হুমায়ুন কবির জুশান; উখিয়া :
উখিয়া হলদিয়া পালং ইউনিয়নের গোরাইয়ারদ্বীপ গ্রামের বুলবুল আক্তার (৩৮) মেয়ে রোখেয়া বেগমকে (১৮) নিয়ে এসেছেন ডাক্তার দেখাতে। জরুরী বিভাগের ডাক্তারও দেখালেন। কিন্তু ব্যবস্থাপত্র নিয়ে ওষুধ নিতে এসে তাকে অপেক্ষায় থাকতে হলো। পরে হাসপাতালের নিচের দোকান থেকে কিনে নিতে সেবিকা সাদা কাগজে ওষুধের নাম লিখে দিলেন। উখিয়া সদর এলাকা থেকে শামীমা তার সন্তানকে একদিন একরাত হাসপাতালে রেখে সেবা নিয়েছেন।সেবার চেয়ে সেবিকাদের অসদাচরণ তাকে মারাত্মকভাবে কষ্ট দিয়েছে। কথায় কথায় রোগী ও স্বজনদের সাথে খারাপ ব্যবহার করছেন। ডাক্তার আসলে রোগীর সাথে খুব ভালো ব্যবহার করে। ডাক্তার চলে যাওয়ার পর তাদের আসল রূপ ধরা পড়ে। তারা অনেকেই এনজিওর পক্ষ থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসেছেন। তাদের হাবভাব দেখলে মনে হয়, সেবিকা নয় যেন বড় অফিসার হয়ে এখানে এসেছেন চাকরি করতে। বেশির ভাগ সময় মোবাইল ও ফেসবুক নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।
বৃহস্পতিবার উখিয়া উপজেলা স্থাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরেজমিনে গিয়ে এ চিত্র দেখা গেল। খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেল, রোহিঙ্গাদের কারণে সরকার, এনজিও ও বিভিন্ন দাতা সংস্থার পক্ষ থেকে চাহিদা মতো ওষুধ সরবরাহ থেকে শুরু করে হাসপাতালে নতুন নতুন ভবন তৈরি করে দিয়েছেন। দৃষ্টিনন্দন মা ও শিশু হাসপাতাল নি-মা-নি-শু এবং ইউনিসেফের ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
নাম প্রকাশে দায়িত্বরত এক ডাক্তার বলেন, চাহিদা মতো ওষুধ রয়েছে। অনেক সময় রোগীর অভাবে ওষুধ নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা। সেখানে রোগীরা ওষুধ বাহির থেকে কিনে নেওয়াটা দু:খজনক। এখানে অনেক অনিয়ম হচ্ছে। আরো জানা গেল, হাসপাতাল থেকে রোগীদের বিনা মূল্যে বিতরণের জন্য পর্যাপ্ত ওষুধ থাকলেও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাব রয়েছে। যাঁরা দায়িত্বে আছেন, তাঁরা ঠিক মতো তদারকি করছেন না বলে অনেকেই মনে করছেন।
হাসপাতালে উঠতেই নিচে দেখা গেল ব্যাক্তিমালিকানাধীন বেশ কয়েকটি ওষুধের দোকান। যা নিয়ম বহির্ভূত।সরকারি বিধি অনুযায়ী হাসপাতালের ভেতরে ন্যায্যমূল্যের একটি ওষুধের দোকান থাকার কথা। কিন্তু এখানে দেখা গেছে, একাধিক দোকান। হাসপাতালের পুরাতন স্টাফরা জানান, এনজিও থেকে আসা সেবিকাদের আচরণে অনেকেই অসন্তুষ্ট বলে আমাদেরকেও জানিয়েছেন। কিন্তু বিষয়টি উর্ধতন অফিসারদের কেউ বলে না। নিরাপদ সন্তান প্রসবের আশায় ডেলিভারি করতে আসা গরীব ঘরের বউদের সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করেছেন দায়িত্বরত সেবিকা। হাসপাতালের খাবারের মান নিয়েও রোগীদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। মহিলা ওয়ার্ডের রোগীর স্বজন জেসমিন আক্তার বলেন, আজ দুই দিন ধরে এখানে আছি। দেখলাম খাবার খুবই নিম্নমানের। মাছের মধ্যে রুই-কাতলা দেওয়ার কথা বলা থাকলেও তাঁদের পাঙ্গাস দেওয়া হয়।খামারের মুরগি বেশি দেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। খাঁসি ও গরুর মাংস দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও সেগুলো দেওয়া হয় না। অবশ্য মাঝেমধ্যে ছোট ছোট দুই টুকরো গরুর মাংস বিশেস বিশেষ দিনে দেওয়া হয় বলে রোগীরা জানায়। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ডাক্তার আব্দুল মান্নান বলেন, কিছু অভিযোগ সত্য। তবে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আগের চেয়ে এখন অনেক বেশি স্বাস্থ সেবা পাচ্ছে রোগীরা। আমরা দিবা-রাত্রি কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছি।
ইউনিসেফ পরিচালিত ডায়রিয়া রোগীদের সেবায় দায়িত্বরত ডাক্তার ও সেবিকাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রোহিঙ্গাদের কারণে স্থানীয়দের জটিল কোনো জীবাণু ছড়াচ্ছে কিনা তা আমরা পরীক্ষা করে দেখছি।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.