এ বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন প্রখ্যাত মার্কিন গায়ক ও গীতিকার বব ডিলান।
বৃহস্পতিবার রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমির স্থায়ী সচিব সারা দানিউস সাহিত্যে নোবেলবিজয়ী হিসেবে ডিলানের নাম ঘোষণা করেন
নোবেল কমিটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমেরিকার ঐতিহ্যবাহী গানের মধ্যে নতুন কাব্যিক ভাবধারা সৃষ্টির জন্য তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।’
আগামী ১০ ডিসেম্বর সুইডেনের স্টকহোমে ডিলানের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কারের ৮০ লাখ ক্রোনার তুলে দেওয়া হবে ।
বব ডিলান একাধারে গায়ক, গীতিকার, লেখক, সুরকার ও কবি। তাঁর প্রকৃত নাম রবার্ট অ্যালেন জিমারম্যান। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি জনপ্রিয় ধারার সঙ্গীতের অন্যতম প্রধান ব্যক্তি হিসেবে সুপরিচিত।
সব ডিসিপ্লিনে নোবেল পুরস্কারবিজয়ী আমেরিকানদের মধ্যে ডিলান হচ্ছেন ২৫৯তম। শুধুমাত্র সাহিত্যে নোবেলবিজয়ী আমেরিকানদের মধ্যে তিনি হচ্ছেন নবম। সাহিত্যে এর আগে সর্বশেষ নোবেলবিজয়ী আমেরিকান ছিলেন টনি মরিসন। তিনি নোবেল পান ১৯৯৩ সালে। তার ২৩ বছর পর এবার এ ডিসিপ্লিনে বিজয়ী হলেন ডিলান।
১৯৬১ সালে ডিলানের পেশাদার সঙ্গীত জীবনে প্রবেশ ঘটে। সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারে গায়ক হিসেবেই তিনি বেশি পরিচিতি পেয়েছেন এবং সফল হয়েছেন। তবে গীতিকার হিসেবেই তার অবদান মূল্যায়িত হয়। অনন্য কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ডিলান গ্রামি অ্যাওয়ার্ড, গোল্ডেন গ্লোব ও অ্যাকাডেমি পুরস্কার জিতেছেন ।
বব ডিলানের জন্ম ১৯৪১ সালের ২৪ মে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ডুলুথে। তিনি বেড়ে ওঠেন ডুলুথ ও হিবিং এলাকায় লেক সুপিরিয়রের পার্শ্ববর্তী মেসাবি আয়রন রেঞ্জ এলাকায়। যৌবনে অনেকটা সময় তিনি রেডিও শুনে কাটিয়েছেন। প্রথমত তিনি শুনতেন ব্লুজ ও কান্ট্রি গান যা প্রচারিত হতো শ্রেভেপোর্ট থেকে। পরবর্তীকালে তিনি প্রথম দিককার রক অ্যান্ড রোল সঙ্গীতের দিকে ঝুকে পড়েন। হাই স্কুলে পড়াকালে তিনি কয়েকটি ব্যান্ড গঠন করেন। প্রথম ব্যান্ড ‘দ্য শ্যাডো ব্লাস্টার্স’ অবশ্য বেশিদিন টেকেনি। পরবর্তী ব্যান্ড ‘দ্য গোল্ডেন কর্ডস’ কিছুদিন টিকেছিল।
১৯৫৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ডিলান ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটায় ভর্তি হন এবং মিনিয়াপোলিসে বসবাস শুরু করেন। রক অ্যান্ড রোলে তার প্রথম দিককার উৎসাহ থেকে তিনি আমেরিকান ফোক সঙ্গীতে, বিশেষত যেসব সঙ্গীতে অ্যাকুস্টিক গিটার ব্যবহৃত হয় তার প্রতি আকৃষ্ট হন।
ডিলান সাধারণত গিটার, কিবোর্ড এবং হারমোনিকা বাজিয়ে গান করেন। তার সঙ্গীত জীবনের সূচনায় গানের কথা ছিল মূলত রাজনীতি, সমাজ, দর্শন ও সাহিত্যিক প্রভাব সংবলিত। এগুলো তখনকার জনপ্রিয় ধারার কথিত নিয়ম বহির্ভূত ছিল এবং এ ধারাটি বিপরীত হিসেবে ধরা হতো।
নিজস্ব সঙ্গীত ধারা প্রসারের পাশাপাশি ডিলান আমেরিকার বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী সঙ্গীতের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করেন। তিনি আমেরিকান লোকগীতি থেকে শুরু করে রক অ্যান্ড রোল, স্কটিশ, আইরিশ লোকগীতি, এমনকি জ্যাজ সঙ্গীত, সুইং, ব্রডওয়ে, হার্ডরক এবং গসপেলও গেয়েছেন।
‘টাইম’ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় ডিলানের নাম রয়েছে। ২০০৪ সালে ‘রোলিং স্টোন’ ম্যাগাজিন প্রকাশিত সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ১০০ গায়কের তালিকায় ‘দ্য বিটলস’-এর পর বব ডিলান দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক প্রেসিডেন্টশিয়াল মেডেল অব ফ্রিডমও তিনি পেয়েছেন।
মার্কিন সঙ্গীতশিল্পীদের মধ্যে যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে সহানুভূতিশীল ছিলেন ও কাজ করেছেন তাদের মধ্যে বব ডিলান অন্যতম। যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট বিটলসখ্যাত জর্জ হ্যারিসন ও পণ্ডিত রবিশঙ্কর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের মানুষের সাহায্যার্থে আয়োজন করেছিলেন ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’। এই কনসার্টে বব ডিলান তার বিখ্যাত ‘ব্লোইং ফর দ্য উইন্ড’ গানটি পরিবেশন করেন।
সূত্র:risingbd.com,ডেস্ক।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"



You must be logged in to post a comment.