
এম আবু হেনা সাগর; ঈদগাঁও :
কক্সবাজার জেলা সদরের বহুল আলোচিত বাণিজ্যিক কেন্দ্র ঈদগাঁও বাজারের প্রধান সড়কের উপর আড়া আড়ি করে রাস্তা সংস্কারের নির্মাণ সামগ্রী রাখার ফলে যানবাহন চলাচল অনেকটা বন্ধ বললেই চলে। এমনকি বর্তমানে ডিসি সড়কটি সর্বশ্রেণির পেশার মানুষজনের দূর্ভোগ আর দূর্গতিতে বন্দি হয়ে পড়েছে। যাতে করে ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, চাকুরিজীবি সহ দূরদূরান্ত থেকে আগত মানুষজন ও ছোট বড় যানবাহন চলাচলে অনেকটা বিপাকে পড়েছে।
এদিকে স্থানীয় দৈনিকে একাধিকবার লেখালেখির পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন পর হলেও বাজারের অসমাপ্ত ইট বিছানোর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে। এর পরপরই ঢালাইয়ের কাজ শুরুর মুহুর্তে বেশ কিছুদিন ধরে চলাচলের অন্যতম ডিসি সড়কের উপর যত্রতত্র স্থানে কংকর, বালি সহ রাস্তা সংস্কারের প্রয়োজনীয় জিনিস রাখার কারণে জন ও যানচলাচলে দূর্ভোগ আর দূর্গতি পোহাচ্ছে লোকজন। আবার বিভিন্ন শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার্থীরা নানা কষ্টের বিনিময়ে স্ব স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে দেখা যাচ্ছে।
জানা যায়, বহু বছর পর অবশেষে জেলার দ্বিতীয় বাণিজ্যিক কেন্দ্র ঈদগাঁও বাজারের সড়কটি ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ কাজের কিছু অংশ শেষ হওয়ায় পথচারীসহ সাধারণ মানুষের মাঝে হাসির ঝিলিক ফুটে উঠেছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, নির্মাণাধীন ডিসি সড়কটির পরিধি ছোট হয়ে যাচ্ছে। যাতে করে মালবাহী যানবাহনসহ ছোটখাট গাড়ী চলাচল করতে দারুণভাবে হিমশিম খাবে বলে জানান অনেকে। উক্ত রাস্তা দিয়ে বৃহত্তর ঈদগাঁও তথা ছয় ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে আসা লোকজনের পাশাপাশি হরেক রকমের যানবাহন, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা চলাচল করছে নিদারুণ কষ্টে। দীর্ঘদিন পর সড়কের হোভার কম্পিউটার দোকান হতে পশ্চিম দিকের ইট বিছানোর কাজ প্রায় শেষের পথে। এবার ঢালাই কাজের অপেক্ষায় উপেক্ষিত বাজারবাসী। কবে পরিপূর্ণ সড়ক হিসাবে খুঁজে পাবে ডিসি সড়কটি এমনটায় মত প্রকাশ করেন অনেকে।
সচেতন লোকজনের মতে, বাজারের প্রধান সড়কের নির্মাণ কাজের কারণে সবধরণের ব্যবসা-বাণিজ্য ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে বললেই চলে। এমনকি ঐ ব্যবসার কথা চিন্তা করে দ্রুততম সময়ে সড়কটির অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার দাবী জানান। তবে বাজারে সওদা করতে আসা লোকজনের মতে, অবিলম্বে পর্যটন শহর কক্সবাজারের প্রবেশদ্বার খ্যাত ঐতিহ্যবাহী বৃহৎ ঈদগাঁও বাজারের সড়কটির অসমাপ্ত কাজ দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করে ব্যবসায়ীসহ শিক্ষার্থীদের দুঃখ-দূর্দশা থেকে মুক্তি দেওয়া হোক।
ঈদগাঁও বাজারটি দীর্ঘদিন ধরে বহু সমস্যায় জর্জরিত। এতে করে দেখার কেউ না থাকায় আভ্যন্তরীণ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত বাজারবাসী। বর্তমান সময়ে জেলার প্রত্যন্ত গ্রামগঞ্জে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগলেও ঈদগাঁও বাজার এখনও সেই পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগেনি। জেলার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক এলাকা ঈদগাও বাজার। এবার নিলাম ডাক হয়েছে বহু লাখ টাকায়। সদর উপজেলার ঈদগাও, জালালাবাদ এবং অংশবিশেষ ইসলামাবাদ ইউনিয়ন নিয়েই অবস্থিত। প্রাচীনকাল হতেই সপ্তাহের প্রতি শনি ও মঙ্গলবার দু’দিন হাট বসে। হাটের দিনগুলোতে বৃহত্তর ঈদগাওর পার্শ্ববর্তী রামু, চকোরিয়া ও পার্বত্য নাইক্ষ্যংছড়ি হতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পন্য সহ নানান ধরনের পণ্য নিয়ে বাইরের ব্যবসায়ীরা আসেন। কিন্তু বেচা বিক্রির স্থান হয় বাজারের অভ্যন্তরীন রাস্তাগুলোতে। অল্পবৃষ্টিতে বাজারে আগত ক্রেতাসাধারনের হাঁটা চলার কোন স্বাভাবিক পরিবেশ থাকেনা। তার পাশাপাশি এ জলাবদ্ধতার ফলে হরেক রকমের যানবাহন চলাচল করতে দারুণভাবে দুর্ভোগে পড়েছে। সে সাথে পথচারী ও ব্যবসায়ীদের পক্ষে এত কষ্ট সহজে মেনে নেওয়া যায় না। সর্বদিক বিবেচনা করে আসন্ন বর্ষার পূর্বে তড়িৎগতিতে বাজারের ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন করার দাবী জানান সচেতন লোকজন ও শিক্ষার্থী।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.