নিজস্ব প্রতিবেদক:
মিয়ানমার থেকে টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ করিডোরে গবাদি পশু আমদানি অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়েছে। গত শুক্রবার ও শনিবার ২দিনে শাহপরীর দ্বীপ করিডোরে মিয়ানমার থেকে ১ হাজারের অধিক গবাদি পশু আমদানি হয়েছে। তবে অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে বেশি পরিমাণে গবাদি পশু আমদানি হলেও করিডোরে গবাদি পশু আমদানীকারক কিছু অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট কারসাজিতে স্থানীয় এবং দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত ক্রেতারা কোরবানীর পশু কিনতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে অসাধু ব্যবসায়ীদের এই সিন্ডিকেটের দৌরাত্মের ফলে পশুর হাটে কৃত্রিম সংকট তৈরীর পাশাপাশি অস্বস্থিকর পরিবেশ বিরাজ করছে।
জানা যায় ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে মিয়ানমার থেকে শাহপরীর দ্বীপ করিডোর হয়ে সবচেয়ে বেশি গবাদি পশু আমদানি করছে সাবরাং ইউনিয়নের নয়াপাড়ার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শরীফ প্রকাশ শরীফ বলি, টেকনাফ পৌরসভার মমংসি, শহিদুল ইসলাম শহীদ, মোহাম্মদ আলমগীর, শাহপরীর দ্বীপের মৌলভী নুরুল হক, হোছন আহমদ, আব্দু শুক্কুর প্রমূখ ব্যবসায়ী। এসব ব্যবসায়ীদের মধ্যে আমদানিকৃত গবাদি পশুর অতিরিক্ত দাম বাড়িয়ে মোহাম্মদ শরীফ প্রকাশ শরীফ বলি বাজারে পশুর কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে সিন্ডিকেট চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে জানা যায়। বিজিবি শাহপরীর দ্বীপ বিওপি’র কোম্পানী কমান্ডার জজ মিয়া জানান, চলতি মাসের ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শাহপরীর দ্বীপ করিডোরে ৩ হাজার ৫শ ৩৪টি গবাদি পশু আমদানি হয়েছে যার রাজস্ব আয় ১৭ লাখ ৬৭ হাজার টাকা।
তিনি জানান করিডোরে আসা পশু বোঝায় ট্রলার নিরাপদে পৌছতে বিজিবির পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। গবাদি পশুর ট্রলার আসার সংবাদ বিজিবিকে জানালে বিজিবি নাফনদীসহ সীমান্তে টহল জোরদার করে তা নিরাপদে করিডোরে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করছেন।
তাছাড়া বিভিন্ন জেলার পশু ব্যবসায়ীদের সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন। এ বছর ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে যে হারে গবাদি পশু মিয়ানমার থেকে আমদানি হচ্ছে তাতে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য পশুর হাটে পশুর চাহিদা পূরণ করার আশা করা হলেও ক্রেতাদের অভিযোগ, আসন্ন ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে ক্রেতাদের পশুর চাহিদার সুযোগ বুঝে মোহাম্মদ শরীফ বলি এবং তার প্ররোচণায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী প্রতিটি পশু স্বাভাবিক মূল্যের চেয়ে ৩০ থেকে ৫০ হাজার পর্যন্ত বেশি মূল্য হাকিয়ে ফায়দা লুটার চেষ্টা করছেন। সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের এমন সিদ্ধান্তের ফলে স্থানীয় ক্রেতাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গবাদি পশু কিনতে আসা ব্যবসায়ীদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। গবাদি পশুর এমন চড়া মূল্যে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের মাঝে পবিত্র ঈদুল আযহার পশু কোরবানি নিয়ে অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, করিডোর গবাদি পশু ব্যবসায়ের স্বাভাবিক কক্সবাজার নিয়ম হচ্ছে, মিয়ানমার থেকে গবাদি পশু রপ্তানিকারক (প্রেরণকারী) এদেশে আমদানিকারকের কাছে গবাদি পশু পাঠালে তিনি রপ্তানীকারকের নিজস্ব প্রতিনিধির উপস্থিতিতে তার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রয় কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন। বিনিময়ে প্রতিটি পশুর থেকে আমদানীকারক ৫শ থেকে ১হাজার ৫শ টাকা পর্যন্ত কমিশন ভোগ করবেন। কিন্তু সাম্প্রতিক ঈদ মৌসুমে দেখা গেছে তার বিপরীত।
অসাধু সিন্ডিকেট চক্রের মূল হোতা মোহম্মদ শরীফ প্রকাশ শরীফ বলি সহ কিছু ব্যবসায়ী মিয়ানমার থেকে গবাদি পশু বোঝাই ট্রলার শাহপরীর দ্বীপে পৌঁছলে তারা নিজেরা টাকা দিয়ে কিনে নিয়ে নিজেদের করায়ত্তে এনে মজুদ করে রাখে। পরবর্তী এসব সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের কাছে ক্রয়মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারণ করে কোরবানির পশুর দাম বাড়াতে থাকেন। যার ফলশ্রুতিতে এসব অসাধু সিন্ডিকেটের মারপ্যাঁচে পড়ে অনেকে পশু ক্রয় করলেও পশুর হাটে গবাদি পশুর অতিরিক্ত মূল্যের মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের। সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হামিদুর রহমান জানান, ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে এবছর শাহপরীর দ্বীপ করিডোর দিয়ে প্রচুর গবাদি পশু আমদানি হচ্ছে। আশা করছি বৈরী আবহাওয়ায় আমদানিতে ব্যাঘাত না ঘটলে কোরবানির ঈদে গবাদি পশুর চাহিদা পূরণ হবে এবং হাটে পশুর সংকট থাকবেনা। করিডোরে গবাদি পশু আমদানি যাতে বাধাগ্রস্ত না হয় সে ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় সাপোর্ট পরিষদের পক্ষ থেকে দেয়া হচ্ছে। তিনি আরো জানান, বর্তমানে যে হারে গবাদি পশু মিয়ানমার থেকে আসছে তাতে সংকট সৃষ্টি করা কিংবা অতিরিক্ত দাম হাকানোর কোন সুযোগ নেই। এমতাবস্থায় স্থানীয় ক্রেতা এবং সাধারণ ব্যবসায়ীদের মতে, ঈদুল আযহায় পশুর দাম সহনীয় এবং হাটে পশুর কৃত্রিম সংকট মোকাবেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শাহপরীর দ্বীপ করিডোরে পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ একান্ত জরুরী।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"



You must be logged in to post a comment.