
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বয়োবৃদ্ধরা গাছের তলে বসে আছেন প্রচন্ড তাপদাহে একটু শীতলতার আশায়।
হুমায়ুন কবির জুশান; উখিয়া :
জোহরের নামাজ শেষ করেছে রোহিঙ্গারা। ময়নাঘোনা ১১ নং ক্যাম্পের পাহাড়ের মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে নিচে আর নামতে পারছেন না। বিশাল এক গাছের ছায়াতলে প্রচন্ড তাপদাহে একটু শীতলতার আশায় বসে বসে গল্প করছেন বয়োবৃদ্ধ রোহিঙ্গারা। তাদের সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। মোহাম্মদ ইউসুফ, জিয়াবুর রহমান, মোহাম্মদ নুর, হাফেজ দিল মোহাম্মদ ও জাহেদুল ইসলাম জানান, আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি মিয়ানমার। সেখানে গাছ-পালা চারদিকে সবুজের সমারোহ। আমাদেরও বাড়িঘর জায়গা-জমি ধন সম্পদ ছিল। আমাদের কোনো কিছুর অভাব ছিল না। একটি মাত্র অভাব পারস্পরিক সহমর্মিতার। বিশ্বের ইতিহাসে বাংলাদেশ পারস্পরিক সহমর্মিতা ও মানবতার উজ্জল দৃষ্টান্ত। এরপরও বলি জীবনের ক্লান্তিলগ্নে এসে এত প্রচন্ড গরম আমরা আর দেখিনি। ক্যাম্পে থ্রিপলের ছাউনি ঝুপড়ি ঘরে এই গরমে থাকা খুবই কষ্টকর। তাই নামাজ শেষে একটু আরাম করতে সবাই জড়ো হয়ে বসে আছি। রংপুর থেকে আসা ক্যাম্পে কর্মরত এনজিও কর্মী মৌসুমি, বৃষ্টি ও হাবিবা বলেন, মাথায় ছাতা, তবুও গ্রীস্মের তাপদাহে মানবতার খাতিরে প্রতিদিন ক্যাম্পে আসা যাওয়া করতে হয়। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে এনজিও কর্মীরা ক্যাম্পে কাজ করছেন। এভাবেই গেল সপ্তাহ জুড়ে প্রচন্ড তাপমাত্রা বড্ড ভুগিয়েছে আমাদের। আর এতে সব চেয়ে বেশি বেগ পোহাতে হয় মোটরসাইকেল আরোহী ও শ্রমজীবি মানুষের। পাশাপাশি সড়কের তীব্র জ্যাম যেন তাপদাহকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়।
স্থানীয় সমাজ কর্মী নুরুল কবির মাহমুদ ও নুরুল আলম বলেন, অসহ্য গরমে মানুষ হাঁসফাঁস করছেন। প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না কেউ।
এই গরমে তৃঞ্চা মেটাতে উখিয়াতে দেখা যায় তরমুজের ব্যাপক চাহিদা। কয়েকদিন আগে যে তরমুজ দুইশ টাকায় ক্রয় করেছি সেই তরমুজ এখন তিনশ পঞ্চাশ টাকার কমে দিচ্ছে না। বারো লাখ রোহিঙ্গা অধ্যুষিত উখিয়া-টেকনাফে তরমুজের ব্যাপক চাহিদা থাকায় এখন বেশ দাম দিয়েও তরমুজ পাওয়া কষ্টকর। এ গরমে তরমুজ মানুষের পিপাসা মেটানোর অন্যতম নিয়ামক হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে গরমে অনেকেই ছোটেন ডাবের দোকানে। এই সুযোগে ডাবের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বিক্রেতারা। ডাব প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকায়। বৈশাখে বৃষ্টির দেখা নেই। এই সুযোগে সূর্যও প্রচন্ড উত্তাপের রাজত্ব করছে।
স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানান, রোহিঙ্গাদের কারণে উখিয়ার বনভূমি ও পাহাড় উজাড় হয়েছে। তাই গাছ-পালা না থাকায় গরমের তীব্রতা বাড়ছে। দিনকে দিন গ্রীস্মের খরতাপ বাড়ছে তো বাড়ছেই। রোদ গরমের তীব্রতায় জীবন যেন ওষ্ঠাগত। এই গরমে রাস্তার খোলা শরবত পান করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন ডাক্তাররা।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.