
পাকস্থলির এসিড যখন উল্টো দিকে প্রবাহিত হয়ে খাদ্যনালীতে চলে আসে তখন অ্যাসিডিটি বা অ্যাসিড অতিপ্রবাহ হয়। এসিডিটি বা অম্লতার চিকিত্সা করা না হলে গেস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ সহ (GERD) এবং বিভিন্ন রোগ ও স্বাস্থ্য সমস্যাকে নিমন্ত্রণ করে। দীর্ঘদিন যাবত অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভুগলে অন্য যেসব স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে তা হল :
১। ক্রমাগত কাশি
এসিডিটি এবং গেস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স এর রোগীদের ক্ষেত্রে খাদ্যনালীর নিম্নভাগের স্ফিঙ্কটার মাসেল শিথিল বা ঢিলা হয়ে পরে। ফলে পাকস্থলী থেকে এসিড স্বরযন্ত্র ও গলায় চলে আসে এবং যন্ত্রণা ও ক্রমাগত কাশী সৃষ্টি করে। লেরিংস বা স্বরযন্ত্র হচ্ছে একটি ফাঁপা অঙ্গ যা দিয়ে ফুসফুসে বাতাস চলাচল করে।
২। দাঁতের উপর প্রভাব ফেলে
পাকস্থলীর গ্যাস দাঁতের ক্ষয়রোগ বা ছিদ্র সৃষ্টি করতে পারে। এসিডিটি বা গেস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স দীর্ঘদিন থাকলে দাঁতের এনামেল নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
৩। খাদ্যনালীর ক্যান্সার
বিরল বা চূড়ান্ত পর্যায়ের এসিড রিফ্লাক্স বা অম্লের অতিপ্রবাহ ইসোফেজিয়াল ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে। গবেষণায় পাওয়া গেছে যে এসিড রিফ্লাক্স এর সমস্যায় ভুগছেন এমন ১০০০ জনের মধ্যে ১০ জনের অন্ননালীর ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
৪। পাকস্থলির ক্ষত বা পেপটিক আলসার
এসিডিটির ফলে পাকস্থলিতে এবং খুদ্রান্তের প্রথম অংশ ডিওডেনামে পেপটিক আলসার হতে পারে। পেপটিক আলসার হলে পাকস্থলির ভেতরের আবরণের মধ্যে যন্ত্রণাদায়ক ঘা হয়। এর থেকে নিরাময়ের জন্য চিকিত্সক অ্যান্টিবায়োটিক সেবন বা অপারেশনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
৫। নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ
যদি মৌখিক স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলার পরেও আপনি নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধের সমস্যায় ভুগে থাকেন তাহলে আপনার এসিডিটি সমস্যা আছে ধরে নিতে হবে। চিকিত্সকেরা নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধের সাথে এসিড রিফ্লাক্সের সম্পর্ক পেয়েছেন। তাই নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ দূর করার জন্য প্রচুর পানি পান করুন এবং চিনিমুক্ত চুইংগাম চাবান।
৬। খাবার খাওয়ার সময় ব্যথা অনুভব করা
GERD এর রোগীরা খাদ্য গ্রাস করার সময়ে অস্বস্তি বা ব্যথার কথা বলে থাকেন। এর কারণ এসিডিটির ফলে খাদ্যনালীর টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাকস্থলির এসিড নিয়মিত খাদ্যনালীতে চলে আসলে খাদ্যনালীর নিম্ন অংশ সংকুচিত হয়।
৭। বমিবমি ভাব বা বমি হওয়া
যদি খাবার খাওয়ার পরই বমিবমি ভাব বা বমি হয় তাহলে এসিডিটির সমস্যা আছে বুঝে নিতে হবে, যদিনা আপনার পাকস্থলির সংক্রমণ বা ফুড পয়জনিং না হয়ে থাকে।
৮। পেট ফাঁপা
এসিডিটির সমস্যায় যারা ভোগেন তারা প্রায়ই পেট ভরা অনুভব করেন এবং খাওয়ার পর পেট ফুলে যেতে দেখা যায়।
৯। বুকেব্যথা ও বুকজ্বালা
এসিডিটির খুব সাধারণ একটি উপসর্গ হচ্ছে বুকেব্যথা ও বুকজ্বালা করা। যখন পাকস্থলির এসিড খাদ্যনালীর দিকে অগ্রসর হতে থাকে তখন বুকেব্যথা ও অম্বল হয়। বুকে ব্যথা হলে অনেকেই ভাবেন যে তার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। তাই অবহেলা করা ঠিক নয়। গেস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট ওয়াল্টার জে কয়লি বলেন, “যদি আপনার বুকে ব্যথা হয় তাহলে আপনার হার্ট অ্যাটাক হয়নি তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য চিকিত্সকের কাছে যান”।
১০। উপরের পেটে ব্যথা
এসিডিটির আরেকটি খুব সাধারণ একটি উপসর্গ হচ্ছে উপরের পেটে ব্যথা হওয়া। পেটে ব্যথার অনেক কারণ থাকে তবে যদি পাকস্থলির উপরের অংশে ব্যথা হয় তাহলে ধরে নেয়া যায় আপনি এসিডিটির সমস্যায় ভুগছেন।
সূত্র: সাবেরা খাতুন/deshebideshe.com,ডেস্ক।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.