
অনলাইন ডেস্ক :
গাজর খেতে অপছন্দ করেন এমন মানুষ কমই আছেন। এটি এমন এক সবজি, যা সারা বছর বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। শীতের সবজির মধ্যে গাজর অন্যতম। গাজর অত্যন্ত পুষ্টিকর, সুস্বাদু ও আঁশসমৃদ্ধ শীতকালীন সবজি। স্বাদ ও পুষ্টিগুণে সেরা গাজর রূপচর্চার উপাদান হিসেবেও কম যায় না। সুস্থ থাকতে খাওয়া দাওয়ায় শাক-সব্জীর ভূমিকা অসীম।
অন্যান্য সবজির তুলনায় গাজর পুষ্টিকর। গাজরে মুলার চেয়ে ২৬ গুন ফসফরাস এবং ৬৩০ গুন ক্যারোটিন বিদ্যমান। ১০০ গ্রাম গাজরে থাকে প্রতিদিনের চাহিদার প্রায় ৩৩ শতাংশ ভিটামিন এ, নয় শতাংশ ভিটামিন সি এবং পাঁচ শতাংশ বি৬। ১০০ গ্রাম গাজরে খাদ্যশক্তি ৪১ কিলোক্যালরি, শর্করা ৯.৫৮ গ্রাম, আমিষ ০.৯৩ গ্রাম, ফাইবার ২.৮ গ্রাম, ভিটামিন এ ১৬৭০৬ আইইউ, চর্বি ০.২৪ গ্রাম, বিটা ক্যারোটিন ৮২৮৫ মাইক্রোগ্রাম, পটাশিয়াম ৩২০ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ৫.৯ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩৩ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ১২ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ৬৯ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ৩৫ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৩ মিলিগ্রাম, কোলেস্টেরল ০ মিলিগ্রাম, জিংক ০.২৪ মিলিগ্রাম।
গাজরে রয়েছে উল্ল্যেখযোগ্য পরিমাণে বেটা-ক্যারোটিন, একটি খাঁটি ‘মলিকিউল’ বা অণু যা বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ উপাদান থেকে পাওয়া যায়। আর গাজর সঠিকভাবে ত্বকে ব্যবহার করতে পারলে বহুগুণে উপকার পাওয়া যায়।
চোখের রোগে : গাজরের বিটা ক্যারোটিন নিজে নিজেই ভিটামিন-এ’তে রূপান্তরিত হয়। বিটা-ক্যারোটিন আমাদের দেহের ভেতরে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে রেটিনল বা ভিটামিন-এ’তে রূপান্তরিত হয়, আর ভিটামিন-এ আমাদের দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
হজমশক্তি বৃদ্ধি করে : গাজরে খাদ্য আঁশের কারণে হজমে সহায়ক পাচক রসের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে বদহজম এবং অ্যাসিডিটির মতো সমস্যা খুব তাড়াতাড়ি কমে যায়। গাজরের রস লিভারের কার্যকারিতা বাড়ায়। ফলে হজম শক্তির উন্নতি হয়।
মাসিক সমস্যায় : মহিলাদের মাসিক সমস্যায় অসময়ে স্রাব হলে ৭৫০ মিঃ গ্রাম গাজর বীজ গুড়া করে প্রতিদিন ২-৩ বার পানি সহ খেতে হবে। এভাবে ২-৩ দিন খেলে ঋতুস্রাব স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় : গাজরে রয়েছে ক্যারোটিনয়েড যা হৃৎপিন্ডকে সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখে সেই সাথে হৃৎপিন্ডের বিভিন্ন। সমস্যা দুর করে এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।
ত্বকের লাবণ্য বাড়ায় : গাজরের রস ত্বকের লাবণ্য ও উজ্জ্বলতা বাড়ায় এবং ত্বককে সুরক্ষা করে।
চর্বি কমায় : গাজরের রস লিভারের চর্বি ও পিত্ত কমাতে সাহায্য করে।
ওজন কমায় : গাজরে ক্যালোরির পরিমাণ যৎসামান্য, যা ওজন কমাতে বেশ সহায়ক।
কোলস্টেরল কমায় : গাজরে পটাসিয়াম বিদ্যমান, যা কোলস্টেরল কমাতে সাহায্য করে।
চুল পড়া রোধে : চুল পড়া রোধে গাজরে থাকা ভিটামিন ও মিনারেল কার্যকর। গাজর চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে এবং চুলকে শক্ত ও মজবুত করে।
কুষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে : যারা দীর্ঘদিন পেটের সমস্যায় ভুগছেন, এবার গাজরে সমাধান খুঁজতে পারেন, এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে কার্যকর।
শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের অপুষ্টি দূর করে এবং শিশুদের হাড়ের গঠন ও চোখের সুস্থতা রক্ষা করে।
দাঁতের সুরক্ষা : গাজরে রয়েছে কিছু পরিমান আয়রন ও ক্যালসিয়াম নামক মিনারেলস যা দাঁতকে মজবুত রাখে।
গাজর খাওয়ার নির্দিষ্ট কিছু উপকারিতা রয়েছে যেমন- আঁশ বৃদ্ধি এবং চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখা। তবে প্রসাধনী হিসেবে এটা ব্যবহার করা ত্বকে ভিন্ন কিছু পরিবর্তন আনতে পারে। খাবার ও প্রসাধনী হিসেবে একই পণ্য ব্যবহার দেহে ভিন্ন ভিন্ন কাজ করতে পারে। তবে ত্বক ভালো রাখতে বেটা ক্যারোটিনের ব্যবহার সবচেয়ে নিরাপদ।
ত্বকে গাজরের নির্যাস সমৃদ্ধ প্রসাধনী ব্যবহারের ক্ষেত্রে লক্ষ করা উচিত, এর সঙ্গে আর্দ্রতা রক্ষাকারী উপাদান যেমন- সেরামাইড, হায়ালুরনিক অ্যাসিড, গ্লিসারিন ইত্যাদি আছে কি না। গাজর অন্যান্য ভিটামিন এ সমৃদ্ধ পণ্যের মতো কাজ করে। তবে বিশেষজ্ঞরা রেটিনয়েড সমৃদ্ধ পণ্যের সঙ্গে গাজর ব্যবহারে নিষেধ করেন। কারণ, তা ত্বকে ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
অন্যান্য: ফ্রিজে গাজর র্যাপ করে রাখবেন। না হলে স্বাদ চলে যাবে। গাঢ় কমলা রঙের গাজর কিনুন। এতে প্রচুর বিটা ক্যারোটিন আছে। গাজরের গা খসখস হলে না কেনাই ভালো। এগুলো তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়। গোড়া সবুজ এমন গাজর নিন। কালো হলে কিনবেন না।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.