম্ভব হয়না বলে জানা গেছে। বিষয়টি অন্যায় হলেও ওপের সিক্রেট ভাবে এই কাজটি দীর্ঘদিন যাবৎ সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হয়ে আসছে। উন্নয়ন কাজের গুণগত মান ঠিক রাখতে ঠিকাদারদের এই গোপন বাণিজ্য বন্ধ করার প্রয়োজন বলে মনে করেন সচেতনমহল।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.