
গিয়াস উদ্দিন ভুলু; টেকনাফ :
উখিয়া-টেকনাফ উপজেলার নব-নির্মিত রোহিঙ্গা বস্তিগুলো নানা সমস্যায় জর্জরিত।
নতুন ভাবে তৈরী হওয়া রোহিঙ্গা বস্তিগুলো ঘুরে দেখা যায়, বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট, নির্ধারিত কোন স্যানিটেশনের ব্যবস্থা নেই, গাদাগাদী করে ববসবাস, পলিথিন দিয়ে পেঁছানো একটি ছোট কামরায় ১০/১৫ জনের পরিবার নিয়ে তাদের বসবাস।
যত বড় ফ্যামেলী, তত বেশী কষ্ট। চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ছে পস্রাব পায়খানার দুর্গন্ধ। ব্যবহারের পানিও যে পরিমাণ পাওয়া যাচ্ছে, তা খুবেই নগন্য। বিশুদ্ধ পানির অভাবে দেখা দিয়েছে নানা প্রকার রোগ বালাই, শিশুদের অবস্থা খুবেই খারাপ।
২৩ সেপ্টেম্বর হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা, নোয়াপাড়া, হোয়াইক্যং রইক্ষ্যং পাহাড় ও রাস্তার দুই পাশে নতুন ভাবে গড়ে উঠা রোহিঙ্গা বস্তিগুলো ঘুরে রোহিঙ্গাদের এই দুর্ভোগের চিত্রগুলো নজরে পড়ে। বিশুদ্ধ পানির অভাবে বাড়ছে বিভিন্ন প্রকার বাহিত রোগ ব্যাধী।
এদিকে রাখাইন রাজ্য থেকে মৃত্যুর ভয়ে পালিয়ে আসা লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গাদের মাঝে কোটি কোটি টাকার ত্রাণ বিতরণ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগীতায় বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ গুলো। তার পাশাপাশি লক্ষ লক্ষ টাকার ত্রাণ বিতরণ করে যাচ্ছে এই স্বাধীন দেশের রাজনৈতিক দল গুলো। অসহায় মানুষের জন্য এই ধরনে মহা মানবিকতা দুর্লভ চিত্র আর কোন দেশের মানুষের মাঝে দেখা যায়নি।
অপরদিকে অসহায় রোহিঙ্গাদের উপর রাখাইন রাজ্যের ধারাবাহিক বর্বরতা, জুলুম, অত্যাচারের কাহিনী ও সঠিক চিত্রগুলো সারা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরার জন্য দিনরাত নিরলস ভাবে দায়িত্ব পালন করে ভূমিকা রেখে যাচ্ছে এ দেশের গণমাধ্যম কর্মীরা।
টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যংয়ের রইক্ষং পাহাড়ে ৭০ হাজারের বেশী রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। প্রচুর পরিমাণ ত্রাণ পাওয়া গেলেও প্রচন্ড গরম এবং বৃষ্টিতে কষ্ট পাচ্ছে তারা, কারন ছোট ছোট এই ঝুঁপড়ী ঘর গুলোতে থাকতে হচ্ছে গাদাগাদী করে। পস্রাব,পায়খানা করার জন্য নির্দিষ্ট কোন স্থান নেই।
এদিকে দিন যত যাচ্ছে নতুন নতুন রোহিঙ্গাদের আগমন বেড়েই চলছে, যে যার ইচ্ছামত পলিথিনের ছাউনি ও ঘেরা দিয়ে বসবাসের জন্য ঝুঁপড়ী ঘর তৈরী করে যাচ্ছে। একটি ঝুপড়ি ঘরে তিন চারটি পরিবারের সদস্যরা এক সাথে বসবাস করছে এই রকম দৃশ্যগুলো আমাদের চোঁখে পড়ে।
মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে বেশীর ভাগ হচ্ছে শিশু। নতুন রোহিঙ্গা বস্তিগুলো ঘুরে আরো দেখা যায়, নারী শিশুরা মিলে স্থানীয়দের ফসলী জমিতে, পাহাড়ের ঢালুতে কুয়া, গর্ত করে খাবার ও ব্যবহারের পানি সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মিয়ানমার মংডু বাঘঘোনা এলাকার করিম উল্লাহ স্ত্রী মরিয়ম খাতুন বলেন, অনেক কষ্ট করে আমরা কয়েকজন মিলে গর্ত করে পানি সংগ্রহের ব্যবস্থা করেছি, কিন্তু দিনে এক দুই কলসীর বেশী পানি পাওয়া যায় না। ফলে খাবার ও ব্যবহারের পানির সংকট চরম আকার ধারন করেছে।
রাশিদং এলাকার বাসিন্দা শুক্কুর আলী বলেন, বাংলাদেশের একটি সংস্থা বিশুদ্ধ খাবার পানির জন্য একটি ট্যাংক বসিয়ে দিয়েছে, কিন্তু সেই পানি সংগ্রহ করতে অনেক কষ্ট হয়, দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে অনেক ধাক্কা ধাক্কি করে দুই/এক বোতল নিতে পারলেও তাতে পরিবারের সবার তৃঞ্চা মিঠছেনা। আবার এই পানির সাপ্লাই অল্প সময়ের মধ্যে শেষ হয়ে যায়।
তার পাশাপাশি পস্রাব পায়খানা করার জন্য নির্ধারিত কোন স্যানিটেশনের ব্যবস্থা নেই, যে যেদিকে পারছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সেরে নিচ্ছে।
এতে দুর্গন্ধে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে পরিবেশ এবং প্রাকৃতিক দৃশ্যগুলো। অনেক রোহিঙ্গা রাতের আঁধারে মলমূত্র ত্যাগ করে পলিথিন পেঁছিয়ে পেলে রেখেছে যত্রতত্র ভাবে।
দিন যতই যাচ্ছে স্থানীয় পরিবেশ বিষাক্ত হয়ে উঠছে।
এ ব্যাপারে স্থানীয়রা অভিমত প্রকাশ করে বলেন তাদের মাঝে যে ভাবে ত্রাণ বিতরণ করে যাচ্ছে বাংলাদেশের মানুষ ঠিক সেই ভাবে যদি স্যানিটেশন ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, করে দিলে তাদের দুর্ভোগটা আরো কমে আসবে। তার পাশিপাশি যত তাড়াতাড়ী সম্ভব এই রোহিঙ্গাদেরকে তাদের নিজ দেশে পাঠানোর জন্য দলবত নির্বিশেষে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।
এদিকে উখিয়া-টেকনাফ উপজেলায় মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে সুশৃংখলতার মধ্য দিয়ে পুর্নবাসন এবং সঠিক ভাবে ত্রাণ বিতরণ করার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদেরকে দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। সেই সূত্র ধরে ২৩ সেপ্টেম্বর গভীর রাত থেকে বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর অভিজ্ঞ সদস্যরা কাজ শুরু করে দিয়েছে।
সেনাবাহিনীকে এই কঠিন দায়িত্ব অর্পন করার জন্য সরকারের প্রতি সাধুবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন স্থানীয়-জনতা, কারন সেনা বাহিনী মাঠে থাকলে রোহিঙ্গারা কোন অপরাধ সংঘটিত করতে পারবে না।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.