
সাংবাদিক আব্দুল লতিফ মোড়লকে গ্রেফতারের ঘটনায় খুলনার ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকুমার বিশ্বাসকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বুধবার (০২ আগস্ট) রাত ৮টায় থানা থেকে প্রত্যাহারপূর্বক রাতেই তাকে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের ৫৭ ধারার মামলা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া না মেনে রেকর্ড এবং গভীর রাতে বাড়ি ঘেরাও করে সাংবাদিককে গ্রেফতার করায় ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়।
জেলা পুলিশ সুপার নিজামুল হক মোল্লা বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আইসিটি অ্যাক্টের মামলা খুবই স্পর্শকাতর। এ ধরণের মামলা রেকর্ড করতে হলে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া মেনেই করতে হবে। কিন্তু সাংবাদিক আব্দুল লতিফ মোড়লের ক্ষেত্রে সঠিকভাবে তা করা হয়নি।
দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেওয়া হয়েছে। যে কারণে পুলিশ হেড কোয়াটারের নির্দেশে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুকুমার বিশ্বাসকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) মো. সজীব খানকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
কমিটিকে দ্রুত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরই এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সোমবার (৩১ জুলাই) রাত ৯টার দিকে সুব্রত ফৌজদার নামে এক ব্যক্তি সাংবাদিক আব্দুল লতিফ মোড়লের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের ৫৭ ধারায় ডুমুরিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মাথায় ওইদিন রাত আড়াইটার দিকে লতিফকে ডুমুরিয়া উপজেলা সদরের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
মঙ্গলবার (০২ আগস্ট) দুপুরে সাংবাদিক লতিফ মোড়লকে খুলনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত খ অঞ্চলে হাজির করা হয়। আদালতের বিচারক নুসরাত জাবিন শুনানি শেষে বুধবার (০২ আগস্ট) পুনরায় মামলার শুনানির দিন ধার্য্য করে তাকে জেল-হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বুধবার আদালত শুনামি শেষে তার অন্তর্বর্তীকালীন মঞ্জুর করেন। এরপর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি খুলনা জেলা কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন।
এর আগে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে শুনানি শেষে পুলিশের চার্জশিট দাখিল না হওয়া পর্যন্ত খুলনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত খ অঞ্চলের বিচারক নুসরাত জাবিন ১০ হাজার টাকার বন্ডে তার জামিন মঞ্জুর করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২৯ জুলাই মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ তার নিজ এলাকা ডুমুরিয়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ প্রকল্পের (এফসিডিআই) আওতায় কয়েকজন দুস্থের মধ্যে হাঁস, মুরগি ও ছাগল বিতরণ করেন।
জুলফিকার আলী নামে দক্ষিণ ডুমুরিয়া গ্রামের এক ব্যক্তির পাওয়া ছাগল ওইদিন রাতেই মারা যায় বলে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই খবর ফেসবুকে শেয়ার করার অভিযোগে লতিফের বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় মামলা করেন সুব্রত। মামলার বাদী যশোর থেকে প্রকাশিত একটি পত্রিকার ডুমুরিয়া উপজেলা প্রতিনিধি।
সূত্র:deshebideshe.com,ডেস্ক।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.