হামিদল হক; ঈদগড় :
ঈদগড়ে কোমল পানীয়সহ মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যসামগ্রীতে সয়লাব। ঈদগড় বাজারের অধিকাংশ কনফেকশনারী ও খাদ্যসামগ্রীর দোকানগুলোতে এ ধরনের মেয়াদোত্তীর্ণ কোমলপানীয় হরহামেশাই বিক্রি হয়ে থাকে। কোমলপানীয়ের বোতলে নির্দিষ্ট মেয়াদের লেখাটা অধিক ক্ষুদ্র হওয়াতে অনেক ক্রেতা তা সঠিকভাবে বুঝে নিতে পারে না।
ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জানা গেছে, বিভিন্ন কারণে হাট-বাজারের দোকানগুলোতে বিক্রি আশানুরূপ না হওয়াতে কোমল পানীয় ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী জমে থাকে। পরবর্তীতে এ পণ্যগুলোর মেয়াদই উত্তীর্ণ হয়ে যায়।
এছাড়া স্থায়ী-অস্থায়ী খাবারের হোটেলগুলোতে খোলামেলা খাবার পরিবেশন হয়ে থাকে। রমজানে ইফতারসামগ্রী ধূলোবালির উৎস রাস্তার দুই পাশে বিক্রির জন্যে পসরা সাজিয়ে রাখা হয়। মাহে রমজানকে ঘিরে কাঁচা পণ্য থেকে শুরু করে অন্যান্য খাদ্যসামগ্রীর মূল্য অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদুল আলম সহ আরো ক’জন জানান, ঈদগড়ে একাধিক খাবারের হোটেল রয়েছে, যেগুলোতে সম্পূর্ণ খোলামেলা খাবার পরিবেশন করা হয়ে থাকে। এছাড়াও মাহে রমজানে ইফতারসামগ্রী ধূলোবালির মধ্যে রাস্তার পাশেই পসরা সাজিয়ে রাখে স্থায়ী আর অস্থায়ী হোটেলগুলোতে। একদিকে পোড়া তেলে ভাজা
অন্যদিকে ধূলিকণায় ঢেকে থাকা ভোগ্যসামগ্রীগুলোই ক্রেতারা বাধ্য হয়ে ক্রয় করে নিতে হয়। স্থানীয় কয়েকজন চিকিৎসক জানান, এসব মেয়াদোত্তীর্ণ পানীয় ও খোলামেলা পরিবেশে তৈরি খাবার খাদ্যনালীতে প্রবেশ করলে মানবদেহের ক্ষতি সাধন হবেই। সব ধরনের খাবারই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেলে খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। আর কোমল পানীয়তে সমস্যা আরো বেশি। পানীয় জাতীয় খাবার মেয়াদোত্তীর্ণ হলে এতে মানবদেহের জন্যে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্মায়। এগুলো কেউ পান করলে ডায়রিয়া, কলেরাসহ দীর্ঘমেয়াদী গ্যাস্ট্রিক, আলসার হতে পারে। আর অনেক ক্ষেত্রে জুসজাতীয় পানীয় মেয়াদোত্তীর্ণ হলে ফরমালিনের মতো বিষক্রিয়া সৃষ্টি হয়। যা জনস্বাস্থ্যের জন্যে মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
ঈদগড় বাজার কমিটির এক সদস্য জানান, যদি প্রশাসনিক সফল অভিযান চালানো হয়, সেক্ষেত্রে এ ধরনের অনিয়ম আর ধোঁকাবাজি রোধ করা সম্ভব। ক’জন ব্যবসায়ীর কাছে জানা গেছে, ঈদগড় বাজারে অসংখ্য ফুড বেভারিজের দোকান রয়েছে। যেগুলোর প্রায় দোকানেই কিছু না কিছু মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য রয়েছে। এমনও প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা জানেও না মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার বিষয়টি। কোমল পানীয়গুলোর মধ্যে বেশির ভাগ বিক্রি হয়ে থাকে স্পীড, কোকাকোলা, পেপ্সি, সেভেনআপ, ক্লেমন, মোজো এবং হরেক রকমের নামে পরিচিত মিষ্টি পানীয়। এছাড়াও শুকনো খাবারের মধ্যে চানাচুর, বিস্কুট, কপি, গুঁড়ো দুধের প্যাকেটসহ যেগুলোর স্বাদ আর স্মেল ক্রেতাদের পান করতে কৌত‚হল জাগায়। বিষয়টির ব্যপারে এলাকাবাসী উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.