
বডি মাস ইনডেক্স ২৫ এর বেশি হলে কোলন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পায় ছবি : সংগৃহীত।
অস্ট্রেলিয়ায় করা একটি নতুন গবেষণায় জানা গেছে যে, ধূমপান এবং লাল মাংস খাওয়ার মত জীবনধারার কিছু বিষয় এক-চতুর্থাংশ কলোরেক্টাল ক্যান্সারের ঘটনার সাথে সম্পর্কিত।
আমারিকার ৩য় সবচেয়ে সাধারণ ক্যান্সার হচ্ছে কলোরেক্টাল ক্যান্সার। আর অস্ট্রেলিয়ায় এটি ২য় সবচাইতে সাধারণ ক্যান্সার।
অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্সার এপিডেমিওলজি রিসার্চ ইউনিট এর প্রধান এবং গবেষণার প্রধান লেখক ডা. ক্লেয়ার ভাজডিক বলেন, গবেষকেরা জেনেছেন যে – ধূমপান করা এবং ওজন অতিরিক্ত হওয়া – বডি মাস ইনডেক্স ২৫ এর বেশি হলে কোলন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পায় অস্ট্রেলিয়ায়। ভাজডিক তার এই উদ্ভাবনটি ৩রা এপ্রিল আমেরিকান এসোসিয়েশন ফর ক্যান্সার রিসার্চ এর বার্ষিক মিটিং এ উপস্থাপন করেন।
ভাজডিক লাইভ সায়েন্সকে বলেন, জীবনযাপন পদ্ধতির অন্যান্য বিষয়গুলোও ক্যান্সারের ক্ষেত্রে অবদান রাখে : লাল মাংস সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া ৬ শতাংশ কোলন ক্যান্সারের সাথে সম্পর্কিত। একদিনে দুটির বেশি অ্যালকোহলিক পানীয় পান করা ৪ শতাংশ কোলন ক্যান্সারের সাথে সম্পর্কিত।
এই গবেষণাটির জন্য গবেষকেরা ৩,৭০.০০০ অস্ট্রেলিয়ানের উপাত্ত একত্রিত করেন যা পূর্ববর্তী ৭ টি দলীয় গবেষণায় সংগ্রহ করা হয়েছিলো। তাদের ১০ বছরের বেশি সময় ধরে পর্যবেক্ষণ করা সময়ে তারা ৩,৫০০ অংশগ্রহণকারীর মধ্যে কলোরেক্টাল ক্যান্সার হতে দেখেন।
প্রতিটা বিষয়কে পৃথকভাবে লক্ষ্য করে দেখা যায় যে, গবেষকেরা হিসাব করে দেখেন কোলন ক্যান্সারের কতটি ঘটনা ঘটেছিলো ৪ টি ফ্যাক্টরের সমন্বয়ের কারণে। তারা দেখেন যে, ২৫ শতাংশ কোলন ক্যান্সারের ঘটনা ঘটেছিলো ৪ টি ফ্যাক্টরের কারণে। ভাজডিক উল্লেখ করেন – কিন্তু এই শতকরা হার শুধু ৪ টি ফ্যাক্টরের প্রভাব নিয়েই গণনা করা হয়নি। কারণ এই রিস্ক ফ্যাক্টরগুলোর কিছু কিছু পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত যেমন- প্রায়ই ধূমপান ও অ্যালকোহল পান করা হয় একই সাথে। তাই একটি পৃথক হিসাব গণনা করা হয়েছিলো বলে জানান তিনি।
গবেষকেরা দেখেন যে, জীবন ধারার কারণগুলো নারীর চেয়ে পুরুষের ক্ষেত্রেই বেশি হতে দেখা যায় : পুরুষের ৩৩ শতাংশ কলোরেক্টাল ক্যান্সার তাদের জীবনযাপনের বিষয়গুলোর সাথে সম্পর্কিত। কিন্তু মাত্র ১৫ শতাংশ কলোরেক্টাল ক্যান্সার নারীর জীবনধারার ফ্যাক্টরের সাথে সম্পর্কিত ছিলো।
গবেষকেরা জেনেছেন যে, পুরুষের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ওজন ক্যান্সারের ঝুঁকির ক্ষেত্রে অনেক বেশি প্রভাব ফেলে : ১৫ শতাংশ ঘটনাই BMI যাদের ২৫ এর বেশি ছিলো তাদের হয়েছিলো। নারীদের মধ্যে ধূমপান অনেক বড় প্রভাব ফেলেছিলো, এই রিস্ক ফ্যাক্টরের সাথে ৭ শতাংশ ক্যান্সারের ঘটনার সম্পর্ক দেখা গিয়েছিলো।
কোলন ক্যান্সারের ক্ষেত্রে অন্য একটি ফ্যাক্টর ভূমিকা রাখে আর তা হচ্ছে একজন মানুষ কতটুকু ফাইবার গ্রহণ করছেন। এই ফ্যাক্টরটি সাম্প্রতিক গবেষণায় যুক্ত হয়নি। ভাডজিক বলেন, যদিও গবেষকেরা পরিকল্পনা করছেন ভবিষ্যতে এটি বিশ্লেষণ করার।
সূত্র:সাবেরা খাতুন/priyo.com,ডেস্ক।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.