সাম্প্রতিক....
Home / প্রচ্ছদ / রামুতে ইয়াবাসহ আনসার সদস্য আটকের ঘটনায় দুই এসআই প্রত্যাহার

রামুতে ইয়াবাসহ আনসার সদস্য আটকের ঘটনায় দুই এসআই প্রত্যাহার

OC Ramuনিজস্ব প্রতিনিধি, রামু :

কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলায় ৪ হাজার পিচ ইয়াবাসহ আনসার সদস্য মোঃ হাফিজ উদ্দিন (৪৫) আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই উপ-পরিদর্শককে (এসআই) রামু থানা থেকে প্রত্যাহার করেছে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার (১৩ নভেম্বর) এ আদেশ দেন জেলা পুলিশের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা। তবে ইয়াবাসহ আনসার সদস্য আটকের ঘটনায় থানার দুই উপ-পরিদর্শক (এসআই) প্রত্যাহার হলেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আব্দুল মজিদ।

বিজিবির হাতে ইয়াবাসহ আনসার সদস্য আটক হওয়ায় ঘটনায় ওইসব ইয়াবা পাচারে স্বয়ং রামু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আব্দুল মজিদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কতিপয় আনসার সদস্যরা জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মোঃ হাফিজ উদ্দিন এর আগে রামু থানাসহ কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন থানায় দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত ছিলেন। তিনি রামু থানায় কর্মরত থাকাকালীন পুলিশের সহায়তায় বিশাল ইয়াবা পাচারের সিন্ডিকেট গড়ে তুলে। বিশাল অংকের আর্থিক সুবিধা পাওয়ায় এসব দেখেও না দেখার ভান করে ছিলেন রামু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আব্দুল মজিদ। বিভিন্ন সময়ে পুলিশের জব্দ করা ইয়াবা বেচা-বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে আনসার সদস্য হাফিজের বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সম্প্রতি মরিচ্যা রেজুখাল এলাকা থেকে মোঃ হোছন আলী (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে ৪৭১৫ পিচ ইয়াবাসহ আটক করে বিজিবি। এ ঘটনায় রামু থানায় মামলা দায়ের করে বিজিবির জেসিও ফজলুল হক। ওই মামলার তদন্তের দায়িত্ব পান রামু থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ ইউনুছ। বিজিবির উদ্ধারকৃত ৪৭১৫ পিচ ইয়াবা রামু থানার মালখানায় সংরক্ষণ করা হয়েছিল। মালখানার দায়িত্বে ছিলেন উপ-পরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম। মালখানা থেকে অদৃশ্য ভাবে গায়েব হয়ে যায় বিজিবির জব্দকৃত ওইসব ইয়াবা।

কক্সবাজার পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিজিবির হাতে আনসার আটকের ঘটনায় পুলিশ প্রত্যাহারের ঘটনা এক নয়। মিটিং-এ থাকায়; পরে অফিসে এসে এ ব্যাপারে কথা বলার অনুরোধ জানান এসপি।

১৭ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের (বিজিবি) অধিনায়ক মোঃ রবিউল ইসলাম জানান, আটক মোঃ হাফিজ উদ্দিন ও মোঃ মিজান মিয়ার বিরুদ্ধে দেড় বছরের কারা দন্ডাদেশ দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বাংলাদেশ পুলিশ চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি তিনি অবগত আছেন। কক্সবাজার পুলিশ সুপারকে তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি তদন্ত করে জানানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার রামু-মরিচ্যা যৌথ চেকপোষ্টে ৪ হাজার ইয়াবাসহ কক্সবাজার পুলিশ লাইনের স্পেশাল আনসার সদস্য মোঃ হাফিজ উদ্দিন ও মানবপাচারকারী মোঃ মিজান মিয়া (৩৫)কে আটক করে বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন বাংলাদেশ (বিজিবি)।

আনসার সদস্য মোঃ হাফিজ কুষ্টিয়া জেলার মীর উপজেলার পালবাড়িয়ার চারুলিয়া গ্রামের মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে এবং মানবপাচারকারী মোঃ মিজান মিয়া রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পূর্ব ধেছুয়াপালং এলাকার হাজী মোঃ সৈয়দ আহম্মদের ছেলে।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪ হাজার পিচ ইয়াবা ও একটি পালসার মোটর সাইকেল জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মোটর সাইকেলটি রামু থানার উপ-পরিদর্শকের (এসআই) এবং ইয়াবা পাচারের সাথে মরিচ্যা এলাকার এক ব্যক্তিরও সম্পৃক্তরা রয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

Share

Leave a Reply

x

Check Also

https://coxview.net/wp-content/uploads/2023/01/BGB-Rafiq-24-1-23.jpeg

বিপুল পরিমাণ পপিক্ষেত ধ্বংস করল বিজিবি

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম; লামা-আলীকদম : পার্বত্য জেলা বান্দরবানে থানচি উপজেলা গহীণ অরণ্যে মাদক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ...

Portrait of a professional, showcasing contact details and role information.