
রোহিঙ্গা পণ্য সামগ্রী কাধে করে গ্রামে গ্রামে বিক্রি করছে রোহিঙ্গা শিশু আনাস।
হুমায়ুন কবির জুশান; উখিয়া :
মিয়ানমার সেনা ও উগ্রপন্থি রাখাইনের নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা এগারো বছরের ছোট শিশু আনাস এখন ছয় সদস্যে পরিবারের প্রধান। যে বয়সে তার বাবা-মায়ের তত্বাবধানে থাকার কথা সে বয়সেই সে নিজে মাসহ তিন ভাই ও বোনদের দায়িত্ব তার কাধে পড়েছে।
মিয়ানমার মংডুর-বুচিডং থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে আসা আনাস তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বালুখালী ক্যাম্পের ডি ১৩ ব্লকে থাকেন। বাবার অনুপস্থিতিতে এগারো বছরের শিশু আনাস এখন তার ছয় সদস্যের পরিবারের প্রধান দায়িত্বে থেকে জীবিকা নির্বাহের জন্য বিভিন্ন স্থানে রোহিঙ্গাদের দেয়া পণ্য সামগ্রী বিক্রি করতে ছুটে বেড়াচ্ছে। পরিবারের অপর সদস্যরা হচ্ছে ভাই মোহাম্মদ কবির (৯) ওমর ফারুক (৮) ইয়াসিন (৭) ও নুরে জান্নাত (৫)। বুচিডং এর বাড়িতে মিয়ানমারের সেনা-পুলিশের গুলিতে আগে মারা যায় এই পাঁচ রোহিঙ্গা শিশুর বাবা আবু বকর ছিদ্দিক। বাবা নিহত হওয়ার পর আনাস মা, আয়েশা বেগম পরিবারদের নিয়ে আট মাস আগে চলে আসে বাংলাদেশে।
আনাস জানায়, বুচিডং এর পাশের গ্রামে আমাদের বাড়ি ছিল, এখানে আসার আগে আমার বাবাকে মগরা কেটে ফেলেছে, এখন মা, ভাই-বোনদের নিয়ে বালুখালী ক্যাম্পে থাকি। সে আরো জানায়, মা, ভাই-বোনদের দেখা শুনা আমার করতে হয়। পরিবারের সব খরচ আমাকে জোগাড় করতে হয়। আমরা যে পরিমাণ খাদ্য সামগ্রী পায় তা দিয়ে আমাদের সংসার চলেনা। তাই আমি ক্যাম্প থেকে বিভিন্ন জিনিস পত্র নিয়ে গ্রামে গ্রামে গিয়ে বিক্রি করি। উখিয়া সদর কাজিপাড়া এলাকায় সোমবার দুপুরে এই রোহিঙ্গা শিশু আনাসের সাথে আলাপকালে এসব তথ্য জানা যায়।
ক্যাম্পে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের মধ্যে প্রায় ষাট শতাংশই নারী ও শিশু। এসব শিশুদের কারো হয়তো বাবা নেই, কারো মা নেই এমনি কি বাবা মা দুইজনই নেই। আবার অনেক শিশু আছে যাদের বাবা-মা থাকলেও সীমান্তের ওপারে কিংবা এপারে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এসব শিশুদের বিশেষ কর্মসূচির আওতায় এনে তাদের অধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.