বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আহসান আবদুল্লাহ বলেছেন, মানুষের খাদ্য নিরাপত্তার প্রয়োজনে মাছের গুনগত মান নিশ্চিত করতে হবে। এই জন্য চিংড়ি খামার গুলোকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। পৃথিবীতে খাদ্য উৎপাদন একটি সহজ কাজ হলেও আমাদের দেশে এক শ্রেণীর মানুষের অমুলক কাজের কারনে তা অনিরাপদ এবং জনজীবনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে অতিমুনাফা লোভী মানুষের অসুদাপায় অবলম্বনের কারনে অনিরাপদভাবে চিংড়ি উৎপাদন হয়। এসব চিংড়ি আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানী করা হলে তা সেই দেশে পরীক্ষায় ধরা পড়ে নানা অসঙ্গতি।
এ কারনে অনেক সময় বাংলাদেশ চিংড়ি রপ্তানীতে বড়ধরণের ক্ষতির শিকার হয়। তাই এখন থেকে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি উত্তোরণের লক্ষ্যে এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ২০০ কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তার স্বার্থে স্বাস্থ্য সম্মতভাবে মৎস্য উৎপাদনে সকলকে কাজ করতে হবে।
শুক্রবার সকালে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা পরিষদ সড়কের আইসিডিডিআরবি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত স্বাস্থ্যসম্মত নিরাপদ চিংড়ি উৎপাদন বিষয়ক তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ইকোনোমিক গ্রোথ (বিইজিপি) প্রকল্পের অর্থায়নে ও বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিলের (বিপিসি) সহযোগিতায় এবং ফিস ফার্ম ওনার্স এসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ফোয়াব) এর আয়োজনে স্থানীয় চিংড়ি চাষী, খামারীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় দুইদিনের এ কর্মশালা।
ফিস ফার্ম ওনার্স এসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ফোয়াব) এর সভাপতি মোল্লা সামছুর রহমান শাহীনের সভাপতিত্বে প্রথমদিনে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালায়ের উপসচিব মোহাম্মাদ মুসলেহ উদ্দিন, চকরিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাহেদুল ইসলাম, ফোয়াব কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও কক্সবাজার আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মোঃ শহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠিত কর্মশালায় রির্সোচ পারসন হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের সাবেক উপ-পরিচালক ড. নিত্যানন্দ দাস, মৎস্য অধিদপ্তর চট্টগ্রামের সহকারি পরিচালক মোঃ কদর আহমেদ, কক্সবাজার সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ড. মইন উদ্দিন আহমেদ, চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ সাইফুর রহমান প্রমুখ।
কর্মশালা শেষে মুক্ত আলোচনায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের চিংড়ি বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও পুষ্টি সরবরাহে উল্লেখ্যযোগ্য ভূমিকা থাকলেও কক্সবাজারের চকরিয়া ও পার্বত্য জেলা বান্দবানের কয়েকটি উপজেলার পাহাড়ে তামাক চাষের কারনে এখানের নিরাপদ মৎস্য চাষ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই দেশের সম্ভাবনাময় মৎস্য খাতকে রক্ষা করতে হলে পরিবেশ বিধ্বংসী তামাক চাষ বন্ধ করতে হবে। এই জন্য জনগণের মতামতের ভিত্তিতে প্রশাসনকে এব্যাপারে জোরালো উদ্যোগ নিতে হবে।
বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্যসম্মত মাছ উৎপাদন করতে হলে ঘের এলাকায় গরু, ছাগল, মহিষ পালন বন্ধ করতে হবে। সুরক্ষিত রাখতে হবে ঘের ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠান গুলোকে। মৎস্য পরিবহনেও সর্তকতা রাখতে হবে।
এদিকে শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অথিতি ও রির্সোস পারসনদের উপস্থিতিতে চকরিয়া উপজেলার দরবেশকাটা এলাকায় উত্তম উপায়ে মৎস্য চাষ অনুশীলনের উপর ব্যাবহারিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"



You must be logged in to post a comment.