সাম্প্রতিক....
Home / প্রচ্ছদ / পুষ্টি ও স্বাস্থ্য / আঙুল ফোটালে যা হয়

আঙুল ফোটালে যা হয়

অনলাইন ডেস্ক :

কাজের ফাঁকে আঙুল ফোটানোর অভ্যাস আমাদের আছে। কিন্তু আঙুল ফোটানো সম্পর্কে আমাদের অনেক কিছু অজানা আছে। কেউ যখন আঙুল ফোটান বা আঙুল মটকান, তখন তিনি জয়েন্টগুলে টেনে আলাদা করছেন। আর এই টানের ফলে যে ফাঁকা জায়গা তৈরি হচ্ছে তার মধ্যে বাতাসের বাবল তৈরি হয়। এই বাবলগুলোই ফেটে যায়, আর তার ফলেই ওই আওয়াজটি বেরোয়।

ফিলাডেলফিয়ার রথম্যান ইনস্টিটিউটের হাত ও কবজির চিফ অব সার্জারি ডা. পেদ্রো বেরেজিকলিয়ান বলেন, ‘যখন আমরা আঙুল ফোটাই কিংবা টানি, তখন দুই হাড়ের মাঝখানে কিছু ফাঁকা জায়গা বের হয়। যেখানে একধরনের নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়। আর সেখানে হাড়ের মজ্জা প্রবেশ করে। আচমকা এমন ঘটনা ঘটে বলেই তখন শব্দ সৃষ্টি হয়।’

দুটি সমীক্ষা চালানো হয়েছে এই আঙুল মটকানোর বিষয়টি নিয়ে। একটির রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে ১৯৯০ সালে। অন্যটি প্রকাশিত হয়েছে ২০১১ সালে। সেখানেই বাতের ব্যথার সঙ্গে আঙুল মটকানোর যোগ আছে কি না, তা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রথম গবেষণাটি ছিল আমেরিকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের। ১৯৯০ সালে তারা যে গবেষণাপত্র প্রকাশ করে, সেখানে বলা হয়েছিল, এই দুইয়ের মধ্যে কোনো যোগ তারা পায়নি।

পরের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন গবেষক বাতের ব্যথা বা আর্থ্রাইটিস নিয়ে কাজ করতে যান। তাঁরাও বলেন, এই বাতের সঙ্গে আঙুল ফোটানো বা মটকানোর কোনও যোগাযোগ নেই। এই গবেষণাপত্রটি ২০১১ সালে প্রকাশিত হয়।

সেক্ষেত্রে প্রশ্ন হল আঙুল মটকানো কি পুরোপুরি নিরাপদ? মোটেই তা নয়। বাতের সমস্যা না হলেও অন্য সমস্যা হতে পারে। ক্রমাগত আঙুল মটকালে আপনার সাইনোভিয়াল মেমব্রেন ছিঁড়ে যেতে পারে এবং জয়েন্টগুলিকে ফাটতে শুরু করতে পারে।

এছাড়াও যারা খুব ঘন ঘন আঙুল মটকান, তাদের আঙুল দুর্বল হয়ে যেতে পারে। কবজির হাড়ও দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তাতে কমে যেতে হাতের জোরও। ফলে আঙুল মটকানোর অভ্যাস বদলানোই ভালো।

আমাদের বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে শরীরের কার্যক্ষমতা কমতে থাকে। কিন্তু এর আগেই আপনার করা কিছু ভুলের কারনে দেহের কার্যক্ষমতা কমে যায়। অনেকেই মনে করেন, আঙ্গুল ফোটানোর কারণে মাংসপেশীতে যে টান পড়ে তার জন্য শরীরের লিগামেন্টগুলো লুজ হয়ে যায়। ফলে বয়সের আগেই আঙ্গুলের কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে।

তবে যাঁরা খুব বেশি আঙুল ফোটান তাঁদের একটু সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। কারণ, এই অভ্যাসে নিয়ন্ত্রণ না থাকলে ক্রমশ তাঁদের আঙুলের অস্থিসন্ধি দুর্বল হয়ে পড়ে। সেজন্য কাজের ফাঁকে হাত বা পিঠ-কে আরাম দেওয়ার জন্য মাঝে মধ্যে আঙুল ফোটানো যেতেই পারে। তবে খেয়াল রাখতে হবে তা যেন বদভ্যাসে পরিণত না হয়।

Share

Leave a Reply

x

Check Also

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত

—V প্রেস বিজ্ঞপ্তি :কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসের ...

Portrait of a professional, showcasing contact details and role information.