সাম্প্রতিক....
Home / প্রচ্ছদ / আন্তর্জাতিক / হোমওয়ার্ক না করায় ছাত্রীদের অর্ধনগ্ন করে শাস্তি!

হোমওয়ার্ক না করায় ছাত্রীদের অর্ধনগ্ন করে শাস্তি!

স্কুলের হোমওয়ার্ক করে না আসায় ১৫ জন ছাত্রীকে তাদের স্কার্ট খুলে অর্ধনগ্ন করে হাঁটানো হলো স্কুল চত্বরে। শুধু তাই নয়, এর ভিডিও ধারণ করা হয়েছে মোবাইল ফোনে। গত শনিবার ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের শোনভদ্রের একটি জুনিয়র হাই স্কুলে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পরেরবার হোমওয়ার্ক না করে এলে সেই ভিডিও বাইরে ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলেও ভয় দেখানো হয় তাদের।

আজ মঙ্গলবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মীনা সিংয়ের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলেছে ছাত্রীরা।

জানা গেছে, প্রধান শিক্ষিকা ছাত্রীদের সংস্কৃত শ্লোক বাড়ি থেকে মুখস্থ করে আসতে দেন। এরপর শনিবার তিনি ক্লাসে ঢুকে সেই শ্লোক ছাত্রীদের মুখস্থ বলতে বলেন।

ক্লাসের ১৫ জন ছাত্রী সেই শ্লোক মুখস্থ করে না আসায় তাদের প্রথমে ক্লাসরুমের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তাদের স্কার্ট খুলতে বলা হয়। পরে মুরগি বানিয়ে শাস্তি দেওয়া হয়। দুই হাঁটুর মাঝখান দিয়ে হাত নিয়ে গিয়ে কান ধরে হাঁটতে বলা হয়। এমনকি শাস্তির সময় এক ছাত্রী পড়ে যাওয়ায় তাকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ।

এরপর গোটা ঘটনার ভিডিও করে রাখেন ওই প্রধান শিক্ষিকা। পরবর্তী সময়ে পড়া না পারলে সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেড়ে দেওয়া হবে বলেও ভয় দেখান তিনি।

এই ঘটনায় শাস্তিপ্রাপ্ত ছাত্রীদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষিকা যখন তাদের অর্ধনগ্ন করে শাস্তি দিচ্ছিলেন, সেই সময় স্কুল চত্বরে অনেক ছেলে বসেছিল। তাদের সামনেই এই শাস্তি দেন ওই প্রধান শিক্ষিকা। এরপর ছাত্রীরা বাড়িতে গিয়ে তাদের অভিভাবকদের গোটা ঘটনার কথা খুলে বলে। সব জানার পর ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা স্থানীয় জেলা শাসকের কাছে গিয়ে বিষয়টি জানান।

অভিভাবকরা জেলা শাসকের কাছে অভিযোগ জানিয়ে বলেন, ছাত্রীরা পড়াশোনা না করলে শিক্ষক-শিক্ষিকারা অবশ্যই শাস্তি দেবেন। কিন্তু সেই শাস্তি যদি রুচিবোধকে ছাড়িয়ে যায়, তাহলেই মুশকিল। এই ধরনের শাস্তির মাধ্যমে ছাত্রীদের একরকম যৌন হেনস্তা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন অভিভাবকরা।

এরপরই জেলা শাসকের হস্তক্ষেপে সাময়িক বহিষ্কার করা হয় ওই প্রধান শিক্ষিকাকে। ঘটনায় তদন্তের জন্য দুই সদস্যের এক কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা দপ্তর।

অন্যদিকে, যে প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে সেই অভিযুক্ত মীনা সিং এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ‘আমি শুধু ছাত্রীদের বাড়িতে পড়া না করার জন্য বকেছিলাম। এর বেশি আর কিছু ঘটেনি।’

সূত্র:ntvbd.com,ডেস্ক।

Share

Leave a Reply

x

Check Also

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত

—V প্রেস বিজ্ঞপ্তি :কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসের ...

Portrait of a professional, showcasing contact details and role information.