বহু প্রতীক্ষায় পাওয়া গণতন্ত্র। ২৫ বছর পর মিয়ানমারে অনুষ্টিত হল সাধারণ নির্বাচন। এ নির্বাচনে দেশটির গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সুচির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) জয় লাভ করে। এ জয়ের ফলে বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের মাঝে দেখা গেছে খুশির ঝিলিক। যদিও ভোট দিতে পারেনি রোহিঙ্গা মুসলমানেরা। তবুও এদের চোখে মুখে যেন একটি তৃপ্তির হাসি। প্রচন্ড ভালবাসা ও আবেক রয়েছে নেত্রী সুচির প্রতি।
কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী নুরুল হক মাঝির নিকট সুচির বিজয়ে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ভাগ্যেও পরিবর্তন ঘটবে কিনা জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে তিনি রোহিঙ্গাদের প্রতি আন্তরিক।এ ব্যাপারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচীব সাংবাদিক নুর মুহাম্মদ সিকদার জানান, বিশ্বের অন্যতম নির্যাতিত জাতি হচ্ছে মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গারা। ২০১২ সাল থেকে রোহিঙ্গা মুসলমানদের অবস্থার নাটকীয় অবনতি হতে শুরু করে। উগ্র বৌদ্ধদের হামলার কারণে এ পর্যন্ত লাখ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। অনেকেই শরণার্থী শিবিরে মানবেতর জীবনযাপন করছে। সুচির জয়ে রোহিঙ্গা মুসলিম ইস্যুটি সমাধানের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে উখিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কমিটির আহবায়ক অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, রাতারাতি রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ইস্যু। এরপরও গণতন্ত্রের মানসকন্যা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সুচির আন্তরিকতা এবং আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপে এ রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান অসম্ভব কিছু নয়। সময় তা বলে দেবে।
এদিকে সুচির দল বিজয়ের খবরে নতুন কওে আশার বুক বেধেঁছে উখিয়া-টেকনাফ শরণার্থী শিবিরে অবস্থানরত বৈধ অবৈধ দুই লক্ষাধিকসহ ছড়িয়ে ছিড়িয়ে অবস্থানরত আরো দেড় লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থী। এছাড়াও মিয়ামারের ভোটার থেকে বাদপড়া ৭ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা মুসলিমের দৃষ্টি এখন সুচির দিকে। তারাও সুচির বিজয়ে আনন্দিত বলে খবর পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, গত আশির দশকে প্রথম দফায় এদেশে রোহিঙ্গাদেও আগমন ঘটে। নাইক্ষ্যংছড়ি, রামু, ও উখিয়া-টেকনাফ সীমান্ত অতিক্রম করে এসময় প্রায় ২ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করে সরকারের প্রতিষ্টিত বিভিন্ন শরনার্থী শিবিরে তারা আশ্রয় গ্রহণ করে। পরবর্তীতে দুই দেশের সফল কুটনীতিক তৎপরতায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হয়। অতি অল্প সময়ে প্রায় লক্ষাধিক রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফেরত যেতে সক্ষম হলেও বাকি রোহিঙ্গারা কক্সবাজারের বিভিন্ন সরকারি বনভুমি দখল কওে অবস্থান করছে। দ্বিতীয় দফায় ১৯৯১ সালে সীমান্তের নাফ নদী অতিক্রম করে ২ লক্ষ ৫০ হাজার ৮৭৭ জন রোহিঙ্গা নাইক্ষংছড়ি, রামু ও উখিয়া- টেকনাফের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিওে আশ্রয় গ্রহণ করে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ সরকার মিয়ানমার সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যায়ে বৈঠক করে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া চুড়ান্ত করে।
১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ১ লক্ষ ৩৬ হাজার ৫৯৯ জন রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানো হলেও টেকনাফের নয়া পাড়া শরণার্থী শিবিরে ১ হাজার ৭৭৫ পরিবারের ১৪ হাজার ৪৩১ জন রোহিঙ্গা এবং উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের ১ হাজার ১৯৪ পরিবারের ৯৮৫০ জন সহ প্রায় ২৮ হাজার রোহিঙ্গা দুই ক্যাম্পে অবস্থান করে রেজিষ্ট্রাটভুক্ত হয়। বাকী গুলো বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে।
২০০৪ সালে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়। যা এখনো পর্যন্ত বিদ্যমান রয়েছে। এতে বিভিন্ন এনজিও সংস্থার জরিপ মতে, উখিয়া-টেকনাফ রোহিঙ্গা শিবিরে ২ লক্ষাধিক বৈধ অবৈধ ও কক্সবাজারর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এবং বান্দরবান জেলায় আরো দেড় লক্ষাধিক মিলে প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা রয়েছে। যার অনুপ্রবেশ অদ্যবধি চলমান রয়েছে। তাই রোহিঙ্গাসহ এখানকার সচেতন মহল এর সুষ্ঠু সমাধান প্রত্যাশা করছেন।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"



You must be logged in to post a comment.