
ফাইল ফটো
গিয়াস উদ্দিন ভুলু; টেকনাফ :
কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ উপকূলে মালিক বিহীন ইয়াবা উদ্ধার ও পাচারকারীদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এদিকে সীমান্ত প্রহরী বিজিবি ও কোস্টগার্ড সদস্যরা ইয়াবা পাচার প্রতিরোধে পালন করছে অগ্রণী ভূমিকা। সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসাবে এই দুই বাহিনীর সদস্যরা প্রতিনিয়ত উদ্ধার করতে সক্ষম হচ্ছে ইয়াবা। কিন্তু ধরা পড়ছে না ইয়াবা পাচারের সাথে জড়িত অপরাধীরা। এতে দিনের পর দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ইয়াবা কারবারীদের সংখ্যা।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, টেকনাফ উপজেলায় এমন কিছু মুখোশধারী ব্যক্তি রয়েছে, তারা বৈধ ব্যাবসার আড়ালে কৌশলে ইয়াবা পাচারে লিপ্ত রয়েছে। দুই বছর আগে বেকার যুবক এখন কোটি কোটি টাকা ও বহু সম্পদের মালিক, অথচ ইয়াবার তালিকায় তাদের কোন নাম নেই, তারা মনের আনন্দে বৈধ ব্যাবসার সাইনবোর্ড ব্যাবহার করে কোন টেনশান ছাড়া রাতা রাতি হয়ে যাচ্ছে কোটিপতি।
অনুসন্ধানে আরো দেখা যায়, বর্তমানে টেকনাফ উপকূলীয় এলাকায় যে সমস্ত বড় বড় ইয়াবার চালান ধরা পড়ছে সেই সমস্ত ইয়াবাগুলোর সাথে জড়িত কাউকে আটক করতে পারছে না বিজিবি ও কোস্টগার্ড সদস্যরা। এতে অত্র এলাকার সচেতন মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে নানা রকম প্রশ্ন? কেউ বলছে ইয়াবা উদ্ধার করার পর পাচারের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দিচ্ছে। আবার অনেকেই বলছে প্রশাসনের এক শ্রেণীর অসাধু চক্র ইয়াবা কারবারীর সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে পাচার কাজ অব্যাহত রেখেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বস্তা বস্তা ইয়াবা পাচারের সাথে জড়িতদের আটক করলে, মিয়ানমার থেকে ইয়াবা আনবে কে। সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসাবে ইদানিং টেকনাফ উপকূলে মালিক বিহীন ইয়াবা উদ্ধারের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু ধরা পড়ছে না চিহ্নিত ইয়াবা পাচারকারীরা।
তথ্য সুত্রে দেখা যায়, বেশীর ভাগ উদ্ধারকৃত ইয়াবা গুলোর সাথে কোন মালিক আটক হয় না। তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে তাদের অপকর্ম অব্যাহত রেখেছে।
টেকনাফ ২ বিজিবি ও কোস্টগার্ড সূত্রে জানা যায়, তাদের সদস্যরা মাত্র ২৪ ঘন্টার ব্যাবধানে টেকনাফ সাগর ও উপকূলীয় এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফের ১৪ লক্ষ ৪০ হাজার পিচ মালিক বিহীন ইয়াবা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু এই অভিযানেও কোন পাচারকারী আটক হয়নি।
টেকনাফ ২ বিজিবি অধিনায়ক লে.কর্ণেল এস,এম আরিফুল ইসলাম ইয়াবা উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আমাদের সদস্যরা মাদক প্রতিরোধ করতে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। সেই প্রতিরোধের সফলতা হিসাবে আমরা উদ্ধার করতে সক্ষম হচ্ছি লক্ষ লক্ষ ইয়াবা। তিনি আরো বলেন কিছু কিছু অভিযানে বিজিবি উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারিরা কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তবে এই সমস্ত ইয়াবা পাচারের সাথে যারা জড়িত তাদেরকে আমরা চিহ্নত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। পাশাপাশি কঠোর অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে ইয়াবা পাচারে জড়িত অপরাধীদেরকে চিহ্নিত করে খুব শীঘ্রই আইনের আওয়াতায় নিয়ে আসা হবে।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.