সাম্প্রতিক....
Home / প্রচ্ছদ / সাম্প্রতিক... / টানা ১৮ বছর বিকল এক্স-রে মেশিন, দন্তের সরঞ্জাম আছে ডাক্তার নেই

টানা ১৮ বছর বিকল এক্স-রে মেশিন, দন্তের সরঞ্জাম আছে ডাক্তার নেই

চকরিয়া সরকারী হাসপাতাল শয্যা ওষুধ ও জনবল বাড়ানোর দাবি

মুকুল কান্তি দাশ; চকরিয়া :

দিন দিন বাড়ছে মানুষ। সাথে বাড়ছে চাহিদা। এই চাহিদা ও প্রাপ্তির ব্যাপক ফারাক থেকে যাচ্ছে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এই সরকারী হাসপাতালে রোগির ঠাই নেই অবস্থা। প্রতিদিনেই অপর্যাপ্ত জনবল নিয়ে চিকিৎসা সেবায় হিমসিম খেতে হচ্ছে ডাক্তারদের। তবুও সন্তুষ্ট করতে পারছেনা রোগিদের। এই হাসপাতালে শয্যা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স, ক্লিনারসহ ওষুধ বরাদ্দ বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চকরিয়া সরকারী হাসপাতালে ২০০০ সালে একটি এক্স-রে মেশিন বরাদ্দ দেয়া হলেও ওই মেশিনটি বিকল থাকায় ১৮ বছরেও কোন এক্স-রে করা সম্ভব হয়নি। ২০০৮ সালে সিমেন্স কোম্পানীর লোকজন পরিদর্শনে এসে মেশিনটি মেরামত করতে ২১ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে বলায় ওই মেশিন বিকল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এখন ওই মেশিন বাঁদ দিয়ে ডিজিটাল মেশিন বরাদ্দের দাবি উঠেছে।

এই হাসপাতালকে ৫০ শয্যা করা হলে তা পর্যাপ্ত নয়। চকরিয়ার ৫ লক্ষাধিক মানুষ ছাড়াও নিকটবর্তী পেকুয়া, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, লামা-আলীকদমসহ বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার লোক চিকিৎসা নিতে আসে এই হাসপাতালে।

সোমবার সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, আউট ডোরে অন্তত ১৬’শ রোগি চিকিৎসা নিয়েছে। ৪১ শিশুসহ ৮১জন রোগি ভর্তি রয়েছে। ভর্তি রোগি শয্যার অতিরিক্ত হওয়ায় ফ্লোরেও রাখা হয়েছে রোগিদের। আরো বেশ ক’জন রোগিকে ভর্তি করা প্রয়োজন হলেও হাসপাতালে ঠাই না থাকায় তাদের ভর্তি করা সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি দুরারোগ্য ব্যধিতে ভোগা দরিদ্র রোগিরা পড়ছে সমস্যায়। হাসপাতালে চাহিদা মতো ওষুধ বরাদ্দ না থাকায় তাদের চিকিৎসাপত্র অনুযায়ী ওষুধ দিচ্ছে পারছেননা।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা.মো.ছাবের বলেন, এই হাসপাতালে চিকিৎসকের ২২টি পদ থাকলেও পদায়নে রয়েছেন ১৫ চিকিৎসক। নার্সের ১৬ পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে ৩টি। ক্লিনার ৫জনের মধ্যে ৪জন থাকলেও এই হাসপাতালকে পরিচ্ছন্ন রাখতে ক্লিনারের পদ আরো বাড়াতে হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও প:প: কর্মকর্তা (টিএইচ) ডা.সুলতান আহমদ সিরাজী বলেন, হাসপাতালে শূন্য থাকা ৭জন চিকিৎসকের মধ্যে জরুরী প্রয়োজন মেডিসিন কন্সালটেন্ট, নাখ-কান-গলা, চক্ষু, দন্ত ও এনেসথেসিয়ার বিশেষজ্ঞ ডাক্তার। ইতিপূর্বে দাঁতের চিকিৎসার জন্য সরঞ্জাম আনা হলেও দন্ত চিকিৎসক বদলী হয়ে গেছেন। তাই গ্রামীণ এলাকার কমন রোগ চিকিৎসা করতে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের অভাব রয়েছে হাসপাতালে।

নবাগত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা.সিরাজী সোমবার স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে বলেন, শয্যা অনুপাতে ওষুধ চিকিৎসকসহ অন্যান্য সুবিধা বরাদ্দ না দিয়ে জনসংখ্যা অনুপাতে চিকিৎসক বৃদ্ধি ও ওষুধ বরাদ্দ দেয়া হলে এই হাসপতালে সমস্যা থাকবেনা। এই উপজেলার মানুষ অন্যতম মৌলিক অধিকার স্বাস্থ্য সেবা সুফল পাবে।

Share

Leave a Reply

x

Check Also

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত

—V প্রেস বিজ্ঞপ্তি :কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসের ...

Portrait of a professional, showcasing contact details and role information.