
অনলাইন ডেস্ক :
শীতে গলা ব্যথা খুব সাধারণ একটি সমস্যা। কনকনে ঠাণ্ডা বাতাসে খুব সহজেই গলা বসে যায় বা গলা ব্যথা হয়। এই পরিস্থিতিতে ঠাণ্ডা থেকে নিজেকে দূরে রাখা দরকার। আর আবহাওয়ার পরিবর্তনে যদি শরীর খারাপ হয়ে যায় তবে চিন্তা করার কিছু নেই।
গলার ব্যথার পিছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। গলা ব্যথা হলে খাবার গিলতে এমনকি কথা বলতেও কষ্ট হয়। শীতে গলা ব্যথা খুব সাধারণ একটি সমস্যা। কনকনে ঠাণ্ডা বাতাসে খুব সহজেই গলা বসে যায় বা গলা ব্যথা হয়। উপসর্গগুলোর মধ্যে থাকতে পারে গিলতে সমস্যা, গলায় বিরক্ত বোধ, ঘামাচির অনুভূতি, কথা বলতে অসুবিধা এবং অন্যান্য গ্রন্থি ফুলে যাওয়া।
চিকিৎসাবিদ্যায় গলা ব্যথার পারিভাষিক নাম হল ফ্যারিঞ্জাইটিস। এটি ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাস উভয়ের সংক্রমণের কারণে ঘটে। হঠাৎ আবহাওয়া পরিবর্তনের এই সময়েই হুট করে ঠান্ডা লেগে যেতে পারে। হতে পারে গলা ব্যথা। সেইসঙ্গে খুশখুশে কাশি তো রয়েছেই। এটি আমাদের জন্য বেশ অস্বস্তিদায়ক। এই পরিস্থিতিতে ঠাণ্ডা থেকে নিজেকে দূরে রাখা দরকার। এ সমস্যায় ওষুধ না খেয়ে বরং ঘরোয়া উপায়ে এর সমাধান করতে পারেন।
গলার ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে ঘরোয়া উপায়
দুধ-হলুদের মিশ্রণ : হলুদ একটি শক্তিশালী অ্যান্টি অক্সিডেন্টের উৎস। গুরুতর সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি আছে এই উপাদানে। গলা ব্যথা সারাতে ঘুমানোর আগে হলুদ দুধ পান করুন। একে সোনার অমৃতও বলা হয়।
স্টিম নিন : গলা ব্যথা সারাতে স্টিম বা গরম ভাঁপ নিতে পারে। স্টিমের আর্দ্র বাতাস অনুনাসিক প্যাসেজ, গলা ও ফুসফুসে আটকে থাকা আঁঠালো শ্লেষ্মা আলগা করে। ফলে মুহূর্তেই স্বস্তি মেলে।
আদা : গলা ব্যথা থেকে আপনাকে মুক্তি দিতে পারে আদা। এর অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য গলা ব্যথা সারাতে সহায়তা করে। পানি গরম করে তাতে কয়েক টুকরো আদা দিন। এটি প্রায় ৫-১০ মিনিটের জন্য ফোটান। দিনে কমপক্ষে দুইবার এই পানি পান করুন। আদায় থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট গলা ব্যথা সারাতে দারুন কাজ করে।
লেবুর রস : আমাদের শরীর থেকে টক্সিন দূর করতে লেবু বেশ কার্যকরী। গলা ব্যথা হলে একগ্লাস গরম পানিতে লেবুর রস ও এক চা চামচ মধু ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। দিনে অন্তত দুইবার পান করুন। গলা ব্যথা ও টনসিলের সমস্যা দূর হবে দ্রুত।
গরম পানিতে গার্গল : গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে গার্গল করলেও গলার প্রদাহ কমে। গলা থেকে জীবাণু দূর করার এই পদ্ধতির সঙ্গে সবাই কমবেশি পরিচিত, আর তা বেশ কার্যকরও বটে। তবে এর সুফল পেতে হলে টানা তিন থেকে চার দিন গার্গল করতে হবে। যদিও এই পদ্ধতিতে রোগ-জীবাণু বিশেষ করে করোনাভাইরাস ধ্বংস হয় কি-না তার কোনো নিশ্চিত প্রমাণ নেই। তবে অস্বস্তি যে দূর করে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। শরীরের আর্দ্রতা বজায় রাখতেও লবণ পানি দিয়ে গার্গল করার উপকারিতা আছে।
এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে আধা টেবিল-চামচ লবণ গুলে নিলেই আপনার কাজ শেষ। এখন শুধু গার্গল করতে হবে। তবে পানি গিলে ফেলা যাবে না। দিনে অন্তত দুই থেকে তিনবার এটি অনুসরণ করতে পারেন। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করবেন না। সুফল পেতে নুন্যতম তিন দিন করে যেতে হবে।
যষ্টিমধু : আয়ুর্বেদিক গুণসমৃদ্ধ যষ্টিমধু সরাসরি খাওয়া যায়, যোগ করা যায় চায়ের সঙ্গে। গলা ব্যথার সঙ্গে আসা চুলকানি বা অস্বস্তি দূর করতেও এটি অনন্য। মূলত এতে থাকে ভাইরাসনাশক উপাদান যা আক্রমণ করে শরীরে রোগ সৃষ্টিকারী ‘প্যাথোজেন’গুলোকে।
পাশাপাশি এটি তৈরি করে উপকারী ‘মিউকাস’ যা গলার ব্যথা কমায় এবং নরম করে। এতে আরও থাকে ‘অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট’, যা ‘ফ্রি র্যাডিকেল’ বা মুক্ত মৌলের সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখে।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.