
বাংলা চলচ্চিত্রের জনিপ্রয় অভিনেত্রী চম্পা। আশির দশকের মাঝামাঝিতে সিনেমায় নাম লেখান তিনি। শুরুকে ছোট পর্দা দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও তিনি ১৯৮৫ সালের ‘তিন কন্যা’ ছবি দিয়ে সবার কাছে চম্পা নামে হাজির হন। প্রথম ছবিতেই জানান দেন অভিনয়ের পথে অনেকদূর তার গন্তব্য। সেই থেকে আজও চলচ্চিত্রকে আঁকড়ে ধরে আছেন। দীর্ঘদিনের ক্যারিয়ার তাকে দিয়েছে সুপারস্টারের রঙিন জীবন, আন্তর্জাতিক সুখ্যাতি, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ নানা রকম স্বীকৃতি। আর কোটি কোটি মানুষের ভালোবাসা তো আছেই।
নন্দিত অভিনেত্রী চম্পার আজ জন্মদিন। ১৯৬৫ সালের ৫ জানুয়ারি তার জন্ম। সেই হিসেবে এবার ৫৪ বছরে পা রাখলেন সুহাসীনি চম্পা। জন্মদিনের আয়োজন নিয়ে সময় সংবাদ যোগাযোগ করে চিত্রনায়িকা চম্পার সঙ্গে। জানতে চাওয়া হয় কিভাবে জন্মদিন কাটছে তার।
চম্পা জানান, ‘জন্মদিনটা স্পেশাল হয়ে উঠে মানুষের ভালোবাসায়। শনিবার (৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টা থেকে সকলে আমাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। শোবিজের মানুষেরা, পরিবার, বন্ধুরা ফোন করে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। অনেক ভক্ত আমার ফোন নম্বর সংগ্রহ করে আমাকে চমকে দিচ্ছে। বাসায় প্রচুর ফুল এসেছে। রাত ১২টা থেকে শুরু হয়েছে কেক কাটা। এখন পর্যন্ত কয়টা কেক কাটা হলো নিজেও জানি না। আমি অভিভূত। আমি সবার কাছে দোয়া চাই, যেন সুস্থ থাকতে পারি, আমি আমৃত্যু যেন অভিনয় করে যেতে পারি।’
এমন ভালোবাসায় অনুভূতি সত্যিই অসাধারণ, কেমন লাগছে এমন প্রাপ্তিতে? চম্পা বলেন, জীবন অনেক সুন্দর। মানুষের ভালোবাসায় সেটা আরও অনেক সুন্দর হয়েছে। আমি অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে অনেকদূর এগিয়ে যাব। তবে সমস্যা হচ্ছে আমাদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী কোনও ভালো সিনেমা নির্মাণ হচ্ছে না। আমাদের সিনেমার অবস্থা খুবই করুণ হয়ে গেছে এটা মানতে পারি না। প্রত্যাশা করি, খুব দ্রুতই সিনেমার সুদিন আসুক।’
আশির দশকে অভিনয় জীবন শুরু করেন চম্পা। জনপ্রিয় বহু নায়কের সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন। তবে চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন ও মান্নার সঙ্গে তার জুটি দর্শকপ্রিয় ছিলো। এছাড়াও চম্পা কাজ করেছেন সত্যজিৎ রায়ের ছেলে সন্দ্বীপ রায়ের ‘টার্গেট’, বুদ্ধদেব দাশ গুপ্তের ‘লালদরজা’ সিনেমাতে। দুই বাংলার প্রযোজনায় গৌতম ঘোষ পরিচালিত ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ চলচ্চিত্রেও কাজ করেছেন চম্পা। এই ছবিটি তার ক্যারিয়ারকে সমৃদ্ধ করেছে। এর হাত ধরে পেয়েছেন সেরা অভিনেত্রী হিসেবে প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।
চম্পা ১৯৯৫ সালে অন্য জীবন ও ২০০০ সালে উত্তরের খেপ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে এবং শাস্তি (২০০৫) ও চন্দ্রগ্রহণ (২০০৮) চলচ্চিত্রে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে দুটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন চম্পা।
সর্বশেষ তিনি আলোচনায় আসেন দুই বাংলার যৌথ প্রযোজনার ছবি ‘মনের মানুষ’ দিয়ে। গৌতম ঘোষ পরিচালিত এই ছবিতে তিনি লালন সাঁইজির চরিত্রে প্রসেনজিতের মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করেন। এরপর উল্লেখযোগ্য আর কোনও সিনেমায় তাকে দেখা যায়নি। তবে হঠাৎ হঠাৎ সিনেমায় বিশেষ চরিত্রে দেখা মেলে তার। সর্বশেষ তিনি ‘শান’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন।
সূত্র: somoynews.tv – ডেস্ক।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.