
প্রতিপক্ষের দিকে নজর গেল না। থাকলো না হারের কোনো ভয়ও। এমন ম্যাচ বাংলাদেশের ক্রিকেটে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এসেছিলো। যে ম্যাচে নিজেদের অধিনায়ককে নিয়েই মেতে থাকলো বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। খেললেন শুধুই অধিনায়কের জন্য। হতাশ হতে হয়নি কাউকে। ঝলমলে এক জয়ে শেষ হলো মাশরাফির টি-টোয়েন্টি অধ্যায়।
কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৪৫ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। অধিনায়ককে হারানোর বিদায়ের সুর পুরো ম্যাচেই বেজেছে। কিন্তু সেটাকে শক্তিতে রুপান্তর করেছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং- বাংলাদেশের তিন বিভাগেই তার স্পষ্ট ছাপ থাকলো।
টি-টোয়েন্টির শেষ ম্যাচ খেলে ফেললেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের মহানায়ক। এই ম্যাচের আগে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা বলেছিলেন, মাশরাফির জন্যই খেলতে নামবেন তারা। কথা রেখেছেন অনুজরা। সেটা বোঝা গেল ব্যাটিংয়ে। কোনো কিছু না ভেবেই ব্যাট চালিয়েছেন সৌম্য-ইমরুল-সাকিব-মোসাদ্দেকরা। তাতে মেলে ১৭৬ রানের বড় সংগ্রহ। পরে বল হাতে, ফিল্ডিংয়েও উড়ন্ত বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার ইনিংস শেষ ১৩১ রানেই।
স্বাগতিকদের ১৭৭ রানের লক্ষ্য দিয়ে বল হাতে জ্বলে উঠলেন বাংলাদেশের বোলাররা। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। শ্রীলঙ্কার দলীয় চার রানের মাথায় সাকিব উপড়ে নেন কুশল পেরেরার স্টাম্প। লঙ্কানদের প্রথম উইকেট নিয়ে থামলেন না ম্যাচসেরা সাকিব। দ্বিতীয় ওভার করতে এসে তুলে নেন আরেক ওপেনার দিলশান মুনাবিরাকেও।
শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করলো স্বাগতিকরা। কিন্তু মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ সেটা হতে দিলেন না। ৪০ রানের মাথায় উপুল থারাঙ্গাকে সাজঘর দেখিয়ে দেন অভিজ্ঞ এই বাংলাদেশ অলরাউন্ডার। এরপর মুস্তাফিজুর রহমানের জাদু। আসেলা গুনারত্নে ও মিলিন্দা সিরিবর্ধনেকে পরপর দুই বলে ফিরিয়ে দেন কাটার মাস্টার।
তখনই জয়ের সুবাস পাচ্ছিলো বাংলাদেশ। মাঝে প্রতিরোধ গড়লেন চামারা কাপুগেদারা ও থিসারা পেরেরা। ৫৮ রানের জুটি গড়ে তোলেন এই দুই ব্যাটসম্যান। এ জুটিতেও আঘাত হানলেন ব্যাটে-বলে আলো ছড়ানো সাকিব। ২৭ রান করা পেরেরাকে নিজের তৃতীয় শিকারে পরিণত করেন সাকিব।
কিছক্ষণ পর অধিনায়ক মাশরাফি ফিরিয়ে দেন সেকুগে প্রসন্নকে। শ্রীলঙ্কার বাকি ব্যাটসম্যানদের ফিরিয়ে দেয়ার বাকি কাজটুকু করেছেন চার উইকেট নেয়া মুস্তাফিজ ও আগের ম্যাচেই অভিষেক হওয়া সাইফুদ্দিন। কাপুগেদারা ৫০ রান করলেও ১৩১ রানে থামে শ্রীলঙ্কা। মুস্তাফিজ চারটি, সাকিব তিনটি এবং মাশরাফি, মাহমুদউল্লাহ ও সাইফুদ্দিন একটি করে উইকেট নেন।
এরআগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের দুই ওপেনার ইমরুল কায়েস ও সৌম্য সরকার শুরু থেকেই লঙ্কান বোলারদের ওপর টর্নেডো বইয়ে দিতে থাকেন। লঙ্কান বোলারদের বল একের পর এক বাউন্ডারিতে পরিণত করতে থাকেন তারা। পাওয়ার প্লের ছয় ওভারেই ৬৮ রান তোলেন ইমরুল-সৌম্য।
বাংলাদেশের চোখ যখন রান পাহাড়ে, এমন সময় ছন্দপতন। দলীয় ৭১ রানের মাথায় আসেলা গুনারত্নের একটি ডেলিভারি বুঝে উঠতে না পেরে সহজ ক্যাচ তুলে দেন সৌম্য। সহজ ক্যাচটি লুফে নিতে দেরি করেননি বোলার গুনারত্নে। ফেরার আগে মাত্র ১৭ বলে চার চার ও দুই ছয়ে ৩৪ রান করেন সৌম্য।
সঙ্গীকে হারিয়ে ইমরুলও দিক হারান। রান আউট হয়ে বিদায় নিতে হয় তাকে। এরআগে ইমরুল করেন ৩৬ রান। দুই ওপেনারকে হারানোর ব্যথা অবশ্য বাংলাদেশকে বুঝতে দেননি সাব্বির রহমান ও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।
সৌম্য-ইমরুলের মতো করেই ব্যাট চালাতে থাকেন এই দুই ব্যাটসম্যান। সাব্বির-সাকিবের ব্যাটে চড়েই ১০০ ছাড়িয়ে যায় বাংলাদেশ। কিন্তু দলীয় ১২৪ রানের মাথায় গিয়ে থামতে হয় বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট সাব্বির রহমানকে। ১৯ রান করে ভিকুম সঞ্জয়ার বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি।
নতুন ব্যাটসম্যান মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে নিয়ে লড়াই চালাতে থাকেন সাকিব। তবে এই জুটি দীর্ঘ হয়নি। দারুণ ব্যাটিং করে ৩৮ রান তোলা সাকিব স্কুপ শট খেলতে গিয়েছিলেন। কিন্তু ব্যাটে-বলে না হওয়ায় ভেঙে যায় তার স্টাম্প। তখনো ভাবতে হয়নি বাংলাদেশকে। কারণ মোসাদ্দেক নতুন করে ঝড় তোলেন।
যদিও আর সবার মতো মোসাদ্দেকও নিজের ইনিংস বড় করতে পারেননি। ১১ বলে এক চার ও এক ছয়ে ১৭ রান করে আউট হন এই তরুণ ব্যাটসম্যান। এর পরের সময়টা চরম হতাশার। ১৯০ পেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও লাসিথ মালিঙ্গা বাধায় সেটা হলো না।
মোসাদ্দেক, মুশফিক, ও মাশরাফিকে আউট করে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের পঞ্চম বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিক করে বসেন ডানহাতি এই লঙ্কান পেসার। শেষপর্যন্ত ১৭৬ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস। শ্রীলঙ্কার মধ্যে মালিঙ্গা সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন।
সূত্র:priyo.com,ডেস্ক।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.