উখিয়া উপজেলার বাণিজ্যিক স্টেশন কোটবাজারের জনসাধারণ ও ছাত্র-ছাত্রীরদের যাতায়াতের চরম দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। প্রতিদিন সকালে জেলার বিভিন্ন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুলে অধ্যায়ণরত ছাত্র-ছাত্রীদের ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয় গাড়ির জন্য।
এছাড়াও কোটবাজার থেকে অন্যান্য স্থানে যাতায়াত কারীর যাত্রীদেরও একই দুর্দশার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। জেলা পরিষদ কক্সবাজার থেকে কোটবাজারের যাত্রীদের যাতায়াত সুবিধার্থে একটি যাত্রী ছাউনী নির্মাণ করে দিলে ও তা এখন নেই, ওটা এখন অন্যের দখলীয় দোকান হয়ে গেছে। বিশেষ করে জেলা শহর কক্সবাজারে যাওয়ার জন্য সবচেয়ে বেশী দুর্ভোগের শিকার হতে হয় কোটবাজারের যাত্রীদের।
দূরপাল্লার বাস যেসব টেকনাফ থেকে ছেড়ে আসে সে সব গাড়ীতে মাঝপথ থেকে যাত্রী ওঠানো হয় না, কারণ কোটবাজারে আসার আগেই যাত্রী বোঝাই হয়ে যায়। উখিয়া থেকে যেসব গাড়ী, বিশেষ করে কক্স-লাইন ও সী-লাইন প্রতি ১৫ মিনিট পর পর ছেড়ে আসলে ও উখিয়া থেকে যাত্রী সীট পূর্ণ বুকিং করে আসার কারণে কোটবাজার থেকে কোন যাত্রী ওঠানোর ব্যবস্থা থাকে না। ফলে অপেক্ষারত যাত্রীদের বাধ্য হয়ে মাইক্রোবাস, সিএনজিসহ বিভিন্ন ছোট-খাটো গাড়ি নিয়ে ঝূঁকিপূর্ণ ভাবে যাতায়াত করতে হয়। অনেক সময় যাত্রীদের যাতায়াতের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে অসাধু সিএনজি ও মাইক্রোবাস ড্রাইভারগণ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে নিচ্ছে। তারা কক্সবাজারে যাওয়ার জন্য জনপ্রতি ৭০-১০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করে নিচ্ছে। মাঝে মধ্যে যাত্রী ও ড্রাইভারের মধ্যে মারামারী হাতাহাতীরও লক্ষ করা যায়।
জেলা শহর কক্সবাজারে রয়েছে সরকারী কলেজ, সিটি কলেজ, মহিলা কলেজ, হার্ভার্ড ইন্টারন্যাশনাল কলেজ, কমার্স কলেজ, টেকনিক্যাল কলেজ, কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভারসিটিসহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ওইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়ণরত রয়েছেন কোটবাজার, সোনার পাড়া, ভালুকিয়াসহ এলাকার ৪/৫ শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী যাদেরকে কোটবাজার স্টেশন থেকে গাড়িতে উঠতে হয় তাদের নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার জন্য।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টেকনাফ থেকে ছেড়ে আসা দুরপাল্লার বাসে প্রতি গাড়ীতে ১০ জন ছাত্রছাত্রী ও উখিয়া থেকে ছেড়ে আসা কক্স-লাইন ও সী-লাইন এ ৩জন নিয়ম থাকলেও তা কোটবাজার পৌছাঁর আগেই ছাত্র-ছাত্রীর কোটা পরিপূর্ণ যাওয়ায় কোটবাজারে অপেক্ষারত ছাত্র-ছাত্রীরা গাড়ীতে ওঠতে না পারায় যথা সময়ে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌছঁতে পারছে না। যার ফলে ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা ব্যবস্থায় ও গ্রহনে ব্যঘাত ঘটার পাশাপাশি তাদের মাঝে হতাশার চাপ লক্ষ্য করা যায়, আবার অনেক ছাত্রছাত্রকে এ হতাশার মধ্যে দিয়ে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে না গিয়ে বাড়িতে ফিরে যেতে হচ্ছে।
কোটবাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ফিরোজ আহম্মদ সওঃ ক্ষোভের সাথে জানান, উপজেলা জনবহুল ষ্টেশন কোটবাজার এখানে রয়েছে ব্যাংক, বীমা, এনজিও, সহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ঐসব প্রতিষ্ঠানের কর্মরত ব্যক্তিদের চাকরী বা ব্যবসার জন্য জেলা শহর কক্সবাজারে প্রতি নিয়ত যাতায়াত করতে হয় কিন্তু কোটবাজার থেকে যাতায়তের প্রর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় অপূরণীয় ক্ষতি সাধন সহ নানান মুখী সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এখন সময়ের দাবী কোটবাজরের যাত্রীদের যাতায়তের জন্য স্টেশনে কোটবাজার থেকে কক্সবাজার কক্স-লাইন, সী-লাইন সহ স্পেশাল সার্ভিসের বুকিং কাউন্টার স্থাপনের।
এব্যাপারে জেলা পরিবহন কর্তৃপক্ষ সহ উপজেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন অবহেলিত কোটবাজারের জনসাধারণ।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"



You must be logged in to post a comment.